পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

ফাইনালের নায়ক মিচেল মার্শ

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-11-15 01:51:50 BdST

bdnews24

মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই ছক্কা, পরের দুটিতে চার। এরপর আর মিচেল মার্শকে থামায় কে! দুর্বার গতিতে ছুটলেন তিনি। গুঁড়িয়ে দিলেন নিউ জিল্যান্ডের বোলিং লাইন আপ। অপরাজিত ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে এনে দিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম শিরোপা।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রোববার নিউ জিল্যান্ডের ১৭২ রান তাড়া করে ৮ উইকেটে জেতে অস্ট্রেলিয়া। ফাইনালের রেকর্ড রান তাড়ায় মার্শের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে বেশ সহজেই জিতে যায় তারা।

তিনে নেমে ৭৭ রান করে জয় সঙ্গে নিয়ে মাঠ ছাড়েন মার্শ। তার ৫০ বলের ইনিংসটি সাজানো ৪ ছক্কা ও ৬ চারে।

ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয়বারের মতো ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতলেন মার্শ। এই সংস্করণে বিশ্বকাপে এটিই প্রথম। আর সেটা ফাইনালের মঞ্চে।

ট্রেন্ট বোল্টের করা দ্বিতীয় ওভারে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে অ্যারন ফিঞ্চ ফিরলে ক্রিজে যান মার্শ। পরের ওভারে মুখোমুখি হন প্রথম বলের। পায়ের ওপর করা অ্যাডাম মিল্নের বলটি স্কয়ার লেগ দিয়ে গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন তিনি। পরের দুই বলেও মারেন দুটি বাউন্ডারি।

মিচেল স্যান্টনারের পর জিমি নিশামকে ছক্কায় ওড়ান মার্শ। ইশ সোধিকে লং-অন দিয়ে সীমানা ছাড়া করে ৩১ বলে তুলে নেন তিনি ফিফটি। গড়েন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড। ভেঙে দেন প্রথম ইনিংসেই কেন উইলিয়ামসনের ৩২ বলে করা দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড।

দ্বিতীয় উইকেটে ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে তার ৯২ রানের জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ভিত গড়া হয়ে যায়। ফিফটি করে ওয়ার্নার আউট হলেও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে কাজ শেষ করেই ফেরেন মার্শ।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ৩০ বছর বয়সী মার্শ যেন খুঁজেই পাচ্ছিলেন না ভাষা। পরে নিজেই বললেন, অনুভূতি প্রকাশের শব্দ তার অজানা।

“সত্যিই শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না, দলের সঙ্গে কী অসাধারণ ছয়টি সপ্তাহ কাটল। মৃত্যু পর্যন্ত তাদের ভালোবাসব। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।”

এ বছরের আগেও মার্শের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার এখনকার মতো উজ্জ্বল ছিল না। ২০২১ সালের আগ পর্যন্ত খেলা ১৫ ম্যাচে তার ব্যাটিং গড় ২৩.৪৫, রান ২৫৮। ফিফটি ছিল না একটিও। বল হাতে উইকেট ছিল সাতটি।

চলতি বছর দুর্দান্তভাবে নিজেকে মেলে ধরেছেন মার্শ। এ বছরই এখন পর্যন্ত খেলে ফেলেছেন ২১টি ম্যাচ, ৩৬.৮৮ গড়ে রান করেছেন ৬২৭, যেখানে ফিফটি ছয়টি। পাশাপাশি বল হাতে উইকেট ৮টি।

মার্শের দারুণ এই পথচলা শুরু গত জুলাইয়ের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ওই সিরিজে তাকে প্রথমবার পাঠানো হয় তিন নম্বরে ব্যাটিং করতে। দেখা মেলে টি-টোয়েন্টির অন্য এক মার্শকে। সেই থেকে এই পজিশনে ১৪ ম্যাচে ৪৫.৭৪ গড়ে তার রান ৫৪৯।

টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ছয় ফিফটিই ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান করেছেন তিনে নেমে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে তিনটি। বাংলাদেশ সফরে একবার।

বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভের ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে পান ফিফটির স্বাদ। এবার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এলো ম্যাচজয়ী পঞ্চাশ ছাড়ানো ইনিংস। তিন নম্বরে সুযোগ দেওয়ার জন্য তাই দলের কোচিং স্টাফদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মার্শ।

“ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সময় কোচিং স্টাফ আমার কাছে এসে জানায়, এই টুর্নামেন্ট (সিরিজে) তুমি তিনে ব্যাট করবে। আমি সেটা লুফে নিলাম। আমার ওপর বিশ্বাস রাখা ও উপরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ দেওয়ার জন্য স্টাফদের ধন্যবাদ।”

২০ ওভারের বৈশ্বিক আসরে প্রথমবার ফাইনালে উঠে উইলিয়ামসনের ৪৮ বলে ৮৫ রানের ইনিংসে বড় সংগ্রহই গড়েছিল নিউ জিল্যান্ড। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ানদের দাপটে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ শিরোপা অধরাই থেকে গেল কিউইদের।