ভোর থেকে লকডাউনে যাচ্ছে ওয়ারীর ‘রেড জোন’

  • সুমন মাহমুদ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-07-03 17:01:06 BdST

করোনাভাইরাস বিস্তারের ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত পুরান ঢাকার ওয়ারীর বাসিন্দাদের টানা ২১ দিনের ‘ঘরবন্দি’ দশা শুরু হচ্ছে শনিবার।

ভোর ৬টা থেকে সেখানে শুরু হচ্ছে ‘লকডাউন’। এই সময়ে সেখানে স্বাভাবিক জীবনযাপনে থাকবে কড়াকড়ি, যা চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের টিপু সুলতান রোড, জাহাঙ্গীর রোড, ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে (জয়কালী মন্দির থেকে বলধা গার্ডেন) আউটার রোড এবং ইনার রোড হিসেবে লারমিনি রোড, হরে রোড, ওয়ার রোড, র্যানকিন রোড এবং নওয়াব রোড এই রেড জোনের আওতায় পড়বে।

শুক্রবার এসব এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে বাঁশ দিয়ে বানানো হচ্ছে ব্যারিকেড। মোড়ে মোড়ে টানানো হয়েছে ‘লকডাউন’ লেখা ব্যানার।

অবরুদ্ধ লাল অঞ্চলে ২১ দিন থাকবে সাধারণ ছুটি। এলাকার সরকারি-বেসরকারি সব অফিস-কারখানা বন্ধ থাকবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা এ এলাকায় বসবাস করেন, তারাও থাকবেন ছুটির আওতায়।

দোকান-পাট, বিপণি বিতান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখতে হবে, খোলা থাকবে শুধু ওষুধের দোকান।

পুলিশ জানিয়েছে, লকডাউন শুরু হলে রেড জোনে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হওয়া মানা। এসব এলাকার ভেতরে সব ধরনের চলাচল বন্ধ, প্রবেশ বা বের হওয়ার সুযোগ থাকবে নিয়ন্ত্রিত।

২১ দিনের লকডাউনের জন্য প্রস্তুতি নিতে র্যানকিন স্ট্রিটের একটি সপার শপে বেলা সাড়ে ১১টায় কেনাকাটার ভিড় দেখা যায়।

লারমিনি স্ট্রিটের একটি অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘কালকে থেকে লকডাউন শুরু, সবকিছু বন্ধ থাকবে। চাল, ডাল, চিনি, লবণ, আলু, পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে রাখতে হচ্ছে।”

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে লকডাউন চলে। এরপর বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এখন এলাকাভিত্তিক লেকডাউন হচ্ছে। 

এর আগে ঢাকার রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের পরীক্ষামূলকভাবে রেড জোন ঘোষণা করা ২১ দিন লকডাউন চলে। শনিবার থেকে তা শুরু হচ্ছে ওয়ারীতে।

টিপু সুলতান রোডের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা নাবিল আহমেদ বলেন, “ওই সময় (মার্চ-এপ্রিল) তো আসলে যে রকম লকডাউন হয়েছে, সেটা নাকি এবার হবে না। সব কিছু নাকি বন্ধ থাকবে। রাস্তায় নাকি হাঁটা-চলাও করা যাবে না।

“কমিশনারের লোকজন মাইকিং করছেন বার বার। বিষয়টা তো সিরিয়াস মনে হচ্ছে। ঘরের ভেতরে ২১ দিন পরিবার নিয়ে কাটাতে হবে।”

বলধা গার্ডেনের কাছে রিকশায় করে মাইকিংয়ে বলা হচ্ছিল- ‘একটি জরুরি ঘোষণা, আগামীকাল সকাল ৬টা থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত রাজধানীর ওয়ারী এলাকা ২১ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হল। লকডাউন চলাকালে সমস্ত কার্যকলাপ বন্ধ থাকিবে। রেড জোন চিহ্নিত এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। সকলকে ঘরে থাকার অনুরোধ করা যাচ্ছে।

‘লকডাউন’ বাস্তবায়নে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি থাকবে সেনাবাহিনীর টহল। এছাড়া এলাকার ভেতরে থাকবেন স্বেচ্ছাসেবীরা। বলধা গার্ডেনের কাছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও পুলিশের একটি কন্ট্রোল রুম থাকবে।

ওয়ারীর রেড জোনে তিন দিক থেকে আসা ২১টি পয়েন্টের রাস্তা-অলি-গলির প্রবেশ পথ বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ থাকবে। প্রবেশ পথ খোলা থাকবে দুটি। এলাকার বাসিন্দারা কেউ জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে চাইলে উপযুক্ত প্রমাণপত্র লাগবে। ই-কর্মাসের মাধ্যমে আসা জরুরি জিনিসপত্র বাসা-বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

লকডাউন চলাকালে করোনাভাইরাসের পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের একটি বুথ থাকবে এ এলাকায়। সিটি করপোরেশনের মহানগর জেনারেল হাসপাতালে আক্রান্তদের আইসোলেশনের ব্যবস্থাও হয়েছে।

র্যানকিং স্ট্রিটের বাসিন্দা দেবাশীষ রায় বলেন, “গতকাল আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে এসে স্বেচ্ছাসেবকরা বলে গেছেন, জুররি প্রয়োজনে কিছু লাগলে তারা দিয়ে যাবেন। সেজন্য নির্ধারিত নম্বরে ফোন করে অর্ডার দিতে হবে।”

পাকিস্তান আমলে এবং স্বাধীনতার পরেও ঢাকার ওয়ারী এলাকা, বিশেষ করে র্যানকিন স্ট্রিট ও লারমিনি স্ট্রিট পরিচিত ছিল অভিজাত এলাকা হিসেবে। এখনও এ এলাকার রাস্তাগুলো পুরান ঢাকার অন্য এলাকার চেয়ে চওড়া, বাড়িঘরগুলো ছিমছাম।

বেশ কয়েকটি শপিংমল, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শো-রুম এবং ফাস্ট ফুডের দোকান রয়েছে এ এলাকায়। তবে লকডাউন শুরুর আগের দিন সড়ক ও অলি-গলিগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা।

স্থানীয় কাউন্সিলর সারোয়ার হাসান আলো বলেন, “সব প্রস্তুতি আমাদের শেষ পর্যায়। ভোর থেকে ২১ দিনের কার্য্ক্রম আমরা সুন্দরভাবে শুরু করতে পারব। সিটি মেয়র সব কিছু তদারকি করছেন। টাইম-টু টাইম খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।”