টেলিফোন বিভ্রাটে দুর্যোগ সাড়াদান কেন্দ্র

  • শহীদুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-20 18:14:54 BdST

দুর্যোগের সময় সারা দেশ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে তা সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র (এনডিআরসিসি) ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ আঘাত হানার আগেই টেলিফোন নিয়ে বিভ্রাটে পড়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, এনডিআরসিসিতে যোগাযোগের তিনটি ল্যান্ড ফোনের দুটি বিকল। করোনাভাইরাস সঙ্কেটের মধ্যে ‘ফোন ঠিক করার লোক না পাওয়ায়’ এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

মাঠ প্রশাসন থেকে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার তথ্য সংগ্রহ এবং দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সমন্বয় করতে ২০১১ সালের ২৯ মে তখনকার খাদ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এনডিআরসিসির উদ্বোধন করেন।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ বাংলাদেশে আঘাত হানার আগে উপকূলীয় অঞ্চলের কতজন মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে সেই তথ্য জানতে বুধবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম থেকে এনডিআরসিসির একটি নম্বরে ফোন করা হয়। তখন একজন জানান, তথ্যগুলো একীভূত করা হচ্ছে, আধাঘণ্টা পরে ফোন করলে জানানো যাবে।

এরপর ঠিক ১০টা ২৯ মিনিটে সেই নম্বরে ফোন করলে জানানো হয়, “তথ্যগুলো মেইল করা হয়েছে।” মেইল পাওয়া যায়নি জানানোর পর এনডিআরসিসির মেইলে একটি মেইল পাঠাতে বলা হয়।

এরপর ওই মেইলে এই প্রতিবেদকের মেইল অ্যাড্রেস দিয়েও তথ্য না পেয়ে ওই নম্বরে আবার যোগাযোগ করলে বলা হয়, ব্যক্তিগত মেইলে তথ্যগুলো পাঠানো হবে কি না, তা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মেইলে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে এনডিআরসিসির তিনটি ল্যান্ড ফোন নম্বরে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দফায় দফায় ফোন করা হলে ফোন ধরা হয় তিনবার। কিন্তু কোনোবারই কারও কথা শোনা যাচ্ছিল না।

পরে জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্রের অতিরিক্ত সচিব (এনডিআরসিসি ও মিডিয়া সেল) শাহ মোহাম্মদ নাছিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমাদের বিটিসিএল নম্বরগুলোতে ডিসটার্ব হয়। একটা ডিসফাংশনাল অবস্থায় আছে, আরেকটায় রিং যায় কিন্তু রিং বাজে না। সময় খারাপ হলে যা হয়, বোঝেন তো।”

তথ্যের জন্য জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্রের উপসচিব কাজী তাসমীন আরা আজমিরীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন অতিরিক্ত সচিব।

এরপর বেলা ১২টায় অতিরিক্ত সচিবের রেফারেন্সে উপ সচিব আজমিরীর সঙ্গে কথা বলে সকাল ৯টা পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া মানুষের সংখ্যাটি জানা সম্ভব হয়।

এনডিআরসিসিতে ফোন করে সাড়া মিলছে না কেন, এ প্রশ্নে তাসমীন আরা আজমিরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের দুটি ল্যান্ড ফোন নষ্ট। তিন নম্বর নম্বরটিতে আপনি কয়েকবার ফোন করেছেন, আমার লোকজন ধরেছিল, আমি তখন সামনেই ছিলাম।”

ফোন রিসিভ হলেও কোনো কথা শোনা যায়নি জানানোর পর উপসচিব বলেন, “করোনার কারণে ফোন ঠিক করতে কাউকে পাওয়াও যাচ্ছে না।”

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ শক্তিশালী হওয়ার পর এনডিআরসি ২৪ ঘণ্টা খোলা রেখে ১৮ থেকে ২২ মে পর্যন্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ভাগ দিয়ে গত ১৭ মে অফিস আদেশ জারি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৩টা, বিকাল ৩টা থেকে রাত ১০টা, রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত তিন শিফটে ছয়জন কর্মকর্তার সেখানে দায়িত্বে থাকার কথা। তাদের তত্ত্বাবধানকারী হিসেবে রাখা হয়েছে একজন উপসচিবকে।

বুধবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সুকুমার বিকাশ নাথ এবং সহকারী হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা পার্থ কুমার ধরের এনডিআরসিসি-তে দায়িত্ব দেওয়া আছে।

ল্যান্ড ফোনে সাড়া না পেয়ে সুকুমারের মোবাইলে ফোন করলে তিনি জানান, তিনি এনডিআরসিসিতে নেই, ‘নিচে’ (মন্ত্রণালয়ে) ডিউটি করছেন। পার্থ কুমারও ‘নিচে’ ডিউটিতে আছেন বলে জানান তিনি।

সচিবালয়ে চার নম্বর ভবনের পঞ্চম তলায় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্রের অফিস হলেও এই ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অফিস।

রোস্টারে থাকা কর্মকর্তারা কেন এনডিআরসিসিতে দায়িত্বে নেই, সেই প্রশ্নে অতিরিক্ত সচিব নাছিম স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।

তিনি বলেন, “আমি বুঝেছি, যারা মিডনাইটে ডিউটি করে তারা…।”

এরপর করোনাভাইরাস সঙ্কটে কীভাবে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে সে বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিটিসিএলের পরিচালক (জনসংযোগ ও প্রকাশনা) মীর মোহাম্মদ মোরশেদ সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র (এনডিআরসিসি) থেকে টেলিফোন নিয়ে বিভ্রাটের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবু সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাদের সংযোগ পরীক্ষা করে সব চালু অবস্থায় পাওয়া গেছে, কোনো অসুবিধা নেই।”