১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬

কাশ্মীর পরিস্থিতি ‘পর্যবেক্ষণ’ করছে বাংলাদেশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-08-07 15:11:43 BdST

bdnews24
নিরাপত্তা কড়াকড়ি ও বিধিনিষেধ চলাকালে শ্রীনগরের জনশূন্য রাস্তা। ছবি: রয়টার্স

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ সরকার সেখানকার পরিস্থিতি ‘গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ’ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ভারতের সংসদের উভয়কক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রশ্ন তোলার এখতিয়ার বাংলাদেশের নেই।

ভারতের সংবিধানে অধিকৃত কাশ্মীরকে যে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল, গত সোমবার মোদী সরকার সেটি রদ করার পর অঞ্চলটি অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

এরপর থেকে কাশ্মীরের টেলিযোগাযোগ ও গণমাধ্যম বন্ধ রাখা হয়েছে, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কারফিউ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে সুদীর্ঘ ৭০ বছর পর তাদের সংবিধান থেকে কাশ্মীর নিয়ে ৩৭০ অনুচ্ছেদ তারা বিলুপ্ত করেছে। তাদের পার্লামেন্টের উভয়কক্ষ রাজ্যসভা এবং লোকসভায় এই বিল পাস হয়েছে। এর ফলে ভারত তাদের নিজেদের পার্লামেন্টে জনপ্রতিনিধিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

“এ বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমাদের কোনো প্রকার মন্তব্য এবং কোনো প্রকার প্রশ্ন করার এখতিয়ার নেই। কাজে আমি এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করতে চাই না। কারণ এ বিষয়টি আমাদের এখতিয়ার নয়। আমরা পরিস্থিতি, প্রতিবেশী হিসেবে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ জম্মু ও কাশ্মীরকে অনেক ক্ষেত্রেই স্বায়ত্তশাসন দিয়েছিল; এ অনুচ্ছেদের ফলে কাশ্মীরিদের নিজস্ব সংবিধান, আলাদা পতাকা ও স্বতন্ত্র আইন বানানোর অধিকার ছিল। রাজ্যটির কেবল পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।

ওই অনুচ্ছেদের বলেই কাশ্মীর স্থায়ী বাসিন্দা নির্ধারণ, সম্পত্তির মালিকানা ও মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত আলাদা আইন তৈরি করেছিল। সেসব আইনে ভারতের অন্য এলাকার বাসিন্দাদের কাশ্মীরের জমি-সম্পদ ক্রয় কিংবা এখানে স্থায়ীভাবে বসবাসে নিষেধাজ্ঞা ছিল।

কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলে বর্তমান জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে ভাগ করে দু'টি কেন্দ্র শাসিতঅঞ্চল করার কথা বলা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মী একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল  হবে। অন্যদিকে, লাদাখও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে।

জম্মু-কাশ্মীরের ক্ষেত্রে পৃথক আইনসভা থাকলেও লাদাখের জন্য তা থাকবে না। সেইসঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে লেফটেন্যান্ট গভর্নর বা উপ-রাজ্যপাল পদ তৈরি করা হবে বলে উল্লেখ আছে বিলে।