২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৫

চিত্রশিল্পী মনিরুলের ঘরে স্পেনের ‘অর্ডার অব মেরিট’ সম্মাননা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2018-12-16 23:11:21 BdST

bdnews24

স্পেনের সম্মানসূচক ‘রয়েল স্পেনিশ অর্ডার অব মেরিট’ পুরস্কার তুলে দেওয়া হল বাংলাদেশের খ্যতিমান চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলামের হাতে।

রোববার ঢাকায় স্পেনের রাষ্ট্রদূত আলবারো দি সালাসের বাসভবনে আয়োজিত এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে শিল্পীর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত রেনজি তিরিংক, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি আনিস এ খান, বার্জার পেইন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালি চৌধুরীসহ শিল্পীর বন্ধু-শুভাকাঙ্ক্ষীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

স্পেন, তুরস্ক, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মনিরুল ইসলামের একক ও যৌথ চিত্র প্রদর্শনী হয়েছে।

১৯৯৭ সালে তিনি স্পেনের রাষ্ট্রীয় পদক, ২০১০ সালে স্পেনের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা দ্য ক্রস অব দ্য অফিসার অব দ্য অর্ডার অব কুইন ইসাবেলা পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে একুশে পদক ছাড়াও শিল্পকলা একাডেমি পদকসহ বিভিন্ন পদক ও সম্মাননা পেয়েছেন।

স্পেনের রাষ্ট্রদূত বলেন, “চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম বাংলাদেশে স্পেনের নাগরিক হিসেবে আছেন। একজন শিল্লী হিসেবে এবং দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনাকারী হিসেবে তাকে এই পদক দেওয়া হয়েছে।”

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “শিল্পী মনির দীর্ঘদিন ধরে স্পেনের সাথে আছেন, সেখানে বসবাস করছেন। কিন্তু তিনি কখনও বাংলাদেশকে ভুলে যাননি।

“তিনি ছবি এঁকেছেন মানবতাবাদ ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে। স্পেনের সরকার তাকে সম্মানিত করে সঠিক লোকটিকে বেছে নিয়েছে।”

পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় শিল্পী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যে কোনো স্বীকৃতি একজন শিল্পীর জন্য অনুপ্রেরণার। যদিও কোনো ধরনের পুরস্কার পাওয়া না পাওয়ার সঙ্গে আমার শিল্পকর্ম সম্পৃক্ত নয়, তবে এ ধরনের স্বীকৃতি যে কোনো শিল্পীকে আনন্দ দেবে, কাজে উৎসাহ যোগাবে।”

নিজের চিত্রকর্ম সম্পর্কে শিল্পী মনিরুল বলেন, মানব মনের অস্পৃর্শ অনুভূতিগুলো কাজে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন।

“চিত্রকর্মে বোঝা না বোঝার কিছু নেই। প্রতিটি কর্মই শিল্পীর একটা চিন্তা-অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ।”

শিল্পীর বন্ধু মইনদ্দীন খালেদ বলেন, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে শিল্পীর শৈশব-কৈশোর কেটেছে। তাই তার কাজেও রয়েছে প্রকৃতির নিগুড় রহস্যের ছাপ।

১৯৪৩ সালে জামালপুর জেলায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পী লেখাপড়া করেছেন ঢাকার তৎকালীন আর্ট কলেজে। প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিনের একান্ত আগ্রহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। সেখানে ছিলেন ১৯৬৬-১৯৬৯ সাল পর্যন্ত, তারপর স্পেন সরকারের বৃত্তি নিয়ে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। এরপর থেকে স্পেনেই স্থায়ীভাবে বাস করেন। সময় করে বছরের কয়েকটি মাস থাকেন বাংলাদেশেও।