আম্পান পরবর্তী উদ্ধার-ত্রাণ কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনী

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-22 00:52:52 BdST

ঘূর্ণিঝড় আম্পান পরবর্তী সময়ে জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের দিক নির্দেশনায় সেনাবাহিনী আগেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল।

“বর্তমানে তারা ঘূর্ণিঝড় দুর্গত এলাকাগুলোতে অসামরিক প্রশাসনের সাথে যৌথভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করছে। ইতোমধ্যে দুর্যোগ মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর ১৪৬টি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল স্বল্প সময়ে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।”

উপদ্রুত এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দিতে সেনাবাহিনীর ৭৬টি মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ঘূর্ণিঝড় কবলিত স্থানগুলোতে খাদ্য সহায়তা হিসেবে সেনাবাহিনীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ১২ হাজার ৫০০ প্যাকেট ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ১৬টি ওয়াটার পিউরিফিকেশন প্ল্যান্ট ও ১৪টি ওয়াটার বাউজারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।

পাশাপাশি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০২৭টি যানবাহন নিয়ে মোট ৫৩১টি টহল ইউনিট ৬২টি জেলায় অসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় কাজ করছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সেখানে বলা হয়, এসব টহল ইউনিট করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়ার জন্য অসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, উপকূলীয় জেলা ভোলা ও হাতিয়ায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার জন্য নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম নৌ জেটি ত্যাগ করেছে। নৌবাহিনীর জাহাজ এলসিইউ-৩ ভোলা গেছে ৬০০ প্যাকেট ত্রাণ নিয়ে; আর এলসিইউ-৪ হাতিয়া গেছে ৬০০ প্যাকেট ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে।

অন্যদিকে খুলনা নৌ অঞ্চল থেকে সাতক্ষীরার গাবুরা ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রাণ ও পূনর্বাসন কাজে সহায়তা জন্য ২২ সদস্যের একটি নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য ৭ সদস্যের একটি ডাইভিং টিম সাতক্ষীরায় গেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের অন্যান্য জাহাজও দুর্গত এলাকায় জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা দিতে যাবে। অন্যদিকে খুলনা নৌ অঞ্চল থেকে বানৌজা কপোতাক্ষ ২০০ প্যাকেট ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে পটুয়াখালী এবং বানৌজা পদ্মা ৩৫০ প্যাকেট ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে বরিশালে যাবে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের নির্দেশনায় একটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান, একটি এমআই-১৭এসএইচ হেলিকপ্টার, একটি অগাস্টা-১১৯ হেলিকপ্টার এবং একটি বেল-২১২ হেলিকপ্টার ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের জন্য ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনা, নোয়াখালী, ঝালকাঠি, কুয়াকাটা ও সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করে। পরে কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষয়ক্ষতির ‘বাস্তবচিত্র যথাযথভাবে’ পেশ করে।

এছাড়া চারজন কর্মকর্তা, ৮১ জন বিমানসেনা ও ৩৪ জন অসামরিক সদস্য মিলিয়ে বিমানবাহিনীর ১১৯ সদস্যের একটি দল আম্পানপরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে সাতক্ষীরায় গেছেন। বিমানবাহিনীর ৬টি পরিবহন বিমান এবং ২৯টি হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বাশারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেল গঠনসহ সব ঘাঁটিতে ২৪ ঘণ্টা অপস রুম খোলা হয়েছে।