মন্ত্রী হাসপাতালে, তাই রোগীরা বাইরে!

  • ওবায়দুর মাসুম, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-11-26 20:55:23 BdST

bdnews24

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠান ছিল বলে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছিল রাজধানীর একটি হাসপাতালের প্রধান ফটক; এই সময়টায় বহির্বিভাগে আসা রোগীদের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে বাইরে।

বৃহস্পতিবার মহাখালীর শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতলে ঘটেছে এই ঘটনা।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ বলেছেন, গেইট বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশ তারা দেননি। তবে রোগীদের ভোগান্তির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগ এবং অপারেশন থিয়েটার কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করতে আসবেন বলে বেলা সাড়ে ১১টায় হাসপাতালের দুটি ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ সময় হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যরা রোগীদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন। রোগী ও তাদের স্বজনদের বলা হয়, ভেতরে অনুষ্ঠান চলছে, চিকিৎসকরা সবাই সেখানে আছেন। মন্ত্রী চলে গেলে আবার সেবা দেওয়া শুরু হবে।

বহির্বিভাগে আসা রোগী এবং ভর্তি রোগীর স্বজনদের এ সময় হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। আউটডোরে কিছু সময় সেবা বন্ধ থাকে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে আসেন বেলা ১২টার দিকে। উদ্বোধন শেষে হাসপাতালের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তিনি।

বেলা দেড়টার দিকে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি চলে যাওয়ার পর ফটক খুলে দিলে আবার হাসপাতালে প্রবেশ করেন রোগী ও স্বজনরা। ভোগান্তির জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাদের অনেকে।

যশোর থেকে আসা আলমগীর হোসেন নামে একজন জানান, হাসপাতালে ভর্তি বাবার জন্য খাবার আনতে তিনি বাইরে গিয়েছিলেন। খাবার নিয়ে ফিরে আসার পর দেখেন গেইট বন্ধ।

“সাড়ে ১১টা থেকে দাঁড়াইয়া আছি, ঢুকতে দেয় না। বলে মন্ত্রীর অনুষ্ঠান শেষ হলে ঢুকতে দেবে।”

খোরশেদ আলম নামে আরেকজন জানান, মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে তার আত্মীয়কে গ্যাস্ট্রোলিভারে পাঠিয়েছে। অটোরিকশায় করে রোগী নিয়ে এসে দেখেন গেইট বন্ধ।

“আমার রোগীর হাতে ক্যানুলা, পেটে পাইপ। এগুলা খুলতে হবে। মিটফোর্ড থেকে বলছে গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে আইতে। কিন্তু আইসা আমি এক ঘণ্টা বাইরে দাঁড়ায়া।”

হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় ভর্তি পটুয়াখালীর এক রোগীর অ্যাটেনডেন্ট আবদুস সালাম জানান, তিনি বাইরে বের হয়েছিলেন ওষুধ কিনতে। ওষুধ নিয়ে ফেরার পর গেইটে আটকে দেওয়া হয়।

“গেইটে আনসাররা কয় মন্ত্রী নাকি আইছে। সেই থাইক্যা দাঁড়ায়া আছি।”

ঢাকার বাড্ডা থেকে আসা এক নারী জানান, চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করাতে দিয়েছিলেন। সেই রিপোর্ট নিয়ে এসেছেন দেখাতে, কিন্তু তাকেও হাসপাতালের বাইরেই অপেক্ষা করতে হয়েছে।

“আমার প্যাটে ব্যাথা করে। এইজন্য ডাক্তার পরীক্ষা দিছে, আজকে রিপোর্ট দেখাইতে আইছি। কিন্তু গেইটে কয় মন্ত্রী আইছে। ডাক্তার নাকি এখন দেখবে না, পরে দেখবে।”

রোগীদের আটকে দেওয়ার নির্দেশনা কে দিয়েছে জানতে চাইলে ফটকে থাকা আনসার সদস্যরা বলেন, ‘অফিস থেকে’ তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ অনুষ্ঠান শেষে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ ধরনের নির্দেশনা কাউকে দেওয়া হয়নি।”

রোগীরা বাইরে আটকে থাকায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটা হয়তো খুব সাময়িক সময়ের জন্য হয়েছে। আমরা তাদের গেইট বন্ধ করতে বলি নাই। আনসাররা হয়তো ওভারঅ্যাক্টিভ হয়ে গিয়ে এই কাজ করেছে। এজন্য আমি অত্যন্ত দুঃখিত।”

এবিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে সবাইকে সাবধান হতে হয়। এ কারণে সতর্কতা থেকেই নিরাপত্তাকর্মীরা ফটক বন্ধ রাখতে পারে বলে তার ধারণা।

“রোগী যারা আসছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। এখন আবার শীতকাল চলছে। সে কারণে হয়ত বন্ধ রেখেছে। তবে তাদেরকে গেট বন্ধ রাখতে বলা হয়নি।”