মানুষকে ঘরে রাখতে স্থানীয় কমিটি কার্যকর: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-26 22:18:04 BdST

bdnews24

নভেল করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখায় বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মিরপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের  জীবাণুনাশক স্প্রে কার্যক্রম দেখতে এসে তিনি এই দাবি করেন।

করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঠেকাতে বিদেশ ফেরতদের ঘরে আবদ্ধ রাখতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভাগুলো কাজ করছে।

তাজুল বলেন, “স্থানীয় প্রতিনিধিরা কমিটি গঠন করে কাজ করছেন। বিদেশ থেকে যারা আসছেন, তারা যেন অন্তত ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকে। এছাড়াও ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে প্রচুর লোক গ্রামে গেছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের তাদের থেকে যুক্তিসঙ্গত দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

“কমিটিগুলো মনিটরিং করার জন্য ওভার টেলিফোন আমরা তথ্য নিচ্ছি, দিচ্ছি। যে কোনো পরামর্শ দিচ্ছি। বলা যেতে পারে, আগের তুলনায় কোয়ারেন্টিনের অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে।”

তাজুল বলেন, “পৃথিবীর মধ্যে একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও, আমরা সবাই সম্মিলিত আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করার পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত তার বিস্তার পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় নিয়ন্ত্রণে আছে। ”

কভিড-১৯ সংক্রমিত দেশগুলো থেকে প্রবাসীদের কেউ দেশে ফিরলে তাদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। কিন্তু সেই নির্দেশনা অমান্য করে প্রবাসীদের অনেকে সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে।

অনেক অনুরোধের পরও তারা তা না শুনলে সরকার কঠোর অবস্থানে গিয়ে জরিমানা ও পরে জেলের বিধান দেয়।

স্থানীয় প্রশাসনিক কমিটির কাজ প্রথম দিকে সহজ ছিল না বলে জানান মন্ত্রী তাজুল।

“কমিটি ফর্ম করার সাথে সাথে ওই মাত্রায় কাজ করতে পারে নাই। ‍বিদেশ থেকে যারা এসেছে, প্রথম দিকে তারা দায়িত্বহীন ছিল, তাদের বোঝানো কঠিন ছিল। তারপর সাধারণ জনগণও কনভিন্সড হল। তখন প্রবাসীরাও বুঝতে পেরেছে। তারা এখন হোম কোয়ারেন্টিনেই আছে। ”

বৃহস্পতিবার ৫টি ওয়াটার বাউজার গাড়িতে ঢাকা উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকায় জীবাণুনাশক স্প্রে (ক্লোরিন মিশ্রিত পানি) ছিটিয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ক্লোরিন মিশ্রিত পানি আদৌ কার্যকর হবে কি না- এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তাজুল বলেন, “আমি খবর নিয়েছি বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে, তারা ওয়ান পারসেন্ট ক্লোরিনের সাথে নাইনটি নাইন পারসেন্ট পানি মিশিয়ে ছিটায় ডিজইনফ্যাকটেড করার জন্য। আমরাও একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছি।

“আমি ব্যাংককের সাথে কথা বলেছি, তাইওয়ানের সাথে কথা বলেছি, জাপানের খবর নিয়েছি। তারও একই রকম ক্লোরিন মিশ্রিত পানি ছিটাচ্ছে। আমরা জানি যে ক্লোরিন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসকে প্রতিরোধ করে।”

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম।

ডিএনসিসি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে,  ডিএনসিসির ৫টি ওয়াটার বাওজারে ১৩টি ট্রিপে  উত্তরা কুয়েত মৈত্রী হসপিটাল, আশকোনা, সেক্টর ১১ ও অন্যান্য এলাকা; মিরপুর১-২-৬-১০, শিয়ালবাড়ি ও অন্যান্য পার্শ্ববর্তী এলাকা; মিরপুর টোলারবাগ ইফেক্টিভ এলাকা, আগারগাঁওয়ের তালতলা,  ৬০ ফিট এলাকা,কল্যাণপুরে মডেল একাডেমি, বনানী, গুলশান, ইউনাইটেড হসপিটাল ও পার্শ্ববর্তী এলাকা, বসুন্ধরা ডি ব্লক ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জীবানুনাশক ছিটানো হয়েছে।

প্রতিটি ওয়াটার বাওজারে ১০ হাজার লিটার পানিতে ৭৫ কেজি ব্লিচিং পাউডার মেশানো হয়েছে। প্রতিটি গাড়ি ১৫০০০০ বর্গফুট এলাকা জীবাণুনাশক ছিটাতে পারে।