এক ভবনে তিন বিশ্ববিদ্যালয় কী শিক্ষা দেয় জানি না: প্রধানমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-02-26 17:43:41 BdST

দেশে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি ভবনে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ও করা হয়েছে, এটা শুনে অবাক হয়েছিলেন তিনি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঢালাওভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করায় লেখাপড়ার মান ঠিক থাকে কি না তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে এসব বলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা না মেনে শিক্ষার্থী ভর্তি করায় সম্প্রতি ঢাকার সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) এবং সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিকে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে উচ্চ আদালত।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন নিয়ে দেশে এখন ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে জবাবদিহির আওতায় আনতে আইন করার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করে দিয়েছি। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে জবাবদিহি, সুশাসন ও গতিশীলতা নিশ্চিৎ হয়েছে। এটা আগে ছিল না। যে যার মতো করে বিশ্ববিদ্যালয় করে। এক বিল্ডিংয়ে দেখা যায় তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়। এক বিল্ডিংয়ে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় কী শিক্ষা দেয় আমি জানি না। আমার কাছে অবাক লাগত শুনতে।

“যা হোক এখন একটা ডিসিপ্লিনে নিয়ে আসার চেষ্টা নিচ্ছি। আমরা চাচ্ছি, আমাদের মঞ্জুর কমিশন যেন ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী, শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ সংক্রান্ত অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন, ছাত্র-ছাত্রী তাদের সংখ্যা হিসাব করা।

“কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কত ছাত্র-ছাত্রী থাকবে সেটাও সীমিত করে দেওয়া প্রয়োজন। ঢালাওভাবে করলে আমি জানি না কীভাবে পড়াশোনা ঠিকমত হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা কঠিন না, এখন প্রযুক্তি এসে গেছে। অনলাইনে সবকিছুকেই নজরদারিতে রাখা যায়। কাজেই সেভাবে যাতে করতে পারে, সে ব্যবস্থা আমরা নিতে চাই।”

টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি সেটার জন্য ভালোভাবে নজরদারি করতে পারে, সেদিকে লক্ষ রেখে এটাকে (মঞ্জুরি কমিশনকে) আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সেটার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি, নেব।”

দেশের প্রতি বিভাগে একটি করে সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় একেকটা জেলা ভাগ করে দিচ্ছি, কোন জেলায় কোনটা হবে। তবে সব রাজধানীকেন্দ্রিক হবে না। শিক্ষার প্রসার আমরা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে চাই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করে পড়াশোনাকে বহুমুখীকরণ করতে চাই, যাতে দেশে বিদেশে কর্মসংস্থানের অনেক সুযোগ হবে।”

স্বর্ণপদকপ্রাপ্তরা বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমরা ২০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ করেছি। বদ্বীপের মানুষের সুরক্ষিত রাখা, জীবনমান উন্নত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করা, দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখা, সেদিকে লক্ষ রেখে আমি শতবর্ষের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি, তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।

“ভবিষ্যতে দেশটা কীভাবে চলবে তার একটা পরিকল্পনা আমরা রেখে যাচ্ছি। আমরা চাই, আমাদের ছেলে-মেয়েরা নিজেদের সেভাবে গড়ে তুলুক।”

শিক্ষা খাতে গবেষণা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “গবেষণা ছাড়া উৎকর্ষ অর্জন করা যায় না। আমরা ক্ষমতায় এসে গবেষণার জন্য আলাদা বরাদ্দ রেখেছি। শিক্ষা খাতে গবেষণাকে গুরুত্ব দিতে শিক্ষকদের অনুরোধ করব।

“আপনারাও চিন্তা করুন, শিক্ষার মান উন্নত করার জন্য ও শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার জন্য কী কী প্রয়োজন। যা প্রয়োজন আমরা তা-ই করব। সেটাই আমাদের নীতি।”