মেলায় বিপিএল’র নতুন ৩টি বই

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-02-10 21:10:16 BdST

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর পাবলিশিং লিমিটেড (বিপিএল) থেকে প্রকাশিত আরও তিনটি বই এসেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়।

এনিয়ে এবারের বইমেলায় মোট আটটি বই এসেছে বিপিএল’র। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রকাশনা সংস্থাটির স্টলে নতুন আটটির পাশাপাশি আগে প্রকাশিত বইগুলোও পাওয়া যাচ্ছে।

নতুন বই তিনটি হচ্ছে তন্ময় ইমরানের সাইকো থ্রিলারধর্মী উপন্যাস ‘জোনাকস্নানে জয়তী’, আলী নাঈমের ‘বিজ্ঞান সাধক দুই বন্ধু’ এবং আনন্দময়ী মজুমদারের জার্নালধর্মী লেখা ‘মা-বেলার ডায়েরি’।

মেলার শুরুতে শিশুদের জন্য বিপিএল থেকে নতুন পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়। সেগুলো হল- বিএম বরকত উল্লাহ রচিত ‘ঘ্যাঙ আর মিয়াঁও’ ও ‘খুকী যাবে মেঘের বাড়ী’, আনন্দময়ী মজুমদারের ‘হলদে কুটুম পাখি আর লাল গুবরে পোকা’, অন্য দুটি মাজহার সরকারের ভাবানুবাদ গল্প। একটি ইংরেজ লেখক ভার্জিনিয়া উলফের গল্পের আলোকে রচিত বুড়ি ধাইমার কাপড় সেলাই এবং আরেকটি স্পেনের শিশুসাহিত্যিক পেড্রো পাবলো সেক্রিস্টানের গল্পের আলোকে জাদুর গাছ।

বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে বিপিএল’র স্টল নম্বর ৫৮৮-৫৮৯।

জোনাকস্নানে জয়তী: ফ্রি ল্যান্সার সাইকিয়াট্রিস্ট জয়তীর জীবন হুট করেই ঘুরে যায়। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি গোপন ইউনিটে কাজ করার সুযোগ পায় সে। সাইকিক ক্ষমতার অধিকারীদের নিয়ে ইউনিটটি চলবে, রুখে দেবে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। কাজ করতে গিয়ে জয়তী জড়িয়ে পড়ে একের পর এক আপাত রহস্যময় মানুষ ও ঘটনার সঙ্গে। জয়তীর সঙ্গে মানুষের মনোজগতে রোমাঞ্চকর ভ্রমণের কথা তুলে ধরবে এই বইটি।

‘মনফড়িং’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার তন্ময় ইমরানের প্রথম সাইকো থ্রিলার ‘জয়তী’। বইটির দাম ধরা হয়েছে ৪১৫ টাকা।

বিজ্ঞানসাধক দুই বন্ধু: ব্রিটিশ শাসিত পরাধীন ভারতীয় উপমহাদেশে যে আধুনিক বিজ্ঞানচর্চা শুরু হয়েছিল, তার কেন্দ্র ছিল, ঐতিহাসিকভাবে বাংলা। বৃহত্তর বাংলার তখনকার কেন্দ্র কলকাতায় জন্ম নেওয়া সত্যেন্দ্রনাথ বসু এবং কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে ঢাকার এক পাড়াগাঁয়ে জন্ম মেঘনাদ সাহা কলেজ জীবনে হন সহপাঠী, সেখান থেকে বন্ধুত্ব। এ দুই বন্ধুর জীবন যেন দুই উৎস থেকে আসা দুই নদীর মতো, যারা একসাথে মিলিত হয়ে আবার আলাদা হয়েছে, আর সবশেষে এক মোহনায় গিয়ে মিশেছে। একদিকে বিজ্ঞান, অন্যদিকে মানবপ্রেম ও দেশপ্রেম – এ দুয়ের টানেই এই দুই বন্ধু, দুই বাঙালি একসূত্রে বাঁধা পড়ে ইতিহাসে অমরত্ব পেয়ে গেছেন।

এ দুই বন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে কিশোর বয়সীদের উপযোগী করে বইটি লিখেছেন গবেষক-সংগঠক আলী নাঈম। বইটির দাম ৪৭০ টাকা।

মা-বেলার ডায়েরি: মা-বেলার ডায়েরিতে এক জোড়া শিশুর চোখ আছে। এক মায়ের লেখায়, শৈশবকে সীমাহীন কৌতূহল আর কৌতুক দিয়ে অনুভব করার কথা আছে। এই বিশ্বাস আছে যে, সব প্রশ্নের নিজস্ব উত্তর পাওয়া যায়। যে প্রশ্ন আমাদের সকলের মধ্যে জেগে থাকে তা হলো, শিশুদের জন্য একটা সুন্দর পৃথিবী কি আমরা রেখে যেতে পারব? কীভাবে রেখে যাব? এইখান থেকে আমাদের এক একটা নতুন অধ্যায় শুরু হয়।

শিশু-প্রেমীদের জন্য আনন্দময়ী মজুমদারের এই বইটির দাম ৪৬০ টাকা।

এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বিপিএল থেকে প্রকাশিত সব ধরনের বইয়ে নির্ধারিত মূল্যের উপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। বিকাশের মাধ্যমে দাম পরিশোধ করলে এর সঙ্গে আরও ১০ শতাংশ ক্যাশব্যাক পাচ্ছেন ক্রেতারা।

বইপ্রেমীদের ভিড় বাড়ছে মেলায়

সোমবার মেলার নবম দিনে বইপ্রেমীদের ভিড় দেখা গেছে। প্রকাশক-বিক্রেতারাও জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় তাদের বিক্রিও বাড়ছে।

কাকলী প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি রেজাউল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ‘‘বইমেলার শুরুর দিকের যে শূন্যতা ছিল তা আর এখন নেই। এখন অনেকেই আসছেন, বই দেখছেন এবং কিনছেন। আমাদেরকেও ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে।”

মিজান প্রকাশনীর মালিক মিজানুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, “শুক্র-শনিবারের তুলনায় আজকে ভিড় কম হলেও গত সপ্তাহের তুলনায় অনেকেই আসছেন এখন। আমাদের বিক্রিও মোটামুটি ভালো। আশা করি আগামী শুক্র-শনিবার থেকে এটি আরও বাড়বে।”

তবে বইপ্রেমীদের এই ভিড় কিছু নির্দিষ্ট প্রকাশনীতেই সীমাবদ্ধ বলে জানান সাহিত্য বিকাশের বিক্রয় প্রতিনিধি মো. মিলন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের মতো ছোট প্রকাশনীগুলোতে এখনও পাঠক সমাগম শুরু হয়নি। দুই-একজন করে আসলেও বই নেড়েচেড়ে আবার চলে যাচ্ছে, এখনও বিক্রি তেমন হচ্ছে না।”

মিরপুর থেকে বইমেলায় এসে আগামী প্রকাশনী থেকে আব্দুল গাফফার চৌধুরীর রাজনৈতিক কলাম ‘গান্ধীর দর্শন ও শেখ মুজিবের রাজনীতি’ বইটি কিনেছেন আল মামুন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বইমেলায় এসে বড় কয়েকটি প্রকাশনী ঘুরে বইটি পছন্দ হলে নিয়ে নিই, সাথে কয়েকটি প্রকাশনীর ক্যাটালগ সংগ্রহ করেছি। আবার বইমেলায় আসতে পারব কি না, তা এখনও নিশ্চিত না। তবে এরপর আবার আসলে আরো কিছু বই কেনার ইচ্ছা আছে।”

মতিঝিল থেকে বন্ধুদের সাথে বইমেলায় এসেছে মৃত্যুঞ্জয় রায়। তিনি বলেন, ‘‘বইমেলায় বন্ধুদের সাথে আসছি। আড্ডা দিলাম, কয়েকটি স্টল ঘুরে দেখলাম, কোনো বই নিইনি। মেলাতো আরো অনেকদিন আছে, আবার আসবো, এরপর এসে পছন্দের কিছু বই কিনব।”