প্রদীপ জ্বালিয়ে অভিজিৎ রায়কে স্মরণ

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-02-26 22:34:00 BdST

bdnews24

পাঁচ বছর আগে বইমেলা থেকে ফেরার পথে জঙ্গি হামলায় নিহত ব্লগার ও মুক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায়কে স্মরণ করেছে গণজাগরণ মঞ্চ।

যে জায়গায় আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিজিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশের সেই স্থানে বুধবার সন্ধ্যায় শত শত মোমবাতি প্রজ্বালন ও ফুল দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারেরও দাবি জানানো হয় এই সমাবেশ থেকে।

ফুল আর মোমবাতি দিয়ে লেখা হয়েছিল ‘অভিজিৎ হত্যার বিচার চাই’। তার সামনে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে প্রয়াত এই লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

অভিজিতের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এই দলে ছিলেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, অভিজিৎ রায়ের ছোট ভাই অনুজিৎ রায়, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকী বিল্লাহ, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জীবনানন্দ জয়ন্ত, আকরামুল হক, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অণিক রায়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি আল কাদেরী জয়সহ বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার মানুষ।

ইমরান এইচ সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, “অভিজিৎ রায়কে পাঁচ বছর আগে ঠিক এই জায়গায় নিমর্মভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এদিনকে যদি দিবস বলতে হয় তাহলে হত্যা দিবসই বলতে হবে। কারণ তার তো কোনো মৃত্যু হয়নি। তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

“আজ পাঁচ বছর হয়ে গেল এখন পর্যন্ত তার হত্যার বিচার করা হয়নি। তার বাবা অজয় রায় ছেলের হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেননি। আমরা জানি না যে, কত দিন তার বিচারের দাবিতে আমাদের এভাবে দাঁড়াতে হবে।”

অভিজিৎ রায়ের ছোট ভাই অনুজিৎ রায় বলেন, “আসলে ভাই হারানোর বেদনা যে পায়নি তাকে বলে বোঝানো যাবে না। দুঃখজনক ঘটনা হল, আমি ভাই হারিয়েছি, মা হারিয়েছি এবং কিছু দিন আগে বাবাকেও হারালাম। প্রতি বছর এই সময়ে সাংবাদিকসহ অনেকে ফোন করে একই প্রশ্ন করে। তাদের একই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে আমিও যেন বিরক্তির মধ্যে রয়েছি। এতদিন পরও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি।

“বিচার অতি দ্রুত হলে একটু শান্তি পাব। তবে আপনারা যেন অভিজিৎ রায়কে ভুলে না যান। তার আদর্শের মাধ্যমে তাকে স্মরণ রাখবেন, আপনাদের প্রতি এটাই প্রত্যাশা থাকবে।”

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বইমেলা থেকে বেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় টিএসসির সামনে আসার পর অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যার ওপর হামলা হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান অভিজিৎ। গুরুতর আহত হন বন্যা।ওই ঘটনায় অভিজিতের বাবা শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গত বছর ১ আগস্ট ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

আসামিরা হলেন- বরখাস্তকৃত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ, আবু সিদ্দিক সোহেল (সাংগঠনিক নাম সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব), মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন (সাংগঠনিক নাম শাহরিয়ার), আরাফাত রহমান (সাংগঠনিক নাম সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস) ও শাফিউর রহমান ফারাবী।

আসামিদের মধ্যে প্রথম দুজন পলাতক আছেন।