বইমেলায় ভিড় বাড়লেও সন্তুষ্ট নন বিক্রেতারা

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-02-27 01:38:42 BdST

অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৫তম দিনে ভিড় বাড়লেও বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না প্রকাশকরা।

বেশ কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার কর্মকর্তারা বলেছেন, মেলা শেষ হতে চললেও এবছর তাদের বিক্রির লক্ষ্যের কাছেও যেতে পারেননি।

বিজয় প্রকাশনীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রবিউল ইসলাম বিডিনিউ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শেষের দিকে বইমেলার অনেক লোক আসছে। তবে আগের বছরের তুলনায় কম।

“আগের বছর এই সময় চাপে অবসর পেতাম না। কিন্তু এখন সেই চাপ নাই। মানুষ অনলাইনে ঘরে বসেই বই কিনে ফেলে অথবা অনলাইনে পছন্দ করে মেলায় কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রকাশনী থেকে বই কিনে নিয়ে যায়।”

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বুধবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় দর্শকের ভিড়। ছবি: মোস্তাফিজুর

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বুধবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় দর্শকের ভিড়। ছবি: মোস্তাফিজুর

জ্ঞানকোষ প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক ওয়াসিত তরফদার বলেন, “শেষ মুহুর্তে এসে বেচা-কেনা ভালোই হচ্ছে। তবে গতবারের তুলনায় আমাদের  টার্গেটের দ্বারে-কাছেও যেতে পারিনি।”

তবে কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার কর্মীরা বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।

অঙ্কুর প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, “প্রথম দিকে লোকজন এসে বই দেখে বা নাড়াচাড়া করে চলে যেত। এখন যারা আসে, অনেকেই বই কিনে। বসে থাকার কোনো ফুসরত পাই না। শেষ মুহূর্তে এসে বেশ জমেছে মেলা।”

মেলা ঘুরে দেখা যায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বাংলা একাডেমি পর্যন্ত সর্বত্র চষে বেড়াচ্ছেন অনেকে পছন্দের বইয়ের খোঁজে। শেষ মুহুর্তে এসে পাঠাগার বা ব্যক্তিগত বুক শেলফের জন্য এক সঙ্গে অনেক বই কেনার দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বুধবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় দর্শকের ভিড়। ছবি: মোস্তাফিজুর

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বুধবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় দর্শকের ভিড়। ছবি: মোস্তাফিজুর

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এলাকায় আমাদের একটি পাঠাগার আছে। পাঠাগারের জন্য অনেক বই নিয়েছি। বিশেষ করে যেহেতু সামনে মুজিববর্ষ, তাই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক বই কিনেছি।”

মেলায় নতুন বই  
বুধবার মেলায় মোখলেছুর রহমান তোতার ‘বদলে যাও বদলে দাও’, আর জে অহনার ‘অ্যান্টি ডিপ্রেশন’, সৈয়দ মনজুর কবিরের ‘সাদা পুলিশ’, আবুল কালাম আজাদের ‘সূর্য যাবে ছুটিতে’, শিরিন আখতার ইসলামের ‘অবসরের গান’সহ মোট ১৫৬ টি বই এসেছে। মেলায় এপর্যন্ত প্রকাশিত মোট বইয়ের সংখ্যা ৪২৩৯টি।
বিকালে মেলার মূল মঞ্চে হয় কামরুল হক রচিত ‘বঙ্গবন্ধু ও সংবাদপত্র : ছয় দফা থেকে গণঅভ্যুত্থান’ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সোহরাব হাসান। আলোচনা করেন মোরশেদ শফিউল হাসান ও হারুন হাবীব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কামাল লোহানী। এরপর কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও ছিল।