ভূমিকম্প মোকাবেলায় বিদেশি সংস্থার সঙ্গে কাজ হচ্ছে: দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-06-16 20:56:47 BdST

bdnews24

দেশে বড় ধরনের ভূমিকম্প মোকাবেলায় বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পাশাপাশি বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবন নির্মাণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান।

বুধবার রাজধানীতে ‘ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও প্রস্তুতি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও দৈনিক কালের কণ্ঠ যৌথভাবে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশে বড় মাত্রার ভূমিকম্প মোকাবেলা ও প্রস্তুতিতে সরকার কাজ করছে। এ ব্যাপারে জাইকার সাথে শিগগিরই চুক্তি করতে যাচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবন নির্মাণসহ অন্যান্য ইস্যুতে কাজ করবে সরকার।”

তিনি বলেন, “সরকার ভূমিকম্প প্রস্তুতিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই খাতে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।”

কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে অন্যদের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দনি আহমেদ, ব্র্যাক হিউম্যানিট্যারিয়ান কর্মসূচির পরিচালক সাজেদুল হাসান বক্তব্য দেন।

সরকারের দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচির আওতায় যেসব স্বেচ্ছাসেবক কাজ করা হয়ে থাকে সেসব বিষয়ে উপযুক্ত ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন ব্র্যাক হিউম্যানিট্যারিয়ান কর্মসূচির পরিচালক সাজেদুল হাসান।

অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, দেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চল সবচেয়ে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছে।

আলোচনায় বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি সুপারিশ উঠে আসে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দ্রুত চিহ্নিত করা ও সেগুলো বিল্ডিং কোড মেনে মেরামতের ব্যবস্থা করা, ভূমিকম্প পরবর্তি উদ্ধার কাজ সহজ করতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মেনে চলা।

এছাড়া ভূমিকম্পের পরবর্তি উদ্ধার তৎপরতা দ্রুত করতে সরকারের দুর্যোগ কর্মসূচির আওতায় যেসব স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেন তাদের উপযুক্ত ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ভূমিকম্পের পর আহত মানুষকে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা, যারা বেঁচে থাকবে তাদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখার বিষয়ে সুপারিশ করেন বক্তারা।