পুলিশ কর্মকর্তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্ত্রী-শ্বশুরের অভিযোগ

  • গোলাম মুজতবা ধ্রুব, নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-08-11 19:21:31 BdST

স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় জামিন পেয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার ভাই তার শ্বশুরকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগের মুখে থাকা মো. রাসেল নামের ওই যুবক ঢাকার ধানমন্ডি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফ উদ্দিন ফারুকের ছোট ভাই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাসেল ও তার বড় ভাই পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন ফারুক।

গাজীপুরের বাসিন্দা রাসেলের সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে ওই এলাকার বাসিন্দা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীর বিয়ে হয়।

তার শ্বশুর মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিয়ের পর তারা জানতে পারেন রাসেল ‘নেশাগ্রস্ত’।

তিনি বলেন, “আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। পরে বুঝি ছেলে নেশাগ্রস্ত। পাশাপাশি যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে সে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। 

“সর্বশেষ গত ২৮ জুন আমার মেয়েকে সারা রাত প্রচণ্ড মারধর করে আমাকে খবর দেয় মেয়ের করোনাভাইরাস হয়েছে। আমি যেন মেয়েকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি।”

স্ত্রীকে পেটানোর মামলার আসামি মো. রাসেল।

স্ত্রীকে পেটানোর মামলার আসামি মো. রাসেল।

এই ঘটনার পর গত ৪ জুলাই টঙ্গী পশ্চিম থানায় রাসেলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন বলে জানান মোশাররফ হোসেন। 

তিনি বলেন, “ছেলের বড় ভাই পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় থানা পুলিশ এখন আসামি ধরছে না। তদন্ত কর্মকর্তা বার বার আমার মেয়েকে বলে, আপনি বিষয়টা মীমাংসা করে ফেলেন। তিনি আমাকে আর মেয়েকে মামলা তদন্তের কথা বলে সারা দিন থানায় বসিয়ে রাখেন।

“এদিকে রাসেল সবাইকে বলছে, তার ভাই পুলিশ বলে তাকে কেউ গ্রেপ্তার করতে পারবে না। উল্টো আমাদেরকেই পুলিশ মিথ্যা মামলা সাজিয়ে ধরে নিয়ে যাবে। এভাবে সে মিথ্যা মামলায় আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সে কারণে এখন আমরা পরিবারের সদস্যরা সবাই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে গত ১০ অগাস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানার পরিদর্শক ফারুক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,

“ওরা চায় দুইজনের সংসারটা যেন টিকে থাকে। কিন্তু আমরা বলেছি যেহেতু দুইজনের পরিবারে অশান্তি, বনিবনা হচ্ছে না তাই ডিভোর্স হয়ে যাওয়াই ভালো। তাছাড়া এখন আমার ভাইয়ের জামিনও হয়ে গেছে। তাকে তারা জেল খাটাতে পারেনি। এজন্য একটা মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করতে তারা মিথ্যা মামলা করেছে।

“রাসেল নেশাগ্রস্ত বা যৌতুক চেয়েছে বলে তারা যে অভিযোগ করছে তা মিথ্যা। আমি পুলিশ বলে কাউকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছি না। রাসেল কাউকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে এই অভিযোগও সত্য না। আমরা চাই তদন্তটা সঠিক হোক। তদন্তে যাই আসুক আমরা তা মেনে নেব।”       

এর মধ্যে গত ২ জুলাই রাসেল ওই মেয়েকে বিয়ে বিচ্ছেদের কাগজ পাঠিয়েছে বলে জানান তিনি। তবে বিয়ে বিচ্ছেদের বিষয়ে কোনো কাগজ পাননি বলে রাসেলের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন।

পরিদর্শক ফারুক জানান, রাসেল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে ফ্রিল্যান্সিং করতেন। এখন কিছু করেন না।

স্ত্রী ও শ্বশুরের অভিযোগ অস্বীকার করে রাসেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি নেশাজাতীয় কোনো কিছু স্পর্শ করি না। ইসলামের পথে চলি তাই স্ত্রীকে মারধর করার প্রশ্নই আসে না।

“ছোটবেলা থেকেই আমার কিছুটা মানসিক সমস্যা থাকায় আমাকে আমার পরিবার অল্প বয়সে বিয়ে দিয়েছে। আমি রক্ত দেখতে পারি না, মাথা ঘুরে পড়ে যাই। খেলতে গেলে হোঁচট খেলে অজ্ঞান হয়ে যাই।”

স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধ নিয়ে তিনি বলেন, “আমার স্ত্রীর অত্যধিক চাহিদা থাকায় সেটা আমার পক্ষে পূরণ করা সম্ভব হয়নি। তাই আমাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

পুলিশ কর্মকর্তার ভাইয়ের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক মো. কায়সার হোসেন বলেন, “মামলা হওয়ার পর আসামিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখন সে জামিনে রয়েছে। পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

“কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”