পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

দেশত্যাগে দুদকের নিষেধাজ্ঞা: অনুমোদন নিতে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে আবেদন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-06-10 21:22:01 BdST

bdnews24

তদন্ত বা অনুসন্ধানকালে জরুরিভিত্তিতে কারও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট জব্দের পর তা অনুমোদনে দ্রুত সময়ে বা ১৫ দিনের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদককে জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ বা বিশেষ জজ আদালতে আবেদন করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট আদালত আবেদন গ্রহণের পর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারবে এবং তা সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করতে হবে।

‘মো. আহসান হাবিব বনাম সরকার এবং অন্যান্য’ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এমন নির্দেশনা দিয়েছে হাই কোর্ট।

পর্যবেক্ষণ ও পাঁচ দফা নির্দেশনাসহ ৮৩ পৃষ্ঠার রায়টি গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা পক্ষের ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে কমিশন বা তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পাসপোর্ট জব্দ, দেশত্যাগ ও প্রত্যাবর্তনে দুদকের নিষেধাজ্ঞার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি করেছিলেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা ও অস্ট্রেলিয়ার ডেকিন কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব।

এই রায়ের বিরুদ্ধে দুদক আপিলে যাবে কিনা জানতে চাইলে সংস্থাটির আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আপিলে যাবে কি যাবে না, এটা কমিশনের ব্যপার। এখন পর্যন্ত কমিশন থেকে এই ধরনের সিদ্ধান্ত পাইনি।”  

আহসান হাবীরের রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে তখন হাই কোর্ট রুল জারি করেছিল।

তার পাসপোর্ট জব্দ, দেশত্যাগ ও প্রত্যাবর্তনে দুদকের নিষেধাজ্ঞা ও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবেদনকারীর পাসপোর্ট জব্দ করা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় বিবাদীদের কাছে।

গত ১৪ মার্চ রুলের চূড়ান্ত শুনানির পর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাই কোর্ট বেঞ্চ রায়টি দেয়।

রায়ে উচ্চ আদালত রিট আবেদনকারী আহসান হাবিবের পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার নির্দেশের পাশাপাশি তিনি যাতে বিদেশে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য বিনা বাধায় তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়।

আহসান হাবীবের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মুরাদ রেজা ও স্বপ্নিল ভট্টাচার্য।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কেএম আমিন উদ্দিন এবং দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফজলুল হক।

সমাজের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি গ্রাস করেছে

ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, “বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সমাজ ব্যাপকভাবে দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। সর্বোচ্চ থেকে নিম্ন স্তর পর্যন্ত সমাজের প্রতিটি স্তরে আজ দুর্নীতি গ্রাস করেছে।

সমাজ থেকে দুর্নীতি অপসারণ বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতির নানা রকম রয়েছে। সময় ও বাস্তবতার সঙ্গে দুর্নীতিবাজ বা অপরাধীরাও সমানভাবে দুর্নীতিতে দক্ষতা অর্জন করছে।

“তাই সমাজ থেকে এর মূলোৎপাটন করতে হলে সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নাই।”

রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, “আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা হচ্ছে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, অনেক আসামি আদালতের আদেশ অগ্রাহ্য বা লঙ্ঘন করে দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে এবং নানাভাবে বারবার চেষ্টা করেও তাদের আর বিচারের আওতায় আনা যাচ্ছে না।”

এর আগে আরেকটি রিট মামলার রায়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ছিল, এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধি প্রণয়ণ না হওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান ও তদন্ত পর্যায়ে কারও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে হলে সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে অনুমতি নিতে হবে।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ১৬ মার্চ এমন রায় দিয়েছিল।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে দুদকের আবেদন শুনানির অপেক্ষায় আছে।

আগামী রোববার আবেদনটির শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসতে পারে বলে জানান দুদকের আইনজীবী।