করোনাভাইরাস: আক্রান্ত বেড়ে ৩৩, মৃত্যু ৩ জনের

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-23 16:13:36 BdST

bdnews24

বাংলাদেশে আরও ছয়জনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে; আরও একজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট- আইইডিসিআর।

নতুন ছয়জনকে নিয়ে বাংলাদেশে মোট ৩৩ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ল, যাদের মধ্যে মোট পাঁচজন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু হওয়ায় দেশে কভিড-১৯ এ তিনজনের মৃত্যুর খবর এ পর্যন্ত নিশ্চিত করল আইইডিসিআর।

এর বাইরে সিলেট, খুলনা ও ভৈরবে আরও চারজন করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানালেও পরীক্ষা না হওয়ায় আইইডিসিআর এখনও তাদের নাম মৃতের তালিকায় আনেনি।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সোমবার এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআর ৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে।  তাদের মধ্যে একজন গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন।”

এছাড়া মোট ৫১ জনকে আইসোলেশনে এবং সংক্রমিত হতে পারেন এই ধারণা থেকে ৪৬ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে বলে তথ্য দেন অধ্যাপাক ফ্লোরা।

তিনি জানান, নতুন যে ৬ জন রোগীর মধ্যে কভিড-১৯ ধরা পড়েছে, তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী।

ছয়জনের মধ্যে দুই জনের দেশের বাইরে ভ্রমণের ইতিহাস ছিল। তাদের একজন ভারত থেকে, আরেকজন বাহরাইন থেকে এসেছেন।

নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১ জনের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ২ জনের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে এবং ১ জন সত্তরোর্ধ্ব।

এই নতুন রোগীদের মধ্যে একজন স্বাস্থ্যকর্মী। আর মোট আক্রান্তদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও দুজন নার্স রয়েছেন।

চীনের উহান থেকে বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৮ মার্চ প্রথম বাংলাদেশে তিনজন এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানায় আইইডিসিআর।

ডেল্টা হাসপাতালের চিকিৎসক আক্রান্ত, পরিচালক কোয়ারেন্টিনে

টোলারবাগে আরেক বৃদ্ধের মৃত্যু, পুলিশ বলছে করোনাভাইরাস  

টোলারবাগে করোনাভাইরাসে মৃত্যু নিয়ে বিস্তারিত জানালেন ছেলে

এ পর্যন্ত যে ৩৩ জনের সংক্রমণের তথ্য ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, তাদের বিষয়ে একটি বিশ্লেষণ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন ফ্লোরা।

>> আক্রান্তদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ পুরুষ, বাকি এক তৃতীয়াংশ নারী

>> তাদের মধ্যে দশ বছর বয়সের কম বয়সী আছে ২ জন। একজনের বয়স ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে, ৯ জন ২১-৩০ বছরের মধ্যে, ৯ জন ৩১-৪০ বছরের মধ্যে, ৫ জন ৪১-৫০ বছরের মধ্যে, ১ জন ৫১-৬০ বছরের মধ্যে এবং ৬ জন ষাটোর্ধ্ব।

>> আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ জন ঢাকার, ১০ জন মাদারীপুরের, ৩ জন নারায়ণগঞ্জের, ২ জন গাইবান্ধার, একজন কুমিল্লার, ১ জন গাজীপুরের এবং ১ জন চুয়াডাঙ্গায়।

>> এই ৩৩ জনের মধ্যে ১৩ জনের বিদেশে যাওয়ার ইতিহাস আছে।

>> তাদের মধ্যে ইতালি থেকে ৬ জন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ জন, ইউরোপের অন্য দেশ থেকে ২ জন, বাহরাইন থেকে ১ জন, ভারত থেকে ১ জন এবং কুয়েত থেকে ১ জন এসেছেন।

>> বাকি ২০ জন বিদেশফেরতদের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন।

>> এই ৩৩ জনের মধ্যে কোমরবিডি ( দীর্ঘমেয়াদী রোগ) রয়েছে ১১ জনের মধ্যে । কিডনির সমস্যার কারণে একজনের ডায়ালাইসিস লাগে। বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল।

দেড় শতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়া কভিড-১৯ রোগকে ইতোমধ্যে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মৃতের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে তিন লাখ।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকার আগেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র, প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ ঘোষণা করেছিল। পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় এখন ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবা সংস্থাগুলো এই ছুটির আওতায় থাকবে না। ছুটির সময় গণপরিবহন বন্ধ না হলেও চলাচল সীমিত হয়ে পড়বে।

করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে বা সন্দেহ হলে যোগাযোগের জন্য হটলাইন (৩৩৩, ১৬২৬৩) চালু করেছে আইইডিসিআর। তাতে ফোন করলে বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবেন আইইডিসিআরের কর্মীরা।

কেউ চাইলে iedcrcovid19@gmail.com ঠিকানায় ই-মেইল করে নিজের বক্তব্য জানাতে পারবেন। এছাড়া ফেইসবুক গ্রুপ Iedcr,COVID-19 Control Room এর ইনবক্সে সমস্যার কথা বলতে পারবেন।

প্রতিরোধে করণীয়

করোনা ভাইরাস নিয়ে ভীত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেওয়া কিছু পরামর্শ মেনে চলতে সবাইকে পরামর্শ দিয়েছে সরকার।

>> নিয়মিত জীবণুনাশক বা সাবান বা হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়া উচিত।

>> কাশি বা হাঁচি দিচ্ছেন এমন ব্যক্তি থেকে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন।

>> হাত না ধুয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

>> হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু বা হাতের কনুই দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে।

>> যেখানে সেখানে থুথু নিক্ষেপ করা যাবে না।

>> রান্না করার আগে ভালো করে খাবার ধুয়ে নিতে হবে।

>> যে কোনো খাবার ভালো করে সিদ্ধ করে রান্না করতে হবে।

>> অসুস্থ ব্যক্তি বা প্রাণীর সংস্পর্শে আসা যাবে না।

>> কাপড় একবার ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন।

>> বাড়ি এবং কর্মক্ষেত্র নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

>> বাইরে ব্যবহৃত জুতা ঘরে ব্যবহার করা যাবে না। খালি পায়ে হাঁটা যাবে না।

>> পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

>> জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। অন্যের সংস্পর্শ  থেকে দূরে থাকতে হবে।

>> স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুসরণ করে নিরাপদ থাকাই উত্তম পন্থা।

>> অসুস্থ বোধ করলে বাড়িতে অবস্থান করা উত্তম।

>> জনাকীর্ণ স্থানে সতর্ক থেকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

>> শিশু, বৃদ্ধ ও ক্রণিক রোগীদের অধিকতর সতর্ক থাকতে হবে।

>> নিজেকে নিরাপদ রাখতে বিদেশ ভ্রমণ না করাই ভালো।