১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬

রিলায়েন্স মডেল টাউনে টাকা দিয়েও প্লট না পাওয়ার অভিযোগ

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-10-19 17:51:13 BdST

bdnews24

রাজধানীর খিলক্ষেতের একটি আবাসন প্রকল্পে টাকা দিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্লট বুঝে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন প্লটগ্রহীতারা।

তারা বলছেন, আবাসন প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড নামের একটি প্রতষ্ঠানের কর্মকর্তারা তাদের কাছ থেকে প্লটের দাম বাবদ দুই শতাধিক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছেন।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন রিলায়েন্স মডেল টাউন প্লট ওনার্স ফোরামের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবুল হুসাইন ও সদস্য সচিব মো. ফরহাদ হোসেন।

তবে রিলায়েন্স ডেভলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুর রহমান ওসমানি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন অনেককেই প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু প্লট নিয়ে সাময়িক জটিলতা দেখা দিলেও অচিরেই তা সমাধান হয়ে যাবে বলে তার দাবি।

প্লট মালিকদের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন খিলক্ষেত থানাধীন ডুমনি-পাতিরা মৌজায় প্রায় ১৮০০ প্লট বিক্রি করেছে লিায়েন্স ডেভলপমেন্ট। প্লট ক্রেতাদের অধিকাংশই প্রবাসী।

তারা জানান, ১১০টি প্লটের রেজিস্ট্রেশন এখনও হয়নি। আবার অনেকের রেজিস্ট্রেশন হলেও প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

সাত বছর ধরে প্রকল্প এলাকাটি জলাভমির মতো করে রাখা হয়েছে বলে প্লট মালকরা জানান।

ফোরামের সদস্য সচিব মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি এই প্রতারক চক্রটি করপোরেট সেলের নামে ২৫-৫০ বিঘা জমি বিক্র করে বিদেশে পালানোর পাঁয়তারা করছে।

“আমরা জানতে পেরেছি বিষয়টির সুরাহা না করে কোম্পানির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ভাইস চেয়ারম্যান গোপনে প্রকল্পের জমি বিক্রি এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া দুই শতাধিক কোটি আত্মসাৎ করে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছে।”

এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এ প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হলে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন আবাসন প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ডেভলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুর রহমান ওসমানি।

তিনি বলেন, তাদের অফিস খোলা আছে, প্রকল্প এলাকায় মাটি ভরাটের কাজসহ সব ধরনের উন্নয়নকাজও চলছে। আর কর্মকর্তারা নিয়মিত অফিসও করছেন।

আরিফুর রহমান বলেন, “পাশের একটি হাউজিং কোম্পানির সাথে কিছু সমস্যা চলছে। ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমি তারা নিয়ে স্টেডিয়াম, রাস্তা করছে। এসব সম্পত্তি নিয়ে আমরা সেই হাউজিং কোম্পানির সাথে কথা বলছি। তারা ওই পরিমাণ জমি অন্য দাগে আমাদের ফেরত দেবে বলে কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে কাজ বেশ এগিয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”

সবাইকে প্লট বুঝিয়ে দেওয়ার পরেও তাদের প্রকল্পে একশ বিঘা জমি থাকবে বলে দাবি করেন এই আবাসন ব্যবসায়ী।