এফআর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতি মামলার অভিযোগপত্র চূড়ান্ত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-11-25 19:20:24 BdST

bdnews24
ঢাকার বনানীর বহুতল ভবন এফআর টাওয়ারে গত ২৮ মার্চ আগুন লেগে অন্তত ২৭ জন নিহত এবং অর্ধ শতাধিক মানুষ আহত হন।

ঢাকার বনানীর এফআর টাওয়ার ২৩ তলা পর্যন্ত বাড়াতে নকশা জালিয়াতির মামলায় ভবন মালিক ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এজাহারের সাত আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে বলে বুধবার দুদকের মুখপাত্র প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন।

গত বছরের ২৮ মার্চ এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৭ নিহত হওয়ার পর এই ভবন নির্মাণে নানা অনিয়মের বিষয়গুলো বেরিয়ে আসতে থাকে।

কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে ওই ভবনের জমির মূল মালিক ছিলেন প্রকৌশলী এসএমএইচআই ফারুক। অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভবনটি নির্মাণ করে রূপায়ন হাউজিং এস্টেট লিমিটেড। সে কারণে সংক্ষেপে ভবনের নাম হয় এফআর টাওয়ার।

গত বছরের ২৫ জুন কমিশনের উপ-পরিচালক মো. আবুবকর সিদ্দিক ২০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন। তিনিই তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মামলা অভিযোগপত্র থেকে যাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তারা হলেন- গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ নাজমুল হুদা, তিনি মারা গেছেন বলে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অব্যাহতি পেয়েছেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান কে এ এম হারুন, সাবেক সদস্য মো. রেজাউল করিম তরফদার, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব আ ই ম গোলাম কিবরিয়া, সাবেক প্রধান ইমারত পরিদর্শক মো. মাহবুব হোসেন সরকার, সাবেক ইমারত পরিদর্শক মো. আওরঙ্গজেব সিদ্দিকি এবং গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামছুর রহমান।

অভিযোগপত্রের নতুন আসামিরা হলেন- রাজউকের উচ্চমান সহকারী মো. সাইফুল আলম, ইমারত পরিদর্শক (নক্সা জমা গ্রহণকারী) ইমরুল কবির, ইমারত পরিদর্শক মো. শওকত আলী, উচ্চমান সহকারী মো. শফিউল্লাহ এবং  সাবেক অথরাইজড অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম।

অন্যদিকে এজাহারের আসামি যাদেরকে অভিযোগপত্রে রাখা হয়েছে তারা হলেন- এফআর টাওয়ারের মালিক এস এম এইচ আই ফারুক, রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, এফ আর টাওয়ার ওনার্স সোসাইটির সভাপতি কাসেম ড্রাইসেলের এমডি তাসভীর-উল- ইসলাম।

রাজউকের সাবেক পরিচালক মো. শামসুল আলম, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক মো. মোফাজ্জল হোসেন, সহকারী পরিচালক শাহ মো. সদরুল আলম, সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক জাহানারা বেগম, সহকারী পরিচালক মেহেদউজ্জামান, নিন্মমান সহকারী মুহাম্মদ মজিবুর রহমান মোল্লা ও অফিস সহকারী মো. এনামুল হকও আসামি হিসেবে আছেন।

এছাড়া বিসিএসআইআরের সদস্য (অর্থ) মুহাম্মদ শওকত আলী ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবদুল্লাহ আল বাকিকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে রাজউকের ভুয়া ছাড়পত্রের মাধ্যমে এফআর টাওয়ারকে ১৯ তলা থেকে বাড়িয়ে ২৩ তলা করা, উপরের ফ্লোরগুলো বন্ধক দেওয়া ও বিক্রি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ২৯ অক্টোবর এফআর টাওয়ারকে ১৫ তলা পর্যন্ত নির্মাণে ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন এবং নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮ তলা পর্যন্ত বাড়ানোর আরেক মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে দুদক।

এতে এফআর টাওয়ার ভবনের এস এম এইচ আই ফারুক ও রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলসহ পাঁচ জনকে আসামি করা হয়।