বৃদ্ধের সঙ্গে শিশুর বিয়ে: তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে হাই কোর্ট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-11-24 14:04:15 BdST

bdnews24

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে গ্রাম্য সালিশে ৮৫ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে ১২ বছরের শিশুর বিয়ে দেওয়ার ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে হাই কোর্ট।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং দেওয়ান গঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগামী রোববারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত প্রকাশিত খবর নজরে আসার পর বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের ভার্চুয়াল হাই কোর্টে বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।

বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবর নজরে আনেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আল মাহমুদ বাশার।

পরে তিনি বলেন, “জামালপুরে ৮৫ বছরের বৃদ্ধের সাথে ১২ বছরের একটি শিশুর বিয়ে দেওয়ার ঘটনা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এসেছে। সেটি আমরা নজরে নিয়ে আসছিলাম।

“মহামান্য আদালত জামালপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং দেওয়ানগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলেছেন ঘটনাটি তদন্ত করে আগামী রোববারের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সাথে আইনানুগ যেসব দায়িত্ব তাদের পালন করার কথা, তা তাদের পালন করতে বলেছেন।”

তিনি বলেন, “৮৫ বছরের বৃদ্ধকে দোররা মেরে, জোর করে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাতাব্বররা এই শিশুকে যে বিয়ে দিয়েছে সেটি সম্পূর্ণ অবৈধ। আগামী রোববার প্রতিবেদন দেখে আদালত প্রয়োজনীয় আদেশ দিবেন।”

‘৮৫ বছরের বৃদ্ধকে দোররা মেরে ১২ বছরের শিশুর সঙ্গে বিয়ে দিলেন মাতবররা’ শিরোনামে গত শুক্রবার খবর ছাপে দৈনিক পত্রিকা সমকাল।

ওই খবরে বলা হয়েছে, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের চরআমখাওয়া ইউনিয়নের বয়রাপাড়া গ্রামে ৮৫ বছর বয়সের বৃদ্ধ মহির উদ্দিনের সঙ্গে ১২ বছরের এক শিশুর বিয়ে দিয়েছেন গ্রাম্য মাতবররা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রাম্য সালিশে ওই বৃদ্ধের নাতি শাহিনের (১৮) অপরাধের দায়ভার দাদার ওপর চাপানো হয়। সালিশে বৃদ্ধ মহিরকে ১০ দোররা মেরে তার সঙ্গে শিশুটির বিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় কওমী মাদ্রাসার পঞ্চম শেণির ছাত্রী। একই গ্রামের বৃদ্ধ মহির উদ্দিনের নাতী শাহিনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে শাহীনের ধর্ষণে শিশুটি গর্ভধারণ করে। পরে গত ১০-১৫ দিন আগে তার গর্ভপাতও ঘটানো হয়। কিন্তু বিষয়টি ফাঁস হলে স্থানীয় মাতবররা সালিশ করে নাতী শাহিনের অপরাধের দায় ৮৫ বছরের বৃদ্ধ মহির উদ্দিনের ওপর চাপিয়ে দেন।