ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে বেবী মওদুদকে স্মরণ

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-07-25 22:47:37 BdST

সাংবাদিক, লেখক, নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক সংসদ সদস্য এ এন মাহফুজা খাতুন বেবী মওদুদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হল শনিবার।

করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে এবার তার মৃত্যুবার্ষিকীতে কোনো অনুষ্ঠান রাখা হয়নি। পরিবারের সদস্যরা দিনটি পালন করেছেন ঘরোয়াভাবেই।

বেশ কিছুদিন ক্যান্সারে ভুগে ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই মারা যান বেবী মওদুদ। তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

তিনি ছিলেন একাধারে সাংবাদিক, শিশু সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, নারী অধিকার নেত্রী ও রাজনৈতিক কর্মী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সহকর্মীদের প্রিয় ‘বেবী আপা’

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সহকর্মীদের প্রিয় ‘বেবী আপা’

বেবী মওদুদ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৮ সালের ২৩ জুন, কলকাতায়। বাবা আবদুল মওদুদ ছিলেন একজন বিচারপতি। আর মায়ের নাম হেদায়েতুন নেসা। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।

আনুষ্ঠানিক নাম এ এন মাহফুজা খাতুন হলেও সবাই তাকে চিনতেন বেবী মওদুদ নামে। সাদামাটা পোশাকের স্নেহময়ী এই নারী সহকর্মীদের কাছে ছিলেন বেবী আপা।    

মুক্তিযুদ্ধের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকার দিনগুলোতেই পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন বেবী মওদুদ।

১৯৭১ সালে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাওয়ার আগে ১৯৬৭-৬৮ সময়ে রোকেয়া হল ছাত্রী সংসদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ঢাকায় কবি সুফিয়া কামালের সঙ্গে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।

নব্বইয়ের দশকে যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির দাবিতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সোচ্চার।

বেবী মওদুদ সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হয়েছিলেন শিক্ষাজীবনের শেষ দিকে ১৯৬৭ সালে। সাপ্তাহিক ললনা, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক মুক্তকণ্ঠ, দৈনিক আজাদ, গণবাংলা, চিত্রালী ও বিবিসি বাংলা বিভাগে তিনি কাজ করেছেন।

১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে বাসসের বাংলা বিভাগ চালু হয়। ১৯৯৮ সালে শেখ রেহানার সম্পাদনায় নতুন কলেবরে বিচিত্রা প্রকাশ হতে শুরু করলে সেখানেও তিনি যুক্ত হন।

মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত বেবী মওদুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

দুই ছেলে রবিউল হাসান অভী ও শফিউল হাসান দীপ্তর সঙ্গে বেবী মওদুদের ছবি।

দুই ছেলে রবিউল হাসান অভী ও শফিউল হাসান দীপ্তর সঙ্গে বেবী মওদুদের ছবি।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখিতে যুক্ত ছিলেন বেবী মওদুদ। লিখেছেন শিশু-কিশোরদের জন্যও।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ সম্পাদনাতেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে পড়ার সময় বেবী মওদুদ সহপাঠী হিসেবে পেয়েছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

নবম জাতীয় সংসদে বেবী মওদুদ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং লাইব্রেরি কমিটির সদস্য হিসাবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তার পরিবার, মনে মনে (ছোট গল্প), শেখ মুজিবের ছে্লে বেলা, গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা, দীপ্তর জন্য ভালোবাসা, আমার রোকেয়া, পবিত্র রোকেয়া পাঠ, টুনুর হারিয়ে যাওয়া, দুঃখ-কষ্ট ভালোবাসা, শান্তর আনন্দ, এক যে ছিলো আনু, মুক্তিযোদ্ধা মানিক, কিশোর সাহিত্য সমগ্র, নিবন্ধ সমগ্র ‘অন্তরে বাহিরে’, পাকিস্তানে বাংলাদেশের নারী পাচার।

তার স্বামী অ্যাডভোকেট মো. হাসান আলী ১৯৮৫ সালে মারা যান। দুই ছেলে রবিউল হাসান অভী ও শফিউল হাসান দীপ্তকে রেখে গেছেন তারা।