২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

বাড্ডার গণপিটুনির ঘটনায় ৩ জনকে ধরেছে পুলিশ

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-07-21 23:59:54 BdST

ছেলেধরার সন্দেহে ঢাকার বাড্ডায় এক নারীকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার সন্ধ্যার পর তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তিনজনকে ধরে এনেছি। তাদের বাসা (স্কুলের) আশপাশে।”

যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা হলেন জাফর, বাপ্পী ও শাহীন।

পুলিশ কর্মকর্তা রাজ্জাক বলেন, তাসলিমা বেগম রেনুকে পেটানোর ঘটনায় মূল আসামি হিসেবে হৃদয় নামে একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গত কয়েকদিনে কয়েকটি ঘটনার পর শনিবার সকালে ঢাকার উত্তর বাড্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমাকে (৪২) পিটিয়ে মারা হয়।

এই ঘটনায় তাসলিমার পরিবার একটি মামলা করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই সোহরাব হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তদন্তে শুধু এই ঘটনার আসামিদেরই নয়, যারা ছেলেধরার গুজব ছড়িয়েছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে ‘মানুষের মাথা লাগবে’ বলে সম্প্রতি ফেইসবুকে গুজব ছড়ানো হয়, যাতে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল সরকার। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়।

এরমধ্যে বৃহস্পতিবার নেত্রকোণা শহরে এক যুবকের ব্যাগ তল্লাশি করে ‘শিশুর মাথা’ পাওয়ার পর তাকে পিটিয়ে হত্যা করে এলাকাবাসী। এই ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেলেধরা সন্দেহে আক্রমণের ঘটনা ঘটছে।

এর মধ্যেই শনিবার তাসলিমাকে পিটিয়ে মারা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা রাজ্জাক জানান, মহাখালীর ওয়্যারলেস গেইটে সন্তান নিয়ে থাকতেন তাসলিমা। সন্তানকে ভর্তির বিষয়ে খবর নিতে ওই স্কুলে গিয়েছিলেন তিনি। বছরের মাঝে ভর্তির খোঁজ খবর নিতে যাওয়ায় কয়েকজন অভিভাবকের সন্দেহ হয়।

“এই সন্দেহ থেকে তাকে নিয়ে প্রধান শিক্ষিকার কাছে যান কয়েকজন অভিভাবক। সেখানে তার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়ার সময় বাইরে খবর ছড়িয়ে পড়ে ‘ছেলেধরা’ এক মহিলা ধরা পড়েছে। খবরটি মুহূর্তে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং বাজারসহ আশপাশ থেকে শতশত লোক ছুটে এসে কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্কুল ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে এবং মহিলাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে নিয়ে গণপিটুনি দেয়।”

পুলিশ খবর পেয়ে গিয়েও তাকে বাঁচাতে পারেনি বলে জানান রাজ্জাক।

“ঘটনা মুহূর্তে ঘটে গেছে, পুলিশ খবর পাওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছে গিয়ে দেখে সব শেষ।”

পুলিশ কর্মকর্তা রাজ্জাক বলেন, স্বামীর সঙ্গে দুই বছর আগে তালাক হওয়ার পর মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল তাসলিমা। এজন্য এক চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসাও চলছিল তার।

এদিকে রোববার ময়নাতদন্ত শেষে রেনুর মৃতদেহ তার গ্রামের বাড়ী লক্ষ্মীপুরে নেওয়া হয়েছে বলে তার বোনের ছেলে নাসির উদ্দিন টিটো বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।

মামলাটি টিটোই করেছেন। এই হত্যা মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ৪/৫ শ জনকে আসামি করা হয়েছে।