পাপুলের বিষয়ে তদন্তে সিআইডি

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-07-06 21:53:51 BdST

bdnews24
সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মাহবুবুর রহমান

মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মাহবুবুর রহমান এ তথ্য জানান।

মালিবাগে সিআইডি সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কাজ করছি। একটু তো সময় দিতে হবে, এটার একটা প্রক্রিয়া আছে। মুদ্রাপাচার ডিভিশন অ্যাক্ট অনুযায়ী কিছু প্রক্রিয়া আছে। প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ না করলে আদালতে গিয়ে সুবিধা পেয়ে যাবে।

“এটার আপডেট কিছু হলে আমরা আপনাদের জানাব।”

কুয়েতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সংসদ সদস্য শহীদ ইসলাম পাপুল

কুয়েতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সংসদ সদস্য শহীদ ইসলাম পাপুল

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি রয়েছে।

পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন। ১৭ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর এখন তাকে রাখা হয়েছে কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “পাপুলের বিষয়ে নিয়ম অনুসারে যা যা করার করা হচ্ছে। ইত্যেমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি এবং সময়মতো জানানো হবে।

পাপুলের কোম্পানির ১৩৮ কোটি টাকা ‘জব্দ হচ্ছে’

“পাপুলের বিষয়ে আমি একটা কথাই বলব, ওয়েট অ্যান্ড সি। একটু সময় দিন আমাদের। দ্রুততর সময়ে তথ্য-প্রমাণসহ আপনাদের জানাব, ধৈর্য ধরেন।”

এদিকে লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা তদন্তে সেদেশে মানবপাচারের তিন ‘হোতাকে’ শনাক্ত করেছে সিআইডি।

এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি ইমতিয়াজ বলেন, “তিনজনের ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে, যখন মামলা রুজু করা হবে তখন তাদের নাম প্রকাশ করা হবে। তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে এই তথ্য শেয়ার করা সম্ভব  না।”

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি প্রধান তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বলেন, “আগে ৬০ বা ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে মৌখিক স্বীকারোক্তির ওপর সিআইডি নির্ভর করত। সেখানে এখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ফরেনসিক সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা চলছে।”

সিআইডি ২২ ধরনের মামলা নিয়ে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ৮২ শতাংশ মামলায় সিআইডি অভিযোগপত্র দিয়েছে, তবে সাজা হয়েছে ২৪ শতাংশ।

সাজার হার অন্যান্য তদন্ত সংস্থার চেয়ে বেশি হলেও এই হার কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

অতিরিক্ত আইজিপি মাহবুবুর রহমান বলেন, “কেন শাস্তির হার কম, তা জানতে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। বিচারক ও আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত কমিটি মাসখানেকের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।”

মোট তিন হাজার ১০৮ জন জনবল নিয়ে সিআইডির কার্যক্রম চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সিআইডি সাইবার থানা করা হবে এবং তা ঢাকায় হবে।

“এই থানা অন্যান্য গতানুগতিক থানার মতো হবে না। একটু ভিন্ন রকম হবে, এই সাইবার থানা আর অনলাইনে অভিযোগ করতে পারবেন ভুক্তভোগীরা।”

লিবিয়ার ঘটনায় এই পর্যন্ত হওয়া ২৬টি মামলার মধ্যে সিআইডি ১৫টি মামলা তদন্ত করছে বলে জানান মাহবুবুর রহমান। এ ঘটনায় মোট যে ৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে ৩৬ জনকে।

সিআইডির হাতে গ্রেপ্তারদের মধ্যে ২০ জন দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

গত ২৮ মে লিবিয়ার ত্রিপোলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর মিজদাহতে ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে মানবপাচারকারী ও তাদের স্বজনরা। ওই ঘটনায় চার আফ্রিকান অভিবাসীও নিহত হন।

ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একজনের বরাতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উন্নত জীবিকার সন্ধানে ইউরোপ যাওয়ার জন্য লিবিয়ায় দুর্গম পথ পাড়ি দিচ্ছিলেন ৩৮ বাংলাদেশি। বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে মানবপাচারকারীরা তাদের ত্রিপোলি নিয়ে যাচ্ছিল।

ত্রিপোলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর মিজদাহতে ওই দলটি লিবিয়ার মিলিশিয়া বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়। তখন পাচারকারীরা আরও টাকা দাবি করে।

এ নিয়ে বচসার মধ্যে আফ্রিকার মূল পাচারকারীকে মেরে ফেলা হলে তার পরিবার এবং বাকি পাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ৩০ জনকে হত্যা করে, আরও ১১ জন আহত হন।