২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৫

গ্যাসের অভাবে রান্নায় দুর্ভোগ

  • ফয়সাল আতিক, নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-02-20 00:58:24 BdST

bdnews24
যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের জন্য শনিবার ঢাকার আজিমপুর থেকে ধানমন্ডি হয়ে মিরপুর পর্যন্ত এলাকায় বাসাবাড়ি ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং এলাকায় এক গৃহিনী রান্না করছেন কাঠের চুলায়।

ঢাকার প্রায় অর্ধেক অংশে ১২ ঘণ্টার জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় এসব এলাকার বাসাগুলোতে ঝামেলা চলছে রান্না নিয়ে।

যারা আগেই তিতাস কর্তৃপক্ষের ঘোষণার কথা জেনেছেন, তারা মঙ্গলবার বিকালের আগেই রান্না সেরে রেখেছিলেন। কিন্তু যারা জানতেন না, তারা পড়েছেন বিপদে।

রাজধানীর বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা মো. ইউসুফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গ্যাস না থাকার ঘোষণা তারা দুই দিন আগে শুনেছেন।

“তাই দুপুরের মধ্যেই সব রান্না বান্না শেষ করে রেখেছিলাম।”

ঘোষণা অনুযায়ী সন্ধ্যার দিকে বনশ্রী এলাকায় গ্যাসের চাপ কমতে থাকে। তখনই সমস্যা টের পান বনশ্রীর আরেক বাসিন্দা নিগার সুলতানা।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সারাদিন জরুরি প্রয়োজনে বাইরে ছিলাম। সন্ধ্যায় রান্না ঘরে গিয়ে দেখি গ্যাস নেই।”

মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকার বাসিন্দা হালিমা আক্তার এবং আগারগাঁও এলাকার বাসিন্দা নিলুফা আকতার জানান, তারা গ্যাস চলে যাওয়ার খবরে দিনেই রাতের রান্নার কাজ সেরে রেখেছিলেন।

রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকার বাসিন্দা সঞ্চিতা মুস্তাকিমও জানান, তারাও রান্না করে রেখেছিলেন।

পল্টন এলাকার বাসিন্দা সাথী বিশ্বাস বলেন, “আজকে যে গ্যাস চলে যাবে, তা জানতেই পারিনি। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে রান্না করতে গিয়ে দেখি চুলা জ্বলছে না। গত পাঁচ বছরে পল্টনে গ্যাস নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।”

একই কথা বলেন পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের বাসিন্দা রাবেয়া রফিক রিমি।

তিনি বলেন, “রাতে রান্না করতে গিয়ে দেখি গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে রাতের খাবার খেয়ে এসেছি।”

বাসায় গ্যাস না থাকায় অনেকে রেস্তোরাঁয় ছুটেছিলেন খাবার কিনতে, কিন্তু অনেক দোকানেও একই সমস্যা থাকায় সেখানেও সমাধান পাননি কেউ কেউ।

মেট্রো রেলের নির্মাণ কাজের কারণে শাহবাগ থেকে বাংলামটর সড়কে তিতাসের কিছু সরবরাহ পাইপ প্রতিস্থাপনের জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ ঘণ্টার জন্য ঢাকার প্রায় অর্ধেক অংশে গ্যাস বন্ধ থাকবে বলে তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।

এই সময়ের মধ্যে আবাসিকের পাশাপাশি বাণিজ্যিক,শিল্প ও সিএনজি স্টেশনেও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণায় বলা হয়।

মিরপুর, শ্যামলী, মনিপুরীপাড়া, আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি, গণভবন, জাতীয় সংসদ ভবন, কলাবাগান, হাজারীবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, শাহবাগ, গ্রীনরোড, বঙ্গভবন, গোপীবাগ, স্বামীবাগ, রামপুরা, দক্ষিণ বনশ্রী, নন্দিপাড়া, মগবাজার, সিদ্ধেশ্বরী, সেগুনবাগিচা, মিন্টু রোড, তেজগাঁও, খিলগাঁও, বাসাবো, মতিঝিল, কমলাপুর ও পুরান ঢাকার পুরো এলাকা এর মধ্যে রয়েছে।

সন্ধ্যায় পরও তালিকায় থাকা অধিকাংশ এলাকায় গ্যাস চলে যায়। তবে মিরপুর এলাকায় কিছু বাসায় চুলায় সন্ধ্যার পর চাপ কমে গেলেও গ্যাস ছিল।