নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 2018-01-31 19:20:53 BdST
বুধবার দুপুরের এই সংঘর্ষের জন্য শ্রমিক নেতারা বিজিএমইএ ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়ী করেছেন। অন্যদিকে শ্রমিকদের দায়ী করে পুলিশে অভিযোগ করেছেন বিজিএমইএ কর্মকর্তারা।
সংঘর্ষের পর ওই বৈঠক ভেস্তে যায় বলে জানিয়েছেন কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) সাঈদ আলম, যিনি নিজে ওই বৈঠকে অংশ নিতে গিয়েছিলেন।
ঢাকার রামপুরায় আশিয়ানা নামের তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সালিশ বৈঠকে অংশ নিতে বিজিএমইএ ভবনে গিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতারাও ছিলেন।
এই নিয়ে দ্বন্দ্ব নিরসনে কল-কারখানা অধিদপ্তর, পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষ বুধবার আলোচনার তারিখ ঠিক করেন বলে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের রামপুরা অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মঈন জানান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকালে শ্রমিকরা সেখানে গেলে বিজিএমইএ কর্মকর্তা মনসুর খালেদ শ্রমিকদের দিকে তেড়ে আসেন। এই সময় বিজিএমইএর ২৫/৩০ জন কর্মী লাঠি, রড দিয়ে শ্রমিকদের মারধর শুরু করেন।”
শ্রম পরিদর্শক সাঈদ আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে আশিয়ানায় দ্বন্দ্ব চলছিল। মঙ্গলবার তিনিসহ শ্রম পরিদর্শক তানিয়া আলম, নুরুল আমিন, রামপুরা থানা পুলিশ ও শ্রমিক নেতারা মিলে কারখানা মালিকের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ওই বৈঠকেই তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএতে শ্রমিক প্রতিনিধি ও মালিকদের নিয়ে বুধবার আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত হয় বলে তিনি জানান।
আক্রান্ত হয়েই শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়েছিলেন বলে দাবি করেন শ্রমিক নেতা মঞ্জুর মঈন।
তিনি বলেন, “মনসুর সাহেব শ্রমিকদের কাছে এসে বলেন, ‘এখানে কোনো মিটিং হবে না, কীসের মিটিং, কে দিয়েছে মিটিংয়ের সময়?’
“শ্রমিকরা স্বাভাবিক কারণেই উত্তপ্ত হয়ে পড়েছিল। আলোচনার কথা বলে তাদের এনে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া কী ধরনের আচরণ? কিছু শ্রমিক বিজিএমইএ ভবনের দিকে ঢিল ছুড়ে থাকতে পারে।”
এবিষয়ে কথা বলতে বিজিএমইএ কর্মকর্তা মনসুরকে দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
ফোন করে সাড়া পাওয়া যায়নি আশিয়ানা গার্মেন্টেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহীনেরও।
তবে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানান ওসি।
মঞ্জুর মঈন দাবি করেন, বিজিএমইএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হামলায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে সেখানকার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিজিএমইএ ভবনে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ২৫ জন শ্রমিক চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আশিয়ানা গার্মেন্টে প্রায় ৮০০ শ্রমিক কাজ করেন। সেখানে ট্রেড ইউনিয়ন চালু করতে শ্রমিকরা নিবন্ধকের বরাবর আবেদন করলেও মালিকের আপত্তিতে তা আটকে ছিল।
“পরে কর্মকর্তা লেভেলের লোকজনকে দিয়ে মালিক পক্ষের আজ্ঞাবহ একটি কমিটিকে নিবন্ধন দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকে ট্রেড ইউনিয়ন চালুর সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের একে একে ছাঁটাই করছিল মালিকরা।”
সর্বশেষ গত ২৮ জানুয়ারি মামুন নামের এক শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিলে অন্য শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়লে মালিক পক্ষ কারখানা বন্ধ করে দেয় বলে জানান জলি।