জ্বর হওয়ায় রিমান্ডের মাঝপথেই কারাগারে পাপিয়া

  • গোলাম মুজতবা ধ্রুব, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-04-01 15:54:25 BdST

bdnews24
বুধবার আদালতে শামিমা নূর পাপিয়া

নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপের দ্বিতীয় দফার হেফাজতে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়াকে আপাতত আর জিজ্ঞাসাবাদ করছে না র‌্যাব।

পরিস্থিতি ভালো হলে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফি উল্লাহ বুলবুল।

বুধবার তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রিমান্ডের তৃতীয় দিন থেকেই তার জ্বর ছিল। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিনা সেটা পরীক্ষাও করা হয়েছে। পরীক্ষায় নেগেটিভ রেজাল্ট এসেছে। আমরা এরপরই তাকে কারাগারে ফেরত পাঠিয়েছি।”

‘পরিস্থিতি ভালো’ হলে আবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে আদালতের মাধ্যমে পাপিয়াকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। 

ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন কয়েকদিন আগে র‌্যাবের পক্ষ থেকে পাপিয়াকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা করা হয়েছিল। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

“২০ মার্চ আদালত থেকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ আসে,” বলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পরে তাকে কাশিমপুরের কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।

গত ১১ মার্চ দ্বিতীয় দফায় পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীকে (মতি সুমন) তিন মামলায় ৫ দিন করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পায় র‌্যাব।

এর আগেও প্রথম দফায় দুইজনকে ১৫ দিনের রিমান্ডে পেয়েছিল পুলিশ।

ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি পাপিয়া, তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী (মতি সুমন) এবং তাদের দুই সহযোগী গ্রেপ্তার হন।

বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের সময় পাপিয়াদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলঙ্কান রুপি ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা হয় জাল নোটের মামলাটি, যাতে পাপিয়া ও তার স্বামীর সঙ্গে তার দুই সহযোগীকেও আসামি করা হয়।

আর ওয়েস্টিন হোটেলে পাপিয়ার ভাড়া করা প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইট এবং ইন্দিরা রোডে পাপিয়াদের দুটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, ২০ রাউন্ড গুলি, পাঁচ বোতল মদ উদ্ধারের ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা হয় দুটি মামলা। অস্ত্র ও মাদক আইনের এ দুই মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামীকেই কেবল আসামি করা হয়।

তিনটি মামলাই তদন্ত করছে র‌্যাব।

এছাড়া গত ২১ মার্চ পাপিয়া ও স্বামীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে গুলশান শানায় আরেকটি মামলা করেছে সিআইডি।