করোনাভাইরাসে গুটিয়ে গেছে অপরাধীরাও?

  • লিটন হায়দার, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-30 00:11:23 BdST

bdnews24
ঢাকার পুলিশ বক্সগুলোতেও এখন পুলিশ সদস্যদের প্রায় অলস সময় কাটছে।

ঢাকা নগরীর ৫১টি থানা থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার আসামিদের নেওয়া হয় পুরান ঢাকার আদালতে; এই সংখ্যাটি দিনে দুইশ থেকে আড়াইশ জনের মতো হয়। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রোববার এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২৬।

আদালতের হাজতখানার মতো থানার হাজতগুলোও প্রায় ফাঁকা। মামলার সংখ্যাও নগন্য। আর পুলিশও এখন ব্যস্ত মানুষকে ঘরে রাখার নির্দেশনা বাস্তবায়নে।

করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঠেকাতে সারাদেশে সবার ঘরে থাকার নির্দেশনার মধ্যে অপরাধীরাও গুটিয়ে গেছে বলে দাবি করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা; যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতেও থানা সচল থাকলেও ছোটখাট বিষয় সেখানে যাওয়াও দুষ্কর।

ডিএমপি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীর প্রতিটি থানায় প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে তিনটি করে মামলা হয়ে থাকে। ছিনতাই, চুরি, মাদকের মামলার সঙ্গে মারামারি মামলা রয়েছে এর মধ্যে, নারী নির্যাতনের মামলাও হয়।

সম্প্রতি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এক সহকারী কমিশনার বিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, তার এলাকায় মামলার ৬০ শতাংশই মাদকের মামলা।

রোববার ১০টি থানার ওসিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৩/৪ দিনে সেই পরিস্থিতি পুরোই বদলে গেছে। কোনো মামলা নেই, হাঙ্গামা নেই। পুরানো মামলার কিছু আসামি ধরলেও সংখ্যায় তা নগণ্য।

ছুটির মধ্যে সুনসান পুরান ঢাকার আদালতে রোববারও দুজন হাকিম বসছেন; তাদের সামনে হাজির করা হয় দুই নারীসহ ২৬ আসামিকে।

ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতের হাজতখানার দায়িত্বরত এসআই শহীদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দুই ম্যাজিস্ট্রেট কাউকে জামিন দেন, আর কারও আবেদন নাকচ করে দেন।

সাধারণ দিনের তুলনায় আসামির সংখ্যা নগণ্য উল্লেখ করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “থানা বা গোয়েন্দা পুলিশ থেকে প্রতিদিন অন্তত সোয়া দুইশ আসামি আসত।”

আদালত পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) জাফর হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে অপরাধীরা বের হচ্ছে না বলেই অপরাধ কমে গেছে। এ কারণে আসামির সংখ্যাও কম।”

থানাগুলো থেকে যে সব আসামি আদালতে পাঠানো হয়, তার একটি বড় অংশ ডিএমপি অধ্যাদেশের বিভিন্ ধারায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি। সন্দেহজনক চলাফেরা, ফুটপাত দখলে রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা, জুয়া খেলাসহ বিভিন্ন অভিযোগের আসামি তারা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিএমপি অধ্যাদেশ সেভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শাহ আলী থানার ওসি সালাউদ্দিন মিয়া।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাস্তা ফাঁকা       , পরিস্থিতি অন্যরকম।”

গত দুইদিনে তার থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানান সালাউদ্দিন।

গত দুই দিনে পল্লবী থানায়ও কোনো মামলা হয়নি।

ওই থানার ওসি নজরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,  তারা এখন করোনাভাইরাস বিষয়ে জনসচেতনতার কাজে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তবে শেরে বাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, গত শনিবার এবং রোববার তার থানায় দুটি মামলা হয়েছে। একটি মারামারি এবং একটি নারী নির্যাতন আইনে। তবে অন্য দিনের মতো ব্যস্ততা নেই।

বাড্ডা থানায়ও গত ‍দুই দিনে কোনো মামলা হয়নি। তবে থানা ওসি মো. পারভেজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, পুরনো মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম, হাজারীবাগ থানার ওসি ইকরাম আলী, কামরাঙ্গীরচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তফা আনোয়ার, ডেমরা থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমানও মামলাহীন অবস্থার কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।

কদমতলী থানায় রোববার কোনো মামলা না হলেও শনিবার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে বলে জানান ওসি জামাল উদ্দিন মীর।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তারা করোনাভাইরাসের বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশপাশি অপরাধ দমনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজও করছে। তারা রোববার নারী নির্যাতন মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছেন।