২৫ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫

মাতৃভাষা দিবসে ঢাকার নিরাপত্তায় ১৬ হাজার পুলিশ

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-02-19 15:28:12 BdST

bdnews24

একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ফাঁক থাকছে না বলে দাবি করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে।

ওইদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় পোশাকধারী, সাদা পোশাকের পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট, র‌্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

মঙ্গলবার দিবসটি উদযাপনের মূল স্থান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। 

সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখার পর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, শহীদ মিনারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “২১ ফেব্রুয়ারি শুধু শহীদ মিনার কেন্দ্রিক নিরাপত্তায় থাকবে ছয় হাজার পুলিশ সদস্য। এছাড়া সোয়াট, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, ডগ স্কোয়াডসহ অন্যান্য বাহিনীও কাজ করবে।”

এর বাইরে ঢাকা শহরে আরো ১০ হাজার পুলিশ নিরাপত্তায় কাজ করবে বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে কোনো ধরনের হুমকি নেই বলেও জানান ঢাকার পুলিশপ্রধান।

তিনি বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টা থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি অপরাহ্ন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যত্রতত্র অনুপ্রবেশ বন্ধে নীলক্ষেত, পলাশী, ফুলার রোড, বকশীবাজার, চানখারপুল, শহীদুল্লাহ হল, দোয়েল চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেশিয়াম, রোমানা চত্বর, হাই কোর্ট, টিএসসি, শাহবাগ, ইন্টারসেকশন সমূহে রোড ব্লক দিয়ে গাড়ি ডাইভারশন করা হবে।
১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা পর্যন্ত রাস্তায় আলপনা আঁকার জন্য শহীদ মিনারের রাস্তা বন্ধ থাকবে। তবে শিববাড়ি, জগন্নাথ হল ও রোমানা চত্বর দিয়ে গাড়ি ডাইভারশন করা হবে বলে জানান আছাদুজ্জামান মিয়া।

তিনি বলেন, একুশের প্রথম প্রহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়াম মাঠে ভিআইপি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
“প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও ভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সর্বসাধারণ পলাশী, জগন্নাথ হল হয়ে শহীদ মিনারে আসবেন। সর্বসাধারণ নীলক্ষেত থেকে পলাশী, পলাশী থেকে ঢাকেশ্বরী সড়কে গাড়ি রাখতে পারবেন।”

তিনি বলেন, শহীদ মিনারে আসতে কেউ ব্যাগ, কাচি, ছুরি বা সন্দেহজনক কিছু সঙ্গে রাখতে পারবেন না।
“সকলকে জগন্নাথ হলের সামনে দিয়ে আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করতে হবে,” বলেন ডিএমপি কমিশনার।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রচার মাইকের নির্দেশনা সবাইকে মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশ কমিশনারের পর দুপুর ২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে আসেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “র‌্যাবের ফোর্সের সামর্থের সর্বোচ্চ দিয়ে এই আয়োজন নিরাপদ রাখতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

“শুধু শহীদ মিনারকেন্দ্রকই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং দেশের যেসব এলাকায় এই অনুষ্ঠান হবে, সব জায়গায় র‌্যাব সদস্যদের নিয়োজিত করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঘিরে র‌্যাবের টহল ছাড়াও ওয়াচটাওয়ার থাকবে, সাদা পোশাকে গোয়েন্দারা থাকবে।

একুশে ফেব্রুয়ারির আয়োজনে কেউ যেন শান্তিশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, বা শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো অপকর্ম ঘটাতে না পারে সেজন্য র‌্যাব পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানান বেনজীর আহমেদ।