কমডোর রব্বানী হত্যা: জামিন পাননি আবু নাসের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-11-24 17:20:16 BdST

bdnews24

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাক্ষী কমডোর গোলাম রব্বানী হত্যা মামলায় হাই কোর্টের রায়ে যাবজ্জীবন পাওয়া আবু নাসের চৌধুরীকে জামিন দেয়নি সর্বোচ্চ আদালত।

তবে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে চট্টগ্রামের কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

আবু নাসের চৌধুরীর জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারকের ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।

অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে জামিন আবেদন করেন আবু নাসের চৌধুরী।

গত ১৫ নভেম্বর আবেদনটি শুনানির জন্য উঠলে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী তা না শুনে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন।  

মঙ্গলবার শুনানির পরই তা খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন হাই কোর্টের সাবেক বিচারক, আইনজীবী নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ বলেন, “আবু নাসের চৌধুরীর জামিন আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দিতে চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাকে আবার কারাগারে নিয়ে আসতে হবে।”

২০০৪ সালের ১১ এপ্রিল মাইক্রোবাসে করে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন চট্টগ্রামের কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রোসেসিং জোনের (কেইপিজেড) তখনকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রব্বানী। ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ দিন পর তার মৃত্যু হয়।

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা রব্বানী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নৌ-পরিবহন বিভাগের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেল হত্যা মামলায় তিনি রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে সাক্ষ্য দেন।

কমডোর রব্বানী হত্যা: হাই কোর্টের রায় চট্টগ্রামে পৌঁছেছে  

গোলাম রব্বানী হত্যা মামলার রায়ে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ হাশেম ও আব্দুল মালেক সোহেল নামের তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

কিন্তু বাকি দুই আসামি কেইপিজেডের সাবেক মহাব্যবস্থাপক আবু নাসের চৌধুরী ও সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরীকে দেওয়া হয় পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জারিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড।

আপিল শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর হাই কোর্ট বেঞ্চ এ মামলার রায় ঘোষণা করে।

এ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে ‘কম সাজা’ দেওয়া হলেও বিচারিক আদালত এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেনি বলে হাই কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়।

হাই কোর্ট আবু নাসের চৌধুরী ও হুমায়ুন কবিরের সাজা বাড়িয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

এছাড়া নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন পাওয়া তিন আসামির মধ্যে মো. হাশেম ও সোহেল হাই কোর্টে খালাস পান; মো. সেলিমের যাবজ্জীবন বহাল থাকে।

এ মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি মানসুর আলম ও সাইফুল ইসলাম ওরফে বিলাই সাইফুলকে নিম্ন আদালতের রায়ে খালাস দেওয়া হয়। এদের মধ‌্যে সাইফুল বিচার চলাকালে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পালিয়ে যান।

বাদীপক্ষ সাইফুলের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করলেও মানসুর আলমের বিরুদ্ধে করেনি। সাইফুলের বিষয়ে বিচারিক আদালতকে নতুন করে রায় দিতে বলে হাই কোর্ট।

২০১৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্টের রায়ের ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

গোলাম রব্বানী হত্যা: আত্মসমর্পণের পর দুই আসামি কারাগারে  

পরে ওই বছরের ১৮ অক্টোবর এ হত্যা মামলার নথি ও হাই কোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি চট্টগ্রামে বিচারিক আদালতে পৌঁছায়।

হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, দণ্ডিত তিন আসামি আবু নাসের চৌধুরী, হুমায়ুন কবির ও সেলিমকে আট সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করে দণ্ড ভোগ করতে হবে।

পাশাপাশি আসামি সাইফুল ইসলামকেও আট সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশনা দিয়ে হাই কোর্ট রায়ে বলে দেয়, তার জামিন বিবেচনার পূর্ণ স্বাধীনতা বিচারিক আদালতের আছে।

হাই কোর্টের রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর দণ্ডিত দুই আসামি আবু নাসের চৌধুরী ও মো. সেলিম বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

সেই থেকে তারা কারাভোগ করছেন। এর মধ্যে আবু নাসের চৌধুরী আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করেন; যে আবেদনের শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে আগামী ২২ নভেম্বর।

এর আগে গত বছরের ২১ জুলাই আবু নাসের চৌধুরীর জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। তবে সেদিন হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল ফৌজদারী আপিল হিসেবে গ্রহণ করে সর্বোচ্চ আদালত। অপর আসামি সেলিম কারাগারেই আছেন।

রায় প্রকাশের আগেই সে বছর ১০ মে মারা যান আসামি হুমায়ুন কবির।