‘ক্ষমা না চাইলে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে না’

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-12-05 00:09:45 BdST

bdnews24
সংবাদ সম্মেলনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতারা (ফাইল ছবি)

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে ইতিহাসের ঘৃণ্যতম গণহত্যার জন্য সরকারিভাবে ক্ষমা না চাইলে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘স্বাভাবিক হতে পারে না’ বলে মন্তব্য করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ‘ স্বাভাবিক’ না হওয়ার আরও দুই কারণ হিসেবে নির্মূল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যতদিন না গণহত্যার জন্য দায়ী সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিচার না করবে কিংবা বিচারের জন্য বাংলাদেশের কাছে সোপর্দ না করবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের প্রাপ্য সম্পদ বুঝিয়ে না দেবে ততক্ষণ পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে না।”

শুক্রবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে এই বিবৃতি পাঠায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে শেখ হাসিনা তাকে একাত্তরের গণহত্যার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তরে পাকিস্তান যে নৃশংসতা বাংলাদেশে চালিয়েছে, তা কখনও ‘ভোলার নয়’; এ ব্যথা ‘চিরদিন থাকবে’।

মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার বিষয়টি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ এবং জামায়াতে ইসলামীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

একাত্তরের গণহত্যার জন্য ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ‘পাকিস্তানি হাইকমান্ড’ এবং তাদের এ দেশীয় সহযোগী সংগঠনগুলোর বিচার দ্রুত আরম্ভ করতে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতাদের মধ্যে রয়েছেন বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি শামসুল হুদা, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, কলামনিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী, অধ্যাপক অনুপম সেন, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, শিল্পী হাশেম খান, শিল্পী রফিকুন নবী, অধ্যাপক পান্না কায়সার, অধ্যাপক মাহফুজা খানম, বীরপ্রতীক আলমগীর সাত্তার, বীরউত্তম সাহাবউদ্দিন আহমেদ, বীরউত্তম আকরাম আহমেদ, লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শহীদজায়া সালমা হক, সাংসদ ও সমাজকর্মী আরমা দত্ত, কলামনিস্ট সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ, অধ্যাপক আবুল বারক আলভী, মমতাজ লতিফ, সমাজকর্মী কাজী মুকুল।