আনন্দ-আড্ডায় মিললেন ঢাবির ইংরেজির সাবেকরা

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-01-24 20:36:16 BdST

পায়ে ব্যথা থাকায় বন্ধুর কাঁধে ভর দিয়ে একটি টেবিলের দিকে যাচ্ছিলেন এ কে এম জাহাঙ্গীর। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি। চার বছর পর বন্ধু এ কে এম আবদুল করিমের সঙ্গে দেখা হল তার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগ অ্যালামনাই সোসাইটির (ইডাস) বার্ষিক পুনর্মিলনীতে এসে এই দুই বন্ধুর গল্প যেন শেষই হচ্ছিল না।

টিএসসিতে শুক্রবার বিকেলে জাহাঙ্গীর আর করিমের মতো ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়েছিলেন তাদের বার্ষিক পুনর্মিলনীতে। গল্প, হাসি, প্রাণোচ্ছ্বল আড্ডা, সেলফি আর ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতিচারণ করে খুনসুটিতে মেতেছিলেন তাদের অনেকে।

পুনর্মিলনীতে যোগ দিয়ে খুবই ভালো লাগছে জানিয়ে ৭৩ ব্যাচের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর বলেন, “এখন হাঁটতে একটু সমস্যা হয়, এরপরেও এসেছি। অনেকের সাথে মোবাইলে কথা হলেও দেখা তো আর হয় না।

“ফিলিংসটা ঠিক কেমন বলে বোঝানো যাবে না, এটা অন্যরকম ভালোলাগা।”

রবীন্দ্রনাথের ‘আজ সবার রঙে রং মেশাতে হবে/ওগো আমার প্রিয় তোমার রঙিন উত্তরীয়/পর পর পর তবে…’ গানটি দলীয়ভাবে গেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। তার আগেই বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা টিএসসি চত্বরে সাজানো ছোট ছোট টেবিলে বসে আড্ডায় মেতে উঠেন।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা অনুষ্ঠানস্থলে আসার পর তাকে ঘিরে গল্পে মেতে উঠেন অবসরে যাওয়া বেশ কয়েকজন সচিব ও সরকারি কর্মকর্তা।

অনেক দিন পর সিনিয়র-জুনিয়রদের দেখা হওয়ায় বুকে বুক মেলান অনেকে। সন্তানদেরও সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন কেউ কেউ।

নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পুরানো অনেকের সঙ্গেই তো দেখা হয় না। এখানে এলে দেখা হয় তাই নিয়মিত আসি। এটা আসলে নস্টালজিক।”

এই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন অনুষ্ঠানস্থলে আসার পর তার হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি টেবিলে ঘুরে অনেকের সঙ্গে কথা বলেন ফরহাদ। মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে সেলফিও তোলেন অনেকে।

ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম এসেছিলেন বার্ষিক পুনর্মিলনীতে। কারও সঙ্গে যোগাযোগ না করে এসেও বন্ধুর দেখা পেয়েছেন তিনি।

“প্রতি বছরই আসি, না এসে থাকা যায় না। অনেকের সঙ্গে দেখা হয়, বেশ ভালো লাগে।”

সন্ধ্যার পর সাংস্কৃতিক পর্বে সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকে মঞ্চে উঠে গান শোনান। সাবেক সিএজি মাসুদ আহমেদও গান গেয়ে শোনান।

ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নেভিন ফরিদা যখন বক্তব্য শুরু করেন মূল মঞ্চের সামনে তখন হাতেগোনা কয়েকজন বসা, বেশিরভাগই ছোট ছোট টেবিলে বসে গল্পে মশগুল।

হাসতে হাসতে অধ্যাপক ফরিদা বলেন, “যদিও অ্যাটেনশন পাচ্ছি না, তবুও আমি আমার কাজটি করে যাই।”

ইডাসের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েতউল্লাহ আল মামুন জানান, অ্যালাইনাইদের একটি ডেটাবেজ তৈরির চেষ্টা চলছে।

নতুন কমিটির সদস্যদের আগাম অভিনন্দন জানান তিনি।

ইডাসের সভাপতি রাশেদা কে চৌধুরী বক্তব্যে বলেন, “আমরা কী করতে পেরেছি, আর কী করতে পারিনি- তার পুনর্মূল্যায়ন করছি।”

বিভাগের ভালো ফলধারী ১০ জন শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা তুলে দেন এই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তিনি বলেন, “ঢাকা থাকলে (অনুষ্ঠানে আসা) মিস করি না। এবার আমি মোস্ট সিনিয়র।…বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতি এটাই আজকের খোরাক, মধুর সব স্মৃতি। আমাদের ব্যাচে ১৩ জন ছাত্র ছিলাম। এরমধ্যে তিনজন ছাত্রী, তিনজনই বিভিন্ন কারণে আকর্ষণীয় ছিল।”

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, “আমি অত্যন্ত অভিভূত, আনন্দিত। অনেকের সঙ্গে দেখা হল। চমৎকার এই মিলনমেলার জন্য এক বছর তাকিয়ে থাকি।

“আমার ক্লাসমেটদের কথা খুব বেশি মনে পড়ে। শিক্ষকদের ভালোবাসা আমাদের এখানে টেনে আনে।”

বর্তমান কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ইডাসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী র‌্যাফেল ড্র-তে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এই অনুষ্ঠানেই নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদারকে সভাপতি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খানকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কবি নুরুল হুদা, জাতীয় পার্টির নেতা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, সাবেক সচিব কাজী আখতার হোসাইন এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

চটপটি, ফুচকা, ভাপা পিঠা, চা, কফি, শর্মা আর কেক দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় অ্যালামনাইদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগ ইংরেজির প্রায় শতবর্ষের পথচলার মধ্যে ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ‌্যোগে গঠিত হয় ইডাস। এরপর সংগঠনটির আয়োজনে প্রতি বছরই জানুয়ারিতে পুনর্মিলনী হচ্ছে।