১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অস্থিরমতি বুলবুল পরিণত প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-08 00:51:15 BdST

bdnews24

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরও শক্তি সঞ্চয় করে পরিণত হয়েছে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে; অস্থিরমতি এই ঘূর্ণিবায়ু কোন উপকূলে আঘাত হানতে চলেছে সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি আবহাওয়াবিদরা। 

বুলবুলের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল এ ঝড়।

সে সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শুক্রবার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূত হতে পারে। রোববার নাগাদ পৌঁছাতে পারে উত্তর বঙ্গোপসাগরে।

“ঝড়ের শক্তি বাড়লে শুক্রবার সতর্কতার মাত্রাও বাড়ানো হতে পারে। সেক্ষেত্রে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলীয় বাষ্প বাড়ায় উপকূলীয় এলাকায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে।”

সুদূর প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড় মাতমো গত অক্টোবরের শেষে ভিয়েতনাম হয়ে স্থলভাগে উঠে আসে। সেই ঘূর্ণিবায়ুর অবশিষ্টাংশই ইন্দোনেশিয়া পেরিয়ে ভারত মহাসাগরে এসে আবার নিম্নচাপের রূপ নেয়।

বার বার দিক বদলে নিম্নচাপটি আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এসে  বুধবার রাতে তা ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়। তখন এর নাম দেওয়া হয় বুলবুল।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তরের নির্ধারিত তালিকা থেকে ধারাবাহিকভাবে এই অঞ্চলের ঝড়ের নাম দেওয়া হয়। বুলবুল নামটি নেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে।  

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বুলবুলের প্রভাবে বৃষ্টি ঝরবে ভারতের ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায়। তবে প্রবল এ ঘূর্ণিঝড়ের অস্থির গতিপথের কারণে তার চূড়ান্ত গন্তব্যের ব্ষিয়ে আবহাওয়াবিদরা এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি।

ভারতের আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আরও শক্তিশালী হয়ে শুক্রবার বিকাল নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে (ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম) পরিণত হতে পারে। তখন বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার।

তবে রোববার ফের শক্তি কমে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের (ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম) রূপ পেতে পারে বুলবুল। তারপর ধীরে ধীরে আরও শক্তি হারিয়ে ১১ নভেম্বর ফের ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছিলেন, অর্ধবৃত্তাকারে বাঁক নিয়ে বুলবুল পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূল ধরে উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে যেতে পারে। 

তবে জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের বুলেটিন বলছে, বর্তমান অবস্থান থেকে বক্র পথে প্রথমে উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে এবং পরে উত্তর-উত্তরপূর্বে অগ্রসর হতে পারে বুলবুল। রোববার সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে এ ঘূর্ণিঝড় প্রবেশ করতে পারে বাংলাদেশে।   

আর বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ ঝড়ের প্রভাব বাংলাদেশের ওপর কতটা পড়বে তা নির্ভর করবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে আসার পর বুলবুল কোন দিকে মোড় নেয় তার ওপর। শনিবার রাতে পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনে সংকেত বাড়ানো হবে।

এখনও অনেক দূরে থাকায় ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান পর্যালোচনা করে আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিন দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।