রিট খারিজ, ভোট ৩০ জানুয়ারিই হচ্ছে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-01-14 15:42:57 BdST

সরস্বতী পূজার কারণে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ বদলানোর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট।

আদালতের এই আদেশের ফলে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারিই ঢাকার দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ হবে।

আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষের করা এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেয়।

রিটকারী আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ আদালতে নিজেই শুনানি করেন। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত ও সহসভাপতি সুব্রত চৌধুরীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন তৌহিদুল ইসলাম।

৩০ জানুয়ারি ভোটের তারিখ রেখে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। সে অনুযায়ী প্রার্থীরা প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা থাকায় ভোটের তারিখ পরিবর্তনের জন্য আদালতে এই রিট আবেদন করেন আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ। তার যুক্তি ছিল, ইসির ঘোষিত নির্বাচনের তারিখ সংবিধানে বর্ণিত প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’।

আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়ে আদালত আদেশে বলেছে, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৯ জানুয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে। সুপ্রিম কোর্টের ক্যালেন্ডারেও ২৯ তারিখ ছুটির কথা বলা আছে। আর নির্বাচন কমিশন ৩০ তারিখ ভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে। তার দু’দিন পর এসএসসি পরীক্ষা।

“উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভোটের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই, তাই আবেদনটি সরাসরি খারিজ করা হল।”

রিটকারী আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ আদেশের পর সাংবাদিকদের বলেন, “এই আদেশে আমরা সংক্ষুব্ধ। আমরা আপিল বিভাগে যাব।”

তার রিট আবেদনে বলা হয়েছিল, সংবিধানের ৮, ১২, ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিককে ধর্ম পালনের যে মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনের ঘোষিত তারিখ সংবিধানের এই অনুচ্ছেদগুলোর সাথে ‘সাংঘর্ষিক’।

দেশের সর্ববৃহৎ পূজামণ্ডপ রামকৃষ্ণ মিশন ও ঢাকায় স্বরস্বতী পূজার মূল কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় পড়েছে। এখানে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র পড়েছে, যেখানে প্রতিবছরই সরস্বতী পূজার আয়োজন হয়।

এ কারণে পূজা উদযাপন পরিষদ এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ভোটের দিন পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল ইসির কাছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে মানববন্ধনও হয়েছিল।

নির্বাচন কমিশনাররা বিষয়টি নিয়ে নিজেরা আলোচনা করলেও কোনো সিদ্ধান্ত না জানিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকার কথা বলেছিলেন। 

মঙ্গলবার রিট আবেদনের শুনানিতে অশোক কুমার ঘোষ আদালতে বলেন, ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আর সরস্বতী পূজা শুরু হয় মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথি থেকে। তিথি শেষ হওয়ার আগে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া যায় না। পঞ্জিক অনুযায়ী পঞ্চমী তিথি শুরু হবে ২৯ জানুয়ারি সকাল ৯টা ১০ মিনিট থেকে। শেষ হবে ৩০ জানুয়ারি বেলা ১১টায়।
 
“ঢাকেশ্বরী মঠ, মহানগর সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে পূজার নিমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী ২৯ জানুয়ারি প্রতীমা স্থাপন করা হবে। বানী-অর্চনা ৩০ জানুয়ারি। অর্থাৎ পূজার মূল পর্ব ৩০ জানুয়ারি। তাই সিটি ভোটের তারিখ পরিবর্তন চেয়েছি। তাছাড়া গত ১০ জানুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সিটি ভোটের তারিখ পরিবর্তন করতে ইসিতে চিঠিও দিয়েছেন।”
 
এ আইনজীবী বলেন, গত বছর দুর্গাপূজা চলার সময় রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনের জন্য ৫ অক্টোবর তারিখ দেওয়া হলে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আপত্তি জানিয়েছিল, কিন্তু নির্বাচন কমিশন কর্ণপাত করেনি।
 
“সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয়েছে, ১২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়নের কথা। আর ৪১ অনুচ্ছেদে নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।… কিন্তু নির্বাচন কমিশন বরাবরই আমাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। মানসিক যন্ত্রণার সৃষ্টি করছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মত কাজ করছে। এটা দুঃখজনক।”
 
নির্বাচন কমিশন এভাবে সংবিধানের মূলনীতি লঙ্ঘন করছে অভিযোগ করে রিটকারী বলেন, “বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে আমরা নীপিড়িত, নিগৃহীত হচ্ছি। অথচ সংবিদানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সকল নাগরিকের অধিকার সমান।”
 
এ আইনজীবী প্রশ্ন করেন- “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র হবে। এ কারণে দুই দিন আগে থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে, যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে বা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাহলে পূজাটা আমরা কীভাবে করব!”

নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার অন্তত ১৫ দিন পরে নির্বাচন করতে হয়। সে অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারির আগেও ভোট করার সুযোগ রয়েছে বলে শুনানিতে যুক্তি দেন তিনি। তবে শুনানি শেষে তার আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।  

আদালতের আদেশের পর নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. আলমগীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন ও পূজা দুটোই  ‘পবিত্র’ কাজ; একসঙ্গে করলে কোনো সমস্যা হবে না।