রুল খারিজ, ঢাকায় শুধু সবুজ রঙা সিএনজি অটোরিকশাই চলতে পারবে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-01-19 21:19:09 BdST

bdnews24
ঢাকার সড়কে শুধু সবুজ রঙা সিএনজি অটোরিকশারই চলাচলের অনুমতি রয়েছে। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

ঢাকা মহানগর এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নিবন্ধন নিয়ে চলাচলকারী সবুজ রঙের সিএনজি অটোরিকশা ছাড়া ছাই রঙের ‘প্রাইভেট সিএনজি’ চলাচল করতে পারবে না।

হাই কোর্টে এ সংক্রান্ত রুল খারিজ হওয়ায় ছাই বা রুপালি রংয়ের ‘প্রাইভেট সিএনজি’ (ঢাকা মেট্রো-দ) চলাচলের আর অনুমতি থাকছে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। 

বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার রুল খারিজ করে রায় দেয়।

রুলটি এসেছিল ২০১৬ সালে প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকশা ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেনের করা একটি রিট আবেদনে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে রুলের শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান ও মনিরুজ্জামান আসাদ।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাফিউল ইসলাম। সড়ক ও যোগাযোগ সচিবের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাসুদ হাসান চৌধুরী পরাগ।

রাফিউল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালতের নির্দেশে এতদিন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে যেসব সিএনজি ঢাকা মহানগর এলাকায় চলছিল, রুল খারিজ হওয়ায় সে নির্দেশনাটিও বাতিল হয়ে গেছে। ফলে প্রাইভেট সিএনজি চলাচল করতে পারবে না।”

মনিরুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকার যে নীতিমালা করেছে, সেটিতে আদালত হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছে না। সরকার চাইলে ঢাকা মহানগর এলাকায় আবার প্রাইভেট সিএনজি চলাচলের অনুমতি দিতে পারে, এই বলে রুলটি খারিজ করে দিয়েছেন।

“এ আদেশের ফলে ‘প্রাইভেট’ হিসেবে নিবন্ধন পাওয়া সিএনজিগুলো ঢাকা মহানগর এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চলাচল করতে পারবে না।”

তবে রিট আবেদনকারী দেলোয়ার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন।

পরিবেশ দূষণের কারণে ঢাকা শহরে ‘টু স্ট্রোক’র বেবিট্যাক্সি নিষিদ্ধ করার পর ২০০১ সালে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের জন্য ‘ফোর স্ট্রোক’ থ্রি হুইলার অটোরিকশা (সিএনজি) চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার।

তখন ভারতের বাজাজ কোম্পানির ১৩ হাজার অটোরিকশা (সিএনজি) আমদানি করে উত্তরা মটরসসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। সেই ১৩ হাজার অটোরিকশাই (ঢাকা মেট্রো-থ) নিবন্ধন দেয় বিআরটিএ।

তার আগে ৩৫ হাজার বেবিট্যাক্সি চলাচল করত ঢাকা শহরে।

২০০৯ সাল থেকে ২০১২ নাগাদ বিআরটিএ আরও ৩ হাজার ৯৫৭টি ‘ফোর স্ট্রোক’ অটোরিকশা ব্যক্তি মালিকানায় চলাচলের জন্য নিবন্ধন দেয়।

যদিও সিএনজি/পেট্রালচালিত ফোর স্ট্রোক থ্রি হুইলার্স সার্ভিস নীতিমালা-২০০৭ অনুযায়ী ঢাকা মহানগর এলাকায় ‘ফোর স্ট্রোক’ থ্রি হুইলার (ঢাকা-দ) ব্যক্তি মালিকানায় চলাচলের সুযোগ নেই।

ব্যক্তি মালিকানায় নিবন্ধন পাওয়া অটোরিকশার মালিকরা পরে বাণিজ্যিক নিবন্ধন পেতে বিআরটিএর কাছে দাবি জানায়।

কিন্তু সরকারের সাড়া না পেয়ে ২০১৬ সালে প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকশা ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন।

তার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৭ জুলাই রুলসহ আদেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। তাতে ওই অটোরিকশাগুলোকে রাস্তায় চলাচলের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি অনুমতি না দেওয়া অবধি ব্যক্তিগত অটোরিকশাগুলোকে ঢাকা মহানগরে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চলাচলে বাধা না নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিআরটিএ আবেদনে সেই রুলই খারিজের রায় হল মঙ্গলবার।