লেমিনেটেড পোস্টারের বিকল্প ইসিও খুঁজছে

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-02-05 01:40:55 BdST

bdnews24
সিটি নির্বাচন ঘিরে ঢাকা হয়ে উঠেছিল পোস্টারের নগরী, কিন্তু নির্বাচনী এসব পোস্টারের অধিকাংশই মোড়ানো ছিল ক্ষতিকর পলিথিনে

ভোটের প্রচারে লেমিনেটেড পোস্টার নিয়ে শোরগোলের মধ্যে নির্বাচন কমিশনও বিকল্প নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি ভোটকে সামনে রেখে পরিবেশ দূষণকারী লেমিনেটেড পোস্টারে ছেয়েছিল রাজধানী, এসএসসি পরীক্ষার আগে উচ্চ মাত্রার মাইকিংয়ে বিরক্ত ছিলেন শিক্ষার্থীরা, আর যানজটে নাকাল হন সবাই।

এরইমধ্যে পোস্টার, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড লেমিনেট করে ব্যবহার বা প্রদর্শন বন্ধে নির্দেশ দেয় আদালত।

সব মিলিয়ে ভোটের পর নির্বাচন কমিশনও নিজেদের মধ্যে আলোচনায় ভবিষ্যত করণীয় নিয়ে ভাবছে।

মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এ নিয়ে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম।

জানতে চাইলে এ নির্বাচন কমিশনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নির্বাচনে বর্তমানে যে প্লাস্টিকের লেমিনেটিং করা পোস্টার ব্যবহার করা হচ্ছে ,তাতে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় হচ্ছে। কেবল কাগজের তৈরি পোস্টারও যদি ড্রেনে যায়, তাহলে জলাবদ্ধতা ব্যাপক আকার ধারণ করবে।

“ঢাকা সিটি নির্বাচনে প্লাস্টিকে মোড়ানোর পোস্টারগুলো সরিয়ে নেওয়া হলেও পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকানো যাবে না। কেননা, এগুলো পোড়ালে পরিবেশ দূষণ হবে। মাটিতে ফেললেও পরিবেশ দূষণ হবে। তাই পোস্টার ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে ভাবা প্রয়োজন। বিকল্প কী পদ্ধতিতে প্রচারণার সুযোগ দেওয়া যাবে, তা নিতে ভাবতে হবে।”

রফিকুল জানান, নির্বাচনে দিনভর মাইক ব্যবহারের আইনি অনুমতি থাকলেও বাস্তবে যেভাবে লাউড স্পিকার ব্যবহার করা হয়, তাতে দুপুর ২টা থেকে ৮টার সময়সীমা কেউ মানে না। তাছাড়া একাধিক স্পিকার ব্যবহার করা হয় উচ্চমাত্রায়। ফলে ব্যাপক শব্দ দূষণের সৃষ্টি হয়।

প্রার্থীদের এমন প্রচার আটকে দিয়েছিল সড়ক

প্রার্থীদের এমন প্রচার আটকে দিয়েছিল সড়ক

অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারের নামে মিছিল, মহড়ার করে ফেলেন অনেকে। যদিও এটা আইন বৈধতা নেই। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগের সীমা থাকে না।

তিনি বলেন, “আমরা তিনটি বিষয়কে মাথায় রেখেছি। আর তা হলো- পরিবেশ দূষণ, শব্দ দূষণ ও যানজট মুক্ত নির্বাচনী প্রচার। এসব করতে হলে বিধি সংশোধন, মতামতও দরকার। এ জন্য সময়োপযোগী করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।”

আদালতের আদেশ অনুসরণ

এবার ভোটে উত্তর ও দক্ষিণে ১৩ মেয়র প্রার্থীসহ কাউন্সিলর মিলিয়ে সাড়ে সাতশজন ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

মেয়র প্রার্থীদের প্রত্যেকে গড়ে ৪ লাখের বেশি পোস্টার ছাপিয়েছেন। কাউন্সিলররাও ৫-১০ হাজার করে পোস্টার ছাপান। ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কায় বেশিরভাগ পোস্টারই ছিল পলিথিনে মোড়ানো ।

প্রার্থীর পোস্টার, লিফলেট,  কর্মীদের পরিচয়পত্র আর অননুমোদিত নানা ধরনের ব্যানার ছিল খুঁটি, গাছ আর সড়ক বিভাজকে।

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনায় সারা দেশে বিশেষ করে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় ছাপা পোস্টার, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড লেমিনেট করে ব্যবহার বা প্রদর্শন বন্ধে গত ২২ জানুয়ারি নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।

প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হলেও বৃষ্টি, কুয়াশা, আর্দ্রতা কিংবা ধুলাবালি থেকে পোস্টারগুলো রক্ষা করার জন্য লেমিনেটেড পোস্টার কিংবা পোস্টার প্লাস্টিকের মোড়কে ব্যবহার করছেন প্রার্থীরা।

পরিবেশবিদরা বলছেন, পোস্টার প্লাস্টিকে মোড়ানোর (লেমিনেটেড) কারণে পরিবেশের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক নর্দমায় গিয়ে জমা হয়ে বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণ হবে।

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, “আদালতের আদেশ অনুসরণ করা হবে। সেই সঙ্গে আগামীতে নির্বাচনের এ ধরনের পরিবেশ দূষণকারী কাযক্রম রোধে আরও কী করা যায়; আইন-বিধি সংস্কার নিয়েও আলোচনা করতে হবে। সব কিছু বিবেচনা করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”