শবে কদরে মসজিদে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-20 16:51:01 BdST

bdnews24
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এসেছে শবে কদরের রাত। ফাইল ছবি

কদরের রাতে মসজিদে কোনো বিশেষ আয়োজন থাকলে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে তা করতে হবে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

ফাউন্ডেশেরন মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বায়তুল মোকাররমে বুধবার শবে কদরে বিশেষ কোনো আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়নি।

“মসজিদগুলোতে যদি কোনো কিছু করতে চায় তবে স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মানতে হবে। স্বাস্থ্যবিধির যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা অবশ্যই পালন করতে হবে।”

মুসলমানদের কাছে শবে কদর মহিমান্বিত একটি রাত। এই রাতে কোরআন নাজিল হয়েছিল। সে কারণে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে এই রাতটি পার করবেন ধর্মপ্রাণ অনেক মুসলমান।

অন্যান্য বছর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সর্বত্রই মসজিদে মসজিদে এশা ও তারাবির নামাজের পর মিলাদ এবং বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

তবে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ বছরের প্রেক্ষাপট ভিন্ন এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমেও বিশেষ আয়োজন থাকছে না।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত ৬ এপ্রিল দেশের সব মসজিদে বাইরে থেকে মুসল্লি ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার।

ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ মসজিদের খাদেমরা মিলে মোট কতজন ভেতরে জামাতে অংশ নিতে পারবেন, তার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। রোজার শুরুতে তারাবির নামাজের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এক মাসের মাথায় গত ৬ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে আবার জামাতে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

সে সময় মসজিদের নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানার যে শর্তগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো এবার ঈদের জামাতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

এবার রোজার ঈদের দিন ঈদগাহ বা খোলা জায়গার বদলে বাড়ির কাছে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়তে বলেছে সরকার।

মসজিদে পলনীয় নিয়মগুলো

১. মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। বাইরে থেকে যারা নামাজে যাবেন, তাদের নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে যেতে হবে।

২. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার অথবা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সবান-পানি রাখতে হবে। অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে যেতে হবে।

৩. প্রত্যেককে নিজের বাসা থেকে ওজু করে সুন্নত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে যাবেন এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

৪. কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব অর্থাৎ তিন ফুট দূরত্ব রেখে দাঁড়াতে হবে।

৫. এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

৬. শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।

৭. মসজিদের ওজুখানায় সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ বা টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

৮. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

৯. মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা যাবে না।

১০. খতিব, ইমাম ও মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

এসব নির্দেশনা লংঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃখলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে সতর্ক করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।