পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

পরীক্ষা করান, টিকা নিন: প্রধানমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-07-27 21:42:12 BdST

কোভিড-১৯ টিকা কিংবা নমুনা পরীক্ষা নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিতে না পড়তে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, কারও মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলেই তিনি যেন নমুনা পরীক্ষা করিয়ে নেন। আর গ্রামেও টিকার ব্যবস্থা সরকার করছে, ফলে সবাই যেন টিকা নিয়ে নেন।

মঙ্গলবার আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে একথা বলেন তিনি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত ‍ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুতগতিতে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এদিনই সরকার ইউনিয়ন পর্যায়েও টিকাদানের সিদ্ধান্ত জানায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একেবারে গ্রাম পর্যায়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। সেখানে যে সবাইকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, তা না। আইডি কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) নিয়ে সরাসরি টিকা কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে পারবে।”

৭ অগাস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে কোভিড টিকাদান  

টিকা সংগ্রহ করতে সরকার তৎপর জানিয়ে তিনি বলেন, “ভ্যাকসিনের ব্যাপারে যেখানে যা পাওয়া যাচ্ছে, আমরা তা যোগাড় করছি। এর জন্য আলাদা টাকা রাখা আছে। আরও লাগলে আরও টাকা দেব।

“বাংলাদেশের ৮০ ভাগ মানুষ, যারা ভ্যাকসিন নিতে পরে ডব্লিউএইচও এর নির্দেশ মোতাবেক, সবাই যেন ভ্যাকসিন নিতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। প্রায় এক কোটি ৮৭ লাখের মতো ভ্যাকসিন কিন্তু আমরা দিয়ে দিয়েছি।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকা নিতে আসা মানুষের সারি। ফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকা নিতে আসা মানুষের সারি। ফাইল ছবি

টিকা নিয়ে ভীতি কাটলেও নমুনা পরীক্ষা করাতে অনেকেই চান না বলে খবর পাওয়ার কথা জানান শেখ হাসিনা।

“যেটা আমি গ্রাম থেকে খবর পাই। কেউ পরীক্ষা করতে চায় না। তাদের ধারণা, টেস্ট করলে করোনা আছে শুনলে সে অচ্ছুত হয়ে যাবে, তার সাথে মানুষ মিশবে না। এটা তো ঠিক না।”

বরং পরীক্ষা করিয়ে রোগ শনাক্ত হলে ওই ব্যক্তি যেমন চিকিৎসা করাতে পারবে, তেমনি তার কাছে থেকে অন্যের মধ্যে ছড়ানোও রোধ করা যাবে, বলেন তিনি।

টিকা নেওয়া ও নমুনা পরীক্ষা করাতে জনগনকে সচেতন করে তুলতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

“সাধারণ মানুষকে একটু সহযোগিতা করা, যেটা তোমরা আগেও করেছ। এটা করবে যাতে সবাই ভ্যাকসিনটা নিতে পারে। আমরা যদি ভ্যাকসিন দিয়ে দিতে পারি, তাহলে তো আর চিন্তা নেই। তখন (আক্রান্ত) হলেও সেটা বেশি ক্ষতি হচ্ছে না।”

করোনাভাইরাস মহামারীর শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের পাশে থাকায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদও জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, এই মহামারীকালে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাই সঙ্কটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে।

“আরও অনেক দল আছে বাংলাদেশে, দলের তো অভাব নেই। তারাও নাকি সাহায্য করে আমরা টেলিভিশনে মাঝেমধ্যে শুনি, কিন্তু দৃশ্যমান মানুষের পাশে দাঁড়ানো বা তাদের সহযোগিতা করা, সত্যিকারভাবে মানুষের জন্য কাজ করা, এটা কিন্তু আমাদের স্বেচ্ছাসেবক লীগ করে যাচ্ছে।”

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক বছর শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। ছবি: পিআইডি

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক বছর শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। ছবি: পিআইডি

জন্মদিনে জয়কে পাশে না পেয়ে আক্ষেপ

সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়কে তার জন্মদিনে পাশে না পেয়ে আক্ষেপ ঝরে মা শেখ হাসিনার কণ্ঠে।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের এই দিনে জয়ের জন্ম হয়। সে সময় আমরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি ছিলাম। আমাদের সে সময় বন্দি করে রাখা হয়েছিল ১৮ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে। আমাদের কোনো বিছানা-পত্র ছিল না। কোনো ফার্নিচারও ছিল না। স্যাঁতস্যাতে ফ্লোরে থাকতে হত।

“আর পাকিস্তানি আর্মি বাঙ্কার করে আছে, দিন-রাত সেখানে গুলি চালাচ্ছে। এর মধ্যেই আমাদের দিন কাটাতে হত। এর মধ্যেই আমাকে তারা হাসপাতালে যেতে অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু আমার মাকে যেতে দেয়নি। মা যখন যেতে চেয়েছিল, সোজা বলে দেয়- হাসপাতালে ডাক্তার আছে, নার্স আছে দেখবে। আপনি ডাক্তারও না নার্সও না আপনি গিয়ে কী করবেন।”

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামের সঙ্গে যে বাংলাদেশ জড়িয়ে আছে, তাও বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

তিনি বলেন, “২৩ মার্চ সাধারণত আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখেছি ওই দিন সমগ্র পাকিস্তানে জাতীয় পতাকা তোলা হত। কিন্তু ৭১ এর ২৩ মার্চ কোথাও পাকিস্তানের পতাকা কিন্তু তোলা হয়নি। ইয়াহিয়া খান তখন ঢাকায় ছিল, সে যেখানে ছিল সেখানে আর ক্যান্টনমেন্ট ছাড়া আর কোথাও পাকিস্তানি পতাকা তোলা হয়নি। সমগ্র বাংলাদেশে তখন বাংলাদেশের পতাকা।

“ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতেও সেই পতাকা তোলা হয়। বঙ্গবন্ধু যখন সেই পতাকা তুলে আসেন, আমি সব সময় আব্বার হাতের নখ নিজে কেটে দিতাম। আমি যখন নখটা কাটছি। আমাকে বললেন, তোর ছেলে হবে, স্বাধীন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করবে। তার নাম রাখবি জয়।”

শেখ হাসিনা বলেন, “একাত্তরে জয় যখন জন্মগ্রহণ করে, আমরা জয় নামটা আব্বার দেওয়া, তাই জয় রেখেছিলাম। আর যেহতু বন্দিখানার মধ্যে আমাদের জন্য তো আনন্দের কিছু ছিল না। আমার মা বললেন, জয় আসার পরে আমরা অন্তত একটা কাজ পেলাম, আমরা যেন একটু সজীব হলাম। এই সজীব নামটা কিন্তু আমার মায়ের দেওয়া।”

আজ সেই জয়ের জন্মদিন: শেখ হাসিনা  

শিশু জয়কে নিয়ে হাসপাতালে থাকার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “পাকিস্তানি বাহিনী যারা আমাদের বন্দি করে রেখেছিল, আমি যখন হাসপাতালে আমার দরজার সামনে তারা পাহারা দিত। তবে আমাদের যারা মুক্তিযোদ্ধা ছিল, আমি হাসপাতালে শুনে তারা কিন্তু দেখা করতে আসত। কিন্তু পাহারা থাকায় তারা আসতে পারত না।

“যেদিন জয় হয়েছে, তার পরের দিনের ঘটনা। কবি সুফিয়া কামাল এসেছেন আমাকে দেখতে, সাথে সিকান্দার আবু জাফরের স্ত্রী। ওনারা যেভাবে হোক, এক ফাঁকে আমার কেবিনে ঢুকে পড়েন। সাথে সাথে পাকিস্তানি সেনা সদস্য এসে দরজা খুলে তাদের সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে এবং বের করে দেয়। সেটা দেখে আমার খুব মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।

“আমি ওকে ধমক দিই। আমি বললাম যে তুমি আমার রুমে ঢুকলা কেন? তুমি নক না করে কার পারমিশন নিয়ে ঢুকলা? আমি তাকে ধমক দিয়েছিলাম, তুমি যদি ফের আস, মুক্তিযোদ্ধা ডেকে তোমার লাশ ফেলে রাখব। ও সত্যিই ভয় পেল। এরপর থেকে আর আমার রুমের সামনে দাঁড়াত না।”

হাসপাতাল থেকে বন্দিখানায় ফিরেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরূপ আচরণের মুখোমুখি হতে হয় শেখ হাসিনাকে।

তিনি বলেন, “বন্দিখানায় আবার যখন ফিরে আসি। সেদিন এক কর্নেল আসল। আমি জয়কে কোলে নিয়ে দাঁড়ানো ছিলাম জানালার কাছে। সে আমাকে জিজ্ঞেস করছে- ‘তোমার ছেলে হয়েছে নাম কী?’ আমি বললাম জয়। আমাকে বলে- ‘ইসকা মতলব কেয়া হ্যায়’। আমি বললাম, জয় মনে জয়, জয় মানে ভিক্টরি। যখন বলেছি জয় মানে ভিক্টরি তখন তার খুব মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। ঘুরে চলে যাওয়ার সময় বলছে- ‘অউর এক নামরুদ পয়দা হুয়া’। মানে কত জঘন্য! মাত্র সাত দিনের একটা বাচ্চা, তাকে সে গালি দিতে দিতে যাচ্ছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা খুব সক্রিয় ছিল। যে মুহুর্তে জয় জন্ম নেয়, তখনই তারা কতগুলো বোমা ফাটায়। তাতে আবার পাওয়ার স্টেশন উড়ে যায়। হাসপাতালও অন্ধকার হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের আশে পাশে আছে। ওটাই আমাদের প্রাণশক্তি ছিল।”

মা শেখ হাসিনার সান্নিধ্যে সজীব ওয়াজেদ জয়। ফাইল ছবি

মা শেখ হাসিনার সান্নিধ্যে সজীব ওয়াজেদ জয়। ফাইল ছবি

জয়ের পড়াশোনা নিয়ে বলতে গিয়ে অর্থের অভাবে তার ভুগতে হওয়ার কথাও বলেন মা শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “১৫ অগাস্টের সময় আমরা বিদেশে ছিলাম। চার বছরের জয়, কাজেই ওর পড়াশোনা শুরু হয় দিল্লিতে এয়ারফোর্স স্কুলে। আমি আবার যখন লন্ডনে গেলাম ওদেরকে লন্ডনে নিয়ে গেলাম ৮০ সালে। সেখানে একটি স্কুলে সে পড়াশোনা করেছে।

“পরবর্তীতে আমি যখন ঢাকায় চলে আসলাম, এখানে কিছুদিন স্কুলে পড়ার পর যেহেতু বারবার গ্রেপ্তার হতাম, ওই অবস্থায় আব্বার বন্ধু আজিজ সাত্তার সাহেব, উনি জয়-পুতুলকে নৈনিতাল ভর্তি করে দেয়। সেখানে স্কুল পাস করে। ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালোরেট পাশ করে কোডি থেকে। সেখান থেকে সে ব্যাঙ্গালোর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সেখান থেকে প্রথম কম্পিউটার সায়েন্সে বিএসসি পাস করে।”

তিনি বলেন, “সেখান থেকে ঢাকায় এক বছরের মতো চাকরি করে। এরপরে আমাকে একদিন বলছে, আমি কম্পিউটার সায়েন্স পড়েছি, আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চাই। তখন তাকে আমি নিয়ে যাই আমেরিকায়, ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে ভর্তি করাই। সেখানে পার্ট টাইম চাকরিও করত, পড়াশোনা করে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে। তার কিন্তু দুটা বিএসসি ডিগ্রি।

“এরপর সে চান্স পায় এমআইটিতে। এমআইটিতে যখন ভর্তি হয়েছিল, তখন আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েছি। তাকে যে সহযোগিতা করব, আমি সেটা করতে পারিনি। এত ব্যস্ত ছিলাম যে যার জন্য একটা সেমিস্টারের টাকা দিতে পারিনি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও আমার ছেলে তার সেমিস্টারের টাকা দিতে পারে নি বলে এমআইটি থেকে তার নাম কাটা যায়। সে চলে আসে ঢাকায়।

“পরে তাকে আবার পাঠাই। আমেরিকায় সে চাকরি নেয়। ২০০৭ সালে আমি যখন আমেরিকায় যাই তখন আমার অনুরোধে, কারণ আমার মনে একটা দুঃখ ছিল যে আমার ছেলেটা এমআইটিতে পড়তে চেয়ে পড়তে পারল না। কাজেই তাকে অনুরোধ করি যে তুমি হার্ভার্ডে একটা দরখাস্ত কর, যাতে তুমি ভর্তি হতে পারো। পরে পারমিশন যখন পায় আমি তখন কারাগারে বন্দি। আমি শুধু খবর দিয়েছিলাম, তুমি বন্ধ কর না, যেমন করে পার পড়। পরে সে সেখানে যায় পড়াশোনা করে মাস্টার্স করে পাবলিক সার্ভিসের উপর। এভাবে নিজের চেষ্টাতেই করেছে।”

সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার গণভবনে ‘সজীব ওয়াজেদ জয়, তারুণ্যদীপ্ত গর্বিত পথচলা’ এবং Sajeeb Wajed Joy: A Spirited Graceful Journey’ শিরোনামে দুটি মইয়ের মোড়কও উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।  ছবি: পিআইডি

সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার গণভবনে ‘সজীব ওয়াজেদ জয়, তারুণ্যদীপ্ত গর্বিত পথচলা’ এবং Sajeeb Wajed Joy: A Spirited Graceful Journey’ শিরোনামে দুটি মইয়ের মোড়কও উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।  ছবি: পিআইডি

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় জয়ের অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ, এটা তারই অবদান। তারই চিন্তা-ভাবনা। তারই বক্তব্য। আজকে যেত আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ পেয়েছি এবং কোথায় কোনটা করতে হবে.. এই স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ আমরা পাঠিয়েছি, সবই কিন্তু তার বুদ্ধিতে।

“আজকে এই দেশটাকে যদি ডিজিটাইজড না করা হত, এই করোনা মোকাবেলা আমাদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে যেত। মানুষের জীবন জীবিকা চালানো, মানুষের হাতে সাহায্য পৌঁছে দেওয়া, মানুষের কাছে আমরা যে নগদ টাকা পৌঁছেছি, সবই কিন্তু এই ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে করে যাচ্ছি।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা এমন একটি সময়ে এখানে সমবেত হয়েছি, যখন করোনার কারণে আমাদের যাতায়াতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আর ঠিক এই মুহুর্তে করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে আমাদের দেশে দেখা গেছে, আর এটা গ্রাম পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে।

“দুঃখজনক যে আজ দুই বছরের কাছাকাছি করোনার কারণে জয়ের সাথে দেখা হয়নি। দেখা হচ্ছে না, এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক।”