কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লেখার মামলায় গ্রেপ্তার রুহুল আমিন গাজী

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-10-21 20:16:15 BdST

যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লিখে প্রতিবেদন প্রকাশের ঘটনায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন দৈনিক সংগ্রামের প্রধান প্রতিবেদক রুহুল আমিন গাজী।

এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ১০ মাসের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন পত্রিকাটির সম্পাদক আবুল আসাদ।

সম্প্রতি আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় বুধবার সন্ধ্যার পর মগবাজারে সংগ্রামের কার্যালয় থেকে রুহুল আমিন গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. ওয়ালিদ হোসেন জানিয়েছেন।

সংগ্রামের প্রধান প্রতিবেদক রুহুল আমিন গাজী বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের বিএনপি-জামায়াতপন্থি সাংবাদিকদের অংশের সভাপতির দায়িত্বে আছেন।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ

তাকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, “দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার চিফ রিপোর্টার রুহুল আমিন গাজী তার অপর দুজন সহযোগীর সাথে পরস্পর যোগসাজশে ১২.১২.২০১৯ ইং তারিখ দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার ৩, ৪ ও ৫ নং কলামজুড়ে বোল্ড লেটারে ‘শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ৬ষ্ঠ শাহাদৎ বার্ষিকী আজ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাতে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংপ্রাপ্ত আখ্যা দিয়ে ’২৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জেসিও মফিজুর রহমানের ডাকে এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পড়ুয়াদের সাথে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করেন আব্দুল কাদের মোল্লা’- মর্মে প্রতিবেদন প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ক্ষেপিয়ে তুলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার লক্ষ্যে এ উসকানিমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।”

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ফাঁসি কার্যকর করা হয় ‘মিরপুরের কসাই’ খ্যাত কাদের মোল্লার। সেই দিনের স্মরণে গত বছর ১২ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র হিসেবে পরিচিত দৈনিক সংগ্রামের প্রথম পাতায় ‘শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ৬ষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী আজ’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

এর প্রতিবাদে পরদিন ১৩ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশ করে সংগ্রাম পত্রিকার কয়েকটি কপি পোড়ান ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। বিকালে দৈনিক সংগ্রামের কার্যালয় ঘেরাও ও ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধরা।

দৈনিক সংগ্রামের কার্যালয়টি জামায়াত-শিবিরের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে অভিযোগ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পত্রিকাটির ‘ডিক্লারেশন’ বাতিলের দাবি জানানো হয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে।

ওই ঘটনার পর সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে ওই রাতেই হাতিরঝিল থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আফজাল ওই থানায় মামলা দায়ের করেন।

দণ্ডবিধির রাষ্ট্রদ্রোহের ধারা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা এ মামলায় আবুল আসাদ ও রুহুল আমিন গাজী ছাড়াও পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদক সাদাত হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয় মামলায়।

ওই মামলায় এখনও কারাগারে আছেন সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ। গত মাসে হাই কোর্ট তাকে এক বছরের অন্তর্বর্তী জামিন দিলেও তা আটকে দেয় আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।