২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৫

পুনঃভোটে সারা হল আরিফুলের জয়ের আনুষ্ঠানিকতা

  • সিলেট প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2018-08-11 19:18:33 BdST

bdnews24

ফলাফল অনেকটা নিশ্চিত হয়েই ছিল, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থগিত দুই কেন্দ্রে নিয়ম রক্ষার পুনঃভোটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র পদে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারলেন বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী।

এ নির্বাচনের ১৩৪ কেন্দ্রের মধ্যে সবগুলোর ফল হাতে আসার পর দেখা যাচ্ছে ধানের শীষ প্রতীকে আরিফুল পেয়েছেন মোট ৯২ হাজার ৫৮৮ ভোট। আর তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দীন আহমদ কামরান পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৩৯২ ভোট।

অনিয়ম ও গোলযোগের কারণে স্থগিত থাকা দুটি কেন্দ্রে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের পর সন্ধ্যায় রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান এই ফল ঘোষণা করেন। 

এর মধ্যে দিয়ে দেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তের এই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আরও পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী।

আর খুলনা, গাজীপুর, রাজশাহী ও বরিশালের নির্বাচনে হারের পর সিলেটে এসে নগর ভবনের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে সক্ষম হল আরিফুলের দল বিএনপি।

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি আরিফুলের জন্য গত মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব পালনের পথটি মসৃণ ছিল না। মামলার কারণে কয়েক দফা তাকে বরখাস্ত হতে হয়েছে, আদালতের আদেশ নিয়ে আবার তিনি পদে ফিরেছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে এবারের ভোটের ফল ঘোষণা করে আরিফুলকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গত মেয়াদের প্রসঙ্গ টানেন পুনর্নির্বাচিত এই বিএনপি নেতা।

তিনি বলেন, “গত মেয়াদে তিন বছর জেলে থাকায় নগরবাসীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে পারিনি। দুই বছরে চেষ্টা করেছি নগরের প্রধান সমস্যাগুলো সমাধান করতে।”

সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে ৫৯ বয়সী এই রাজনীতিবিদ বলেন, “এ বিজয় আমার নয়, এটি সিলেটের জনগণের জয়। তাদের দেওয়া রায়ের প্রতিফলনই আজকের এ বিজয়। সিলেটের মানুষ আবার আমার ওপর আস্থা রাখায় আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। সিলেট নগরের অসমাপ্ত কাজ শেষ করে মানুষের আস্থার প্রতিদান দেব।”

পুনঃভোট

গত ৩০ জুলাই রাজশাহী ও বরিশালের সঙ্গেই সিলেট সিটি করপোরেশনের ভোট হয়। কেন্দ্র দখল ও ব্যালটবাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনায় এ সিটির দুই কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

১৩৪ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২ কেন্দ্রের ফলাফল হাতে পাওয়ার পর দেখা যায়, আরিফুল পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট। আর কামরানের প্রাপ্ত ভোট ৮৫ হাজার ৮৭০। দুজনের ভোটের ব্যবধান ৪ হাজার ৬২৬।

অন্যদিকে স্থগিত হওয়া বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা মোট চার হাজার ৭৮৭ জন।

ব্যবধানের বিবেচনায় গত মেয়াদের মেয়র আরিফুলের ফের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি তখনই প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান স্থগিত কেন্দ্রের ভোটের চেয়ে কম হওয়ায় সেদিন চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না করে নিয়ম অনুযায়ী দুই কেন্দ্রে পুনঃভোটের ঘোষণা দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

শনিবার ওই দুই কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যার আগে আগে ফলাফল প্রকাশ করেন নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান।

তাতে দেখা যায় ১৩৪ কেন্দ্রের মধ্যে সবকটির ফলাফলে কামরানের চেয়ে ৬ হাজার ১৯৬ ভোট বেশি পেয়ে সিলেটের মেয়র হচ্ছেন আরিফুল হক চৌধুরী।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, শনিবার পুনঃভোটের দুই কেন্দ্রের মধ্যে হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আরিফুলের ধানের শীষ ১০৫৩ ভোট এবং কামরানের নৌকা ৩৫৪ ভোট পেয়েছে।

আর গাজী বোরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আরিফুলের ১০৪৪ ভোটের বিপরীতে কামরান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট।

২৭টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং নয়টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের যাত্রা শুরু হয় ২০০২ সালে। এবার এ সিটিতে ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি কামরানের সঙ্গে এটি ছিল আরিফুলের দ্বিতীয় ভোটযুদ্ধ। ২০১৩ সালে প্রথম লড়াইয়ে কামরানকে ৩৫ হাজার ভোটে হারিয়েছিলেন আরিফুল।

তার আগে দুই মেয়াদে কামরান ছিলেন সিলেটের মেয়রের চেয়ারে। তারও আগে সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।