২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

আদালতে হলি আটিজানের কর্মীর সাক্ষ্য

  • আদালত প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-01-17 01:12:09 BdST

bdnews24

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার শুনানিতে এক সাক্ষীর বর্ণনায় উঠে এসেছে সেই রাতের  কয়েক ঘণ্টার চিত্র।

বুধবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালতে ওই সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

চারজন সাক্ষীর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল প্রথম তিনজনের শুধু নাম-ঠিকানা লেখার পর রাষ্ট্রপক্ষ তাদের সাক্ষ্য দরকারি সাক্ষ্য নয় উল্লেখ করে ‘সাক্ষ্য নেবেন না’ বলে জানান।

পরে সাক্ষী সঞ্জয় বড়ুয়া আদালতে জবানবন্দি দেন এবং আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।

অন্য তিন সাক্ষীরা হলেন- তরুণ গোমেজ, মো.হোসেন ও মো.লেলিন মোল্লা।

সঞ্জয়সহ তারা চারজনই হলি আর্টিজানের কর্মচারী ছিলেন।

ঘটনার রাতে হলি আর্টিজানে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন জানিয়ে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সঞ্জয় বড়ুয়া বলেন,  গোলাগুলি শুরু হলে তিনি একটি কক্ষে আশ্রয় নেন।

সেখানে সারারাত অন্যান্যদের সঙ্গে অবস্থান করে পরদিন সকাল ১০টার দিকে সেখান থেকে বেরিয়ে বাসায় চলে যান সঞ্জয়।

পরে ৫ জুলাই ডিবি পুলিশ তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

এ নিয়ে মামলাটিতে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো। আগামী ২৩ জানুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছে আদালত।

২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির সময় বেঁধে দেওয়া হলে গত ডিসেম্বর থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হত্যার অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে এ আইনে।

মামলাটিতে গত ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।

আসামিরা হলেন- হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ।

আসামিদের মধ্যে প্রথম ৬ জন কারাগারে আছেন। অন্য দুই আসামি পলাতক রয়েছেন। এদিন কারাগারে থাকা ৬ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলাটিতে গত ৮ আগস্ট আট আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেন বিচারক।

এর আগে গত ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির মামলাটিতে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজান বেকারিতে পাঁচ তরুণের সরাসরি হামলায় ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে জবাই ও গুলি করে হত্যা করা হয়।

ভয়াবহ এই জঙ্গি হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শোর ফেলেছিল।

ওই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন খান নিহত হন।

পরদিন সকালে যৌথবাহিনী কমান্ডো অভিযান চালায়।এতে ছয় হামলাকারী নিহত হয়।জীবিত উদ্ধার করা হয় ১৩ জিম্মিকে।

একই বছরের ৪ জুলাই নিহত ৫ জঙ্গিসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে গুলশান থানায় সন্ত্রাসদমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।