পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি লালমাটিয়া-সায়েদাবাদে: জরিপ

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-05-06 23:53:07 BdST

bdnews24
ঢাকায় রাস্তার পাশে জমে থাকা পানিতে কিলবিল করা মশা। ফাইল ছবি

ঢাকার লালমাটিয়া, সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী এলাকায় ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এইডিস মশার উপস্থিতি বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এইডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত প্রাক মৌসুম জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ২৯ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার ৬৯ টি ওয়ার্ডের ৭০টি স্থানে এই জরিপ চালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ঢাকা উত্তরের (ডিএনসিসি)  ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের লালমাটিয়ার পাশাপাশি কাছের ইকবাল রোড এলাকায় মশার ব্রুটো ইনডেক্স (লার্ভার উপস্থিতির সূচক) পাওয়া গেছে ২৩ দশমিক ৩।

এ সময় ঢাকা দক্ষিণের (ডিএসসিসি) ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের সায়েদাবাদ এবং এর লাগোয়া উত্তর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে ২০।

মশার লার্ভার উপস্থিতি হিসাব করা হয় ব্রুটো ইনডেক্স বা সূচকের মাধ্যমে। জরিপে প্রতি একশ প্রজনন উৎসের মধ্যে ২০টি বা তার বেশিতে যদি এইডিস মশার লার্ভা বা পিউপা পাওয়া যায়, তাহলে সেটাকে ঝুঁকিপূর্ণ উপস্থিতি বলা যায়। ১০ থেকে ২০ এর মধ্যে থাকলে সেখানে মশার মোটামুটি উপস্থিতি আছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

এছাড়া ব্রুটো ইনডেক্স ১০ এর বেশি পাওয়া গেছে ডিএনসিসির ১৩, ৩১, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। মনিপুর, পীরেরবাগ, শেওড়াপাড়া, নূরজাহান রোড,  আসাদ এভিনিউ,  শাহজাহান রোড, মগবাজার, নিউ ইস্কাটন, মধুবাগ, নয়াটোলা এবং মিরবাগ এলাকা নিয়ে এসব ওয়ার্ড গড়ে উঠেছে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২, ১৯, ৩৪, ৩৮, ৩৯, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ব্রুটো ইনডেক্স ১০ এর বেশি পাওয়া গেছে।

এসব ওয়ার্ডে পড়েছে মালিবাগ, শান্তিবাগ, মিন্টোরোড, বেইলিরোড, কাকরাইল, সিদ্দিকবাজার, ওসমান গণি রোড, ঠাটারিবাজার, মদন মোহন বসাক লেন, আরকে মিশন রোড, অভয় দাশ লেন, মিল ব্যারাক, আলমগঞ্জ রোড এবং অক্ষয় দাশ লেন এলাকা।

তবে শুকনো মৌসুমে করা এই জরিপের ফলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার।

বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “প্রাক মৌসুম জরিপের সময় বৃষ্টিপাত ছিল না। এ কারণে মশার উপস্থিতি বেশি পাওয়া যাবে না। এবার প্রাক মৌসুম জরিপে গত বছরের এই সময়ের চেয়ে সামান্য বেশি আছে। তবে তা এলার্মিং না। এটা দিয়ে সিদ্ধান্তে আসা যায় না।”

জুনে যে জরিপ হবে সেখানে পাওয়া তথ্যের ওপর বলা যাবে ঢাকায় মশার উপদ্রব কেমন হবে, বলেন এই কীটতত্ত্ববিদ।