bdnews24

তাদের নগরছাড়া করল মহামারী

  • মাহমুদ জামান অভি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-08-11 10:03:21 BdST

নগরের বুকে টিকে থাকতে তাদের সংগ্রাম করে যেতে হয়েছে প্রতিনিয়ত; কিন্তু করোনাভাইরাসের মহামারী তাদের ঠেলে দিয়েছে অসম্ভব এক যুদ্ধে। নেই চাকরি,বন্ধ হয়েছে উর্পাজনের পথ; সব মিলিয়ে পিঠ ঠেকেছে দেয়ালে। বেঁচে থাকার জন্য শহর ছাড়তে হচ্ছে শরীফ আর রাজীবদের।

bdnews24

বাবা-মা, স্ত্রী ও ছোট দুই ভাই-বোনকে নিয়ে মিরপুরের দুয়ারীপাড়ায় বিশটি বছর কেটেছে মো. শরীফের। ঢাকায় টিকে থাকার লড়াইয়ে শরীফের উর্পাজনই ছিল পরিবারের আয়ের বড় উৎস। আট বছর ধরে পোশাক কারখানায় চাকরি করা শরীফও করোনাভাইরস মহামারীর মধ্যে বেকার হয়ে পড়েছেন। সংসার গুটিয়ে পরিবার নিয়ে তাকেও ধরতে হয়েছে ভোলার লঞ্চ।

bdnews24

শরীফের মা বকুল কাজ করতেন বিভিন্ন বাসাবাড়িতে। মা ছেলের উপার্যনে কোনোক্রমে চলে যাচ্ছিল ঢাকার জীবন। কিন্তু মহামারীর শুরুর দিকেই গৃহকর্ত্রীরা বকুলকে জানিয়ে দেন, আপাতত আর আসতে হবে না কাজে।

bdnews24

চার মাস ধরে বেকার থেকে রাজধানীর জীবন যুদ্ধে আর পেরে ওঠা গেল না। পরিবার নিয়ে শরীফ ফিরে যাচ্ছেন জন্মস্থান ভোলায়।

bdnews24

চার মাস ধরে বেকার থেকে স্বামী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় কেটেছে দুই দশক। এত দিনের সংসারে যা কিছু জমেছে, তার অনেক কিছুই ফেলে যেতে হচ্ছে। সদরঘাটে লঞ্চে ওঠার পর সব মালপত্র দেখে নিচ্ছেন বকুল । জীবন যুদ্ধে আর পেরে ওঠা গেল না। পরিবার নিয়ে শরীফ ফিরে যাচ্ছেন জন্মস্থান ভোলায়।

bdnews24

রাজীব খান আর তার স্ত্রী সুমি পাঁচ বছর চাকরি করছেন নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায়। করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর আগেই অসুস্থতার কারণে সেই চাকরি ছেড়ে দিতে হয়েছিল রাজীবকে। আর মহামারী শুরু হলে সুমিও কর্মহীন হয়ে পড়েন। গ্রামের বাড়ি ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় তাদের নেই।

bdnews24

অসুস্থতার কারণে সংসারের মালপত্র নিয়ে লঞ্চে উঠার ক্ষমতা নেই রাজীবের। সেজন্য তাকে নিতে হয়েছে কুলির সহায়তা।

bdnews24

ছোট্ট সংসারে যা কিছু ছিল, তা নিয়েই বরিশালে গ্রামের বাড়িতে ফিরতে হচ্ছে রাজীবকে। সদরঘাটে লঞ্চে ওঠার পর শেষবার দেখে নিচ্ছেন, সব ঠিকঠাক এল কি না।

bdnews24

রাজীব আর সুমি দুজনেই চাকরি করতেন বলে তাদের মেয়ে বড় হয়েছে নানির কাছেই। শহরের পাট চুকিয়ে গ্রামে ফেরার দিনও নাতনিকে কোলে নিয়ে লঞ্চের ডেকে আনোয়ারা বেগম।