লাজ ফার্মার কাকরাইল ফ্রাঞ্চাইজিকে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-07-13 19:59:03 BdST

অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার অপরাধে লাজ ফার্মার ঢাকার কাকরাইল ফ্রাঞ্চাইজিকে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার বিকালে র‌্যাব-৩ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) যৌথভাবে ওষুধের দোকানটিতে অভিযান চালায়।  

র‌্যাব-৩ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দোকান থেকে প্রায় ৮০ ধরনের অনুমোদনহীন বিদেশি ওষুধ এবং ২০ ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়।

লাজ ফার্মার ঢাকার কাকরাইল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে সোমবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন ওষুধ জব্দের কথা জানায় র‌্যাব।

লাজ ফার্মার ঢাকার কাকরাইল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে সোমবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন ওষুধ জব্দের কথা জানায় র‌্যাব।

তিনি বলেন, “দোকানটির মালিক আব্দুস সাত্তার মোহাম্মদ। কিন্তু তাকে দোকানে পাওয়া যায়নি। তারা কোনো বৈধ ড্রাগ লাইসেন্সও দেখাতে পারেনি। একটি ড্রাগ লাইসেন্স দেখানো হয়েছে, কিন্তু সেটির মেয়াদ ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে শেষ হয়েছে। এছাড়া তারা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের মেয়াদের তারিখ ঘষা-মাজা করে তারিখ বৃদ্ধি এবং নিষিদ্ধ ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রয় করে আসছে।”

অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে জানিয়ে পলাশ বসু বলেন, “এসব ওষুধের অনুমানিক মূল্য ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় ওই দোকান থেকে সাতজনকে আটকের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের পাঁচজনকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ২৫ লাখ টাকা এবং দুইজনকে দুই লাখ করে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তিন মাসে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

এনএসআই কর্মকর্তারা জানান, তাদের নগর অভ্যন্তরীণ অপারেশন শাখার সার্ভিলেন্সের কারণে কাকরাইল লাজ ফার্মার অনেক দিন ধরে অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির বিষয়টি নজরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় এনএসআই ও র‌্যাব যৌথ অভিযান চালায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লাজ ফার্মার মহাব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দোকানে কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ থাকতে পারে। তবে আমাদের এখানে কেউ ওষুধ কিনতে আসলে প্রেসক্রিপশন দেখে একজন সেলসম্যান ওষুধগুলো সংগ্রহ করার পর আরেকজন মিলিয়ে দেখেন ঠিক আছে কি না। কোনো ওষুধের মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে তা গ্রাহককে দেওয়া হয় না। পরে আমরা কোম্পানিকে ফিরিয়ে দিয়ে নতুন ওষুধ নিয়ে থাকি।

“আর অনুমোদনহীন যেসব ওষুধের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো কিছু জীবন রক্ষাকারী ওষুধ রাখতে হয়। কেউ বিদেশ থেকে চিকিৎসা করিয়ে আসার পর তার দরকার হয়, আবার অনেক চিকিৎসক এসব ওষুধ লিখে থাকেন। এগুলো আমরা বৈধভাবে আমদানি করা কোম্পানির কাছ থেকে কাগজপত্র দেখে কিনে থাকি।”