ঘূর্ণিঝড়ে জানমাল রক্ষায় প্রস্তুতি রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-20 16:17:43 BdST

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ এর কবল থেকে জানমাল রক্ষায় সরকার সম্ভব সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সভায় যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, “সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রস্তুতি আমাদের আছে, এখন বাকিটা আল্লাহ ভরসা। এটা প্রকৃতির নিয়ম, প্রকৃতির খেলা, তবুও আমরা সব সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করি যে, এর থেকে যেন আমাদের জানমাল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আর এই ঝড়ের শক্তিটা যেন আস্তে আস্তে কমে যায় বাংলাদেশে আসতে আসতে, সেটাই আমরা কামনা করি।

“করোনাভাইরাসের দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে ব্যাপকভাবে যখন সরকার কাজ করে যাচ্ছে, তখন এই দুর্যোগটা, অর্থাৎ এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এখানে কারো হাত নেই, এটা আমরা ঠেকাতে পারব না। কিন্তু মানুষের জানমাল কতটুকু রক্ষা করা যায় সেই বিষয়ে ব্যবস্থাটা আমরা নিতে পারি এবং সেটা আমরা নিয়ে যাচ্ছি।”

আবহাওয়া অফিস বলছে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তখন এর বাতাসের শক্তি থাকতে পারে ঘণ্টায় প্রায় দেড়শ কিলোমিটার বা তার বেশি।

ঝড়ের সময় উপকূলীয় জেলার দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০-১৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

এই ঝড়ের গতিবিধি বোঝা মুশকিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রস্তুতি তো সম্পূর্ণ নিতে হবে এবং যখন আমাদের দেশের উপর আঘাত করবে শুধু চিন্তার বিষয় থাকবে তখন যদি পূর্ণ জোয়ার বা পূর্ণিমা থাকে তখন কিন্তু আমাদের জন্য আরো ভয়ংকর হয়ে যায়। কাজেই আসলে প্রকৃতির খেলা বোঝা মুশকিল। তারপরও আমি মনে করব আমাদের তরফ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সভায় দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় নেওয়া ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৩ হাজার ২৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ২০ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমি সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখছি, প্রত্যেকে আমাকে খবর পাঠাচ্ছে, সেজন্য ধন্যবাদ এবং যেটুকু প্রস্তুতি, এর জন্য আমি সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই যে যথাযথ ব্যবস্থা আপনারা নিয়ে নিচ্ছেন।”

এই ধরনের দুর্যোগে  আগে থেকেই কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে সেজন্য সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ছবি: বাসস

ছবি: বাসস

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, “যে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল এবং সেটা এমন একটা ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়, দুর্ভাগ্য যে তখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। তারা অনেকে জানতই না যে ঝড় আসছে বা এটাতে কোনো রকম কোনো পদক্ষেপ তারা নেয়নি বা পূর্ববর্তী কোনো প্রস্তুতিই তাদের ছিল না।

“ওই ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের এয়ারফোর্সের বিমান নষ্ট হয়ে যায়, নেভির জাহাজ নষ্ট হয়ে যায়, আমাদের প্রচুর সম্পদ নষ্ট হয়, মানুষ মারা যায়, মানুষের লাশ, শিশুর লাশ, পশুর লাশ একই সাথে পানিতে ভাসতে আমি দেখেছি। আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে তখনকার সরকারের পূর্বেই অনেক কষ্ট করে মাছের ট্রলারে করে বিভিন্ন দ্বীপ অঞ্চলে পৌঁছে যাই, ত্রাণ বিতরণের কাজ করি। তখন থেকেই আমাদের একটা পরিকল্পনা ছিল এই ধরনের দুর্যোগ এলে আমাদের কি করনীয়।”

তিনি বলেন, “এখনআমাদের যে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল এবং প্রত্যেক এলাকাভিত্তিক যে কমিটিগুলো আছে, প্রত্যেক এলাকায়ই আমাদের যারা দায়িত্বে, প্রত্যেকেই এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন।”

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের আগে আবহাওয়া দপ্তরের অবস্থা করুণ ছিল উল্লেখ করে সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কোনো রকম আধুনিক ব্যবস্থা ছিলই না। এরপর আমরা এটাকে আধুনিক করার চেষ্টা করেছি। আর এখন আমরা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি। আন্তর্জাতিকভাবে বেশ কিছু চুক্তিও আমরা করেছি, প্রতিবেশি দেশের সাথেও আমরা করেছি, যাতে তথ্যগুলো সময় মতো আমরা সংগ্রহ করতে পারি।”

গণভবনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান।
সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, তিন বাহিনী প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।