লতিফ সিদ্দিকীর মুক্তির পথ খুলল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-17 14:12:17 BdST

bdnews24

দুর্নীতির মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে হাই কোর্টের দেওয়া ছয় মাসের জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

হাই কোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা লিভ টু আপিল রোববার খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। 

ফলে হাই কোর্ট থেকে পাওয়া ছয় মাসের জামিন বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

আদালতে লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও শাহ মঞ্জুরুল হক। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

আইনজীবী মনসুরুল হক পরে বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “লতিফ সিদ্দিকীর বয়স এবং অসুস্থতা বিবেচনায় আপিল বিভাগ দুদকের লিভ টু আপিলটি খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল। এখন তার মুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই।”

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ৪ নভেম্বর লতিফ সিদ্দিকীকে ছয় মাসের জামিন দিয়ে রুল জারি করে।

হাই কোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে ৭ নভেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে দুদক।

সেদিন চেম্বার আদালত দুদকের আবেদনে কোনো আদেশ না দিয়ে আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে ১১ নভেম্বর শুনানির জন্য রাখে। 

এর মধ্যে লতিফ সিদ্দিকী যেন মুক্তি না পান সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বলে চেম্বার আদালত।

১১ নভেম্বর হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে করা দুদকের আবেদনটির শুনানি হয়।

সেদিন সর্বোচ্চ আদালত হাই কোর্টের আদেশটি স্থগিত করে এ আদেশের বিরুদ্ধে দুদককে নিয়মিত লিভ টু আপিল করে রোববার আদেশের জন্য রাখে।

সে অনুযায়ী দুদক লিভ টু আপিল করলে রোববার শুনানির পর তা খারিজ করে দেল আপিল বিভাগ।

টাঙ্গাইল-৪ আসনের সাবেক সাংসদ লতিফ সিদ্দিকী ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। ওই সময় তিনি দুর্নীতি করেছেন অভিযোগ করে ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর বগুড়ার আদমদীঘি থানায় এই মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম।

সেখানে বলা হয়, মন্ত্রী থাকাকালে লতিফ ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের অধীনে থাকা বগুড়ার আদমদীঘির রানীনগর ক্রয় কেন্দ্রের ২ দশমিক ৩৮ একর জমি দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই বেগম জাহানারা রশিদ নামে এক নারীর কছে বিক্রির নির্দেশ দেন, তাতে সরকারের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়

মামলায় বেগম জাহানারা রশিদকেও আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গতবছর ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

গত ২০ জুন লতিফ সিদ্দিকী এ মামলায় বগুড়ার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিচারক তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর তার আইনজীবীরা জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে আসেন।