২০৩০ সাল নাগাদ ভূমির অবক্ষয় শূন্যে নামানোর লক্ষ্য

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-06-17 18:17:31 BdST

bdnews24

২০৩০ সালের মধ্যে দূষণসহ প্রাকৃতিক এবং মানুষের সৃষ্ট বিভিন্ন কারণে দেশে ভূমির অবক্ষয় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চায় সরকার।

বৃহস্পতিবার ‘বিশ্ব মরুকরণ ও খরা দিবস ২০২১’ উপলক্ষে এক সেমিনারে সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

পরিবেশমন্ত্রী জানান, সরকার মরুকরণ ও খরা ঠেকাতে পানির অপ্রাপ্যতা, বন উজাড়, ভূমিক্ষয় এবং পরিবেশের ওপর মানুষের অপরিকল্পিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে নিরলসভাবে কাজ করছে।

গত বছর সাড়ে আট কোটি গাছ লাগানো হয়েছে এবং এ বছর আরও আট কোটি গাছ লাগানো হবে জানিয়ে বলেন, “যেকোনো প্রয়োজনে ১ টি গাছ কাটা হলে ৫ টি গাছ লাগানোর নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।”

এসব উদ্যোগে ভূমির ক্ষয়রোধ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “ভূমির অবক্ষয় রোধে ইট ভাটায় সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের পর সরকারি কাজে মাটির তৈরি ইট ব্যবহার করা যাবে না।”

সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন জানান, দেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১ শতাংশ হারে আবাদি জমি অকৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য চলে যাচ্ছে।

প্রাকৃতিক বিপযর্য় রোধে সম্মিলিত উদ্যেগ অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভূমিক্ষয়, লবনাক্ততা, মাটির অম্লতা বৃদ্ধি, মাটির পুষ্টি উপাদান হ্রাস, ভারি ধাতু দূষণ ইত্যাদি বাংলাদেশে ভূমির অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ।”

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান জানান, ভূমির অবক্ষয় রোধে ‘জাতীয় পরিকল্পনা’ হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও ঝুঁকি মোকাবেলায় জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রমসহ খরা ও ভূমিক্ষয় রোধে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সেমিনারে উপ-মন্ত্রী হাবিবুন নাহার,  সাবেক সচিব প্রফেসর ড. জহুরুল করিম, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হুমায়ুন কবির, পরিচালক ড. মু. সোহরাব আলি উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন  জালাল উদ্দিন মো. শোয়েব।

‘অবক্ষয়িত ভূমিকে স্বাস্থ্যকর ভূমিতে রূপান্তর’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর আয়োজিত ভার্চুয়াল সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থার বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।