১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ৫ পৌষ ১৪২৫

দেশ পরিচালনা নিয়ে তরুণদের ভাবনা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী

  • রিয়াজুল বাশার, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2018-11-23 22:12:49 BdST

bdnews24
সেন্টার ফর রিসার্স অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত ‘লেটস টক’- এ শুক্রবার তরুণদের মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সিআরআই

তরুণদের মুখোমুখি হয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে তাদের স্বপ্ন ও আশার কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় তরুণরা দুর্নীতিমুক্ত, লিঙ্গ বৈষম্যহীন এক উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীকে।

শুক্রবার রাজধানীতে বিভিন্ন পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীসহ দেড়শ তরুণ-তরুণীর মুখোমুখি হন শেখ হাসিনা।

সেন্টার ফর রিসার্স অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত ‘লেটস টক’ শিরোনামে এই অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো তরুণদের মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে বেশ কয়েকবার প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং কয়েকজন মন্ত্রী ও সাংসদরা এ অনুষ্ঠানে এসেছেন।

তরুণদের সঙ্গে আলাপে শেখ হাসিনার বেড়ে ওঠা, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা, দলের নেতৃত্ব গ্রহণ, দেশের উন্নয়নে কাজ করাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ডা. নুজহাত চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, “আপা, আমরা এখন আপনার কাছে শুনতে চাই দেশের ও দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার পরিকল্পনার কথা।”

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার প্রশ্ন তরুণ সমাজের কাছে, তারা দেশের কী চায়?”

এ সময় বিভিন্ন ধরনের মতামত ও প্রশ্ন আসতে থাকে। একজন জানতে চান, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য পোশাক শিল্পের সম্প্রসারণ করা যায় কি না?

এই প্রথম তরুণদের মুখোমুখি হলেন শেখ হাসিনা

এই প্রথম তরুণদের মুখোমুখি হলেন শেখ হাসিনা

আরেকজন প্রশ্ন করেন, মামলা জট সারাতে নতুন বিচারক নিয়োগ দেওয়া যায় কি না?

একজন মত দেন, দেশের উদ্যোক্তা বাড়াতে ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা’ নামে নতুন একটি মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করা যেতে পারে। এছাড়া উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।

আরেকজনের প্রশ্ন- বর্তমানে দেশের যুবকদের সংখ্যার বিচারে সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব দেখা যায় না। এটা বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে কি না?

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা হবে কি না, সে প্রশ্নও করেন একজন।

তরুণদের নানা পরামর্শও শোনেন শেখ হাসিনা।

একজন নারী প্রশ্ন করেন, নারী হিসেবে কীভাবে আত্মরক্ষা করতে হয় সে বিষয়ে জাপানের স্কুলগুলোতে শিক্ষা দেওয়া হয়।

“আমাদের এখানে সে ব্যবস্থা নেই কেন? অস্কার প্রতিযোগিতায় যাওয়ার জন্য গান্ধীর মত কোনো চলচ্চিত্র বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তৈরি হবে কি?”

এক তরুণ প্রশ্ন রাখেন, সব ক্ষেত্রেই কোটা তুলে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোটা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা যায় কি না?

শহরের সঙ্গে গ্রামের ব্যবধান কমে আসবে কবে? বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সহযোগী হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া কবে বন্ধ হবে? কবে ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে?- এসব প্রশ্নও আসে প্রধানমন্ত্রীর সামনে।

এ সময় সঞ্চালক অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চান, “আপনারা যদি প্রধানমন্ত্রী হতেন তাহলে কেমন বাংলাদেশ গড়তেন?”

একজন বলেন, বার বার বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মিথ্যাচার হয়েছে।

“আমার মতে, প্রাইমারি থেকে বঙ্গবন্ধুর ওপর পাঠ বাধ্যতামূলক করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফ্যাকাল্টি চালু করা উচিত।”

প্রধানমন্ত্রী হলে পথশিশুমুক্ত বাংলাদেশ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজ করার আগ্রহের কথা বলেন দুজন।

আরেকজন বলেন, “প্রত্যেক মানুষকে কাউন্সেলিং করার ব্যবস্থা করতাম। কারণ তারা বুঝতেই পারছে না কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। বেশিরভাগই হতাশায় ভোগে।”

আরেকজন বলেন,“যদি প্রধানমন্ত্রী হতাম তাহলে শিশু বয়স থেকেই যেন সবাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারে, সে ব্যবস্থা করতাম।”

সঞ্চালক শেখ হাসিনার কাছে তার তারুণ্যের দিনগুলো সম্পর্কে জানতে চান।

একজন প্রশ্ন করেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা জানি আপনি তরুণ বয়সেই রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। আপনার কাছে সেই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাই। সাথে আরও জানতে চাই, তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তখনকার পরিবেশের সাথে এখনকার পরিবেশের কোনো পার্থক্য চোখে পড়ে কি না।

“মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় কীভাবে কেটেছিল আপনার জীবন? আপনার তরুণ জীবনের রাজনীতি সম্পর্কে জানতে চাইছি। সে সময় কেমন ছিলেন? ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্টে মর্মান্তিক ঘটনায় ছোট বোন ছাড়া সবাইকে অপ্রত্যাশিতভাবে হারিয়ে নিজেকে শক্ত রাখলেন কীভাবে?”

প্রধানমন্ত্রীকে রাজনীতি ও ব্যক্তি জীবন নিয়ে নানা প্রশ্ন করেছেন তরুণরা

প্রধানমন্ত্রীকে রাজনীতি ও ব্যক্তি জীবন নিয়ে নানা প্রশ্ন করেছেন তরুণরা

১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত নির্বাসনের দিনগুলো কেমন ছিল? দেশে ফিরে আসতে কারা মোটিভেট করেছিল? ভয় করেনি?- এসব প্রশ্নও আসে বেশ কয়েকজন তরুণের কাছ থেকে।

প্রধানমন্ত্রীকে রাজনীতি ও ব্যক্তি জীবন নিয়ে নানা প্রশ্ন করেছেন তরুণরা

নুজহাত চৌধুরী প্রশ্ন রাখেন, “আপনি গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। দুইবার বিরোধী দলে থাকতে হয়েছে। বিরুদ্ধ স্রোতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাতে হয়েছে। সেই কঠিন দিনগুলো কেমন ছিল?”

এক তরুণ বলেন, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সন্তানকে দেখতে বিদেশে গিয়ে দেশে ফেরার সময় বাধা দেওয়া হয়েছিল। এরপর দেশে ফিরেই কারারুদ্ধ হন। সে সময়ের অভিজ্ঞতা বলবেন?

আরেকজন প্রশ্ন করেন, “ক্ষমতার ভেতরে বাইরে আপনি সব সময়ই জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। এই কাজ করতে গিয়ে আপনার কখনো ভয় বা দ্বিধা কাজ করেছে?”

শেখ হাসিনার ব্যক্তি জীবন নিয়েও প্রশ্ন করেন অংশগ্রহণকারীরা। রাজনীতিতে না এলে কী করতেন? ছোটবেলা কী হওয়ার ইচ্ছা ছিল- এমন প্রশ্ন করেন একজন। 

সঞ্চালক জানতে চান, রাজনীতির বাইরে ব্যক্তি শেখ হাসিনা কেমন, এত পরিশ্রম করেন, অবসর পান?

প্রচুর কাজের মধ্যে থেকেও শরীর ঠিক রাখা, ডায়েট না কি ব্যায়াম করেন, সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েও মনোবল শক্ত রাখা এবং প্রেরণার উৎস সম্পর্কে শেখ হাসিনার কাছে জানতে চান তরুণরা।

নাতি-নাতনিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে সময় কাটান, তা নিয়েও অনেকে জানতে চান অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানটি ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্ন টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রচার করা হবে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ চারটি সংবাদমাধ্যম অনুষ্ঠানটির সংবাদ সংগ্রহ করে।

সিআরআইর ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও নসরুল হামিদ বিপু এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।