পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

রোহিঙ্গা: ঋণ দেবে বিশ্ব ব্যাংক, বাংলাদেশ চায় অনুদান

  • আবদুর রহিম হারমাছি, প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2017-10-08 22:24:41 BdST

bdnews24

মিয়ানমারে তাড়া থেকে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গার প্রয়োজন মেটাতে বাংলাদেশকে ঋণ দিতে চায় বিশ্ব ব্যাংক। তবে এজন্য ঋণ নয়, সংস্থাটির কাছে অনুদান চাইবে বাংলাদেশ।

আগামী ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই অনুদান চাওয়া হবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন।

ওই সম্মেলনে যোগ দিতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার তারা যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে মাসখানেকের মধ্যে সোয়া পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে প্রবেশে তাদের সহায়তায় জোর তৎপরতা চালাচ্ছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দাতা ও উন্নয়ন সংস্থা।

এই প্রেক্ষাপটে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান চিমিয়াও ফান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বিশ্ব ব্যাংক প্রস্তুত আছে। অন্যান্য দাতা সংস্থার মতো বিশ্ব ব্যাংকও পরিস্থিতি ‘গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ’ করছে।

বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি -আইডিএ ‘রিফিউজি ফান্ড’ নামে নতুন একটি তহবিল গঠন করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শরণার্থীদের সহায়তা দিতেই এ তহবিল।

চিমিয়াও ফান বলেন, এই তহবিলের আকার ২০০ কোটি ডলার। যে কোনো দেশ প্রয়োজনে সেখান থেকে তিন বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি ডলার ঋণ নিতে পারে।

“বাংলাদেশও এই তহবিল পাওয়ার যোগ্য এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় একসঙ্গে ৪০ কোটি ডলার পেতে পারে।”

বাংলাদেশ এই ঋণ নেবে কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী মুহিত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থা সহায়তা করছে। আমরা চাই- ঋণ নয়, বিশ্ব ব্যাংকও তেমন সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে।”

ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের সম্মেলনে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে  যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার আগে জানান তিনি।

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সহায়তা করবে কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, “শরণার্থীদের সহায়তার জন্য আইডিএ থেকে নেওয়া ফরেন এইডের ক্ষেত্রে কিছু গ্র্যান্টও (অনুদান) আছে। কী ধরনের প্রকল্পে অর্থ ব্যয় হচ্ছে তার উপর সেটি নির্ভর করে।”

রোহিঙ্গাদের সহায়তা দিতে গিয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন কি না জানতে চাইলে জাহিদ হোসেন বলেন, “অপ্রত্যাশিত একটা চাপ তো পড়বেই। খরচের উপর চাপ তো আছেই। সেই চাপ ছোট না বড়- সেটা নির্ভর করবে কত দিন বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা দিয়ে যেতে হবে তার ওপর।”

বিপুল সংখ্যক এই শরণার্থীর জন্য খাবার ও অন্যান্য খরচ যোগাতে গিয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়বে বলে মনে করেন বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ।

“স্থানীয় পর্যায়ে (যে এলাকায় শরণার্থীরা অবস্থান নিয়েছে) মূল্যস্ফীতির চাপ অবশ্যই আসবে,” বলেন তিনি।

বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের সম্মেলন

প্রতি বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পর পর দুই বছর ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফ সদর দপ্তরে এই সম্মেলন হয়। তৃতীয় সম্মেলনটি হয় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এই দুই সংস্থার সদস্যভূক্ত অন্য কোন দেশে। ২০১৫ সালে পেরুর লিমায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এই ধারাবাহিকতায় এবার ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর ওয়াশিংটনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী সম্মেলন হবে ২০১৮ সালে, ইন্দোনেশিয়ার বালিতে।

সম্মেলন চলাকালে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ, এআইআইবি, আইডিবিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলিসহ অন্যান্য দেশের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। কমনওয়েলথ অর্থমন্ত্রীদের সভায়ও অংশ নেবেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী।

বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের সভার ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন মুহিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিকুল আযম প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অংশ নেবেন।

ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূঁইঞা বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের সভার প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত হবেন।