পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

চন্দ্রিমায় জিয়ার লাশ নেই, জেনেও কেন নাটক: প্রধানমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-08-26 16:51:44 BdST

চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ যে নেই, তা খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতারাও ভালো করে জানেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপিকর্মীদের সংঘর্ষে জড়ানোর প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার কবরে গিয়েও ওই যে মারামারি করল বিএনপি…বিএনপি জানে না যে সেখানে জিয়ার কবর নাই? জিয়া নাই ওখানে? জিয়ার লাশ নাই? তারা তো ভালোই জানে। তাহলে এত নাটক করে কেন?”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়াও ভালোভাবে জানে। খালেদা জিয়া বা তারেক জিয়া কি বলতে পারবে যে তারা তার বাবার লাশ দেখেছে? গুলি খাওয়া লাশ তো দেখাই যায়। তারা কি দেখেছে কখনও? বা কোনো একটা ছবি দেখেছে কেউ? দেখেনি। কারণ ওখানে কোনো লাশ ছিল না।

“ওখানে একটা বাক্স আনা হয়েছিল। আর সেখানে ওই বাক্সের ফাঁক থেকে যারা দেখেছে একটু…সেই এরশাদের মুখ থেকেই শোনা, কমব্যাট ড্রেস পড়া ছিল। কারণ জিয়াউর রহমান তো তখন প্রেসিডেন্ট। তখন তো সে কমব্যাট ড্রেস পড়ে না। এটা কি বিএনপির লোকেরা জানে না? তাদের সেখানে গিয়ে মারামারি, ধস্তাধস্তি করার চরিত্র তো এখনও যায়নি।”

গত ১৭ অগাস্ট চন্দ্রিমা উদ্যানে ওই সংঘর্ষে আহত হন অর্ধশতাধিক। সে সময় পরিকল্পনা কমিশনের সচিবের গাড়িও ভাঙচুরের শকার হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় পরে তিনটি মামলা হয়েছে।

জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর দেশের কোনো উন্নয়ন হয়নি বরং দেশ পিছিয়ে যায় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “জাতির পিতাকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান, হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ, খালেদা জিয়া যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা দেশের কোনো উন্নতি করেনি। তাদের শাসনামলে, বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দেশে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া এবং দেশটাকে একেবাবে শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত হয়েছিল।”

ওই সময় আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার, অত্যাচার, নির্যাতন হয়েছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আর কিছু প্রচার করেছে সে (জিয়াউর রহমান)। জিয়া নাকি গণতন্ত্র দিয়েছে। যে দেশে প্রতিরাতে কার্ফু থাকে সেটা আবার গণতন্ত্র হয় কিভাবে? ভোট চুরি থেকে শুরু করে সবকিছুই কিন্তু এই জিয়াউর রহমান শুরু করেছে এবং সংবিধান লঙ্ঘন করা সেটাও জিয়াউর রহমান করেছে। আমাদের সৌভাগ্য যে হাই কোর্টের একটা রায়ে জিয়ার ক্ষমতা দখল, এরশাদের ক্ষমতা দখল, মার্শাল ল দিয়ে যে ক্ষমতা দখল, সেগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।”

বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সদস্য খন্দকার মোশতাক জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার চক্রান্ত করেছিল বলেও জানান শেখ হাসিনা।

“সেই (জিয়া) ছিল তার (খন্দকার মোশতাক) শক্তি, মূল শক্তির উৎস। কারণ ক্ষমতা যদি এভাবে দখল করতে হয়, হত্যাকাণ্ড যদি চালাতে হয় তাহলে সামরিক বাহিনীর নিশ্চয়ই কিছু সহযেগিতা তার দরকার ছিল এবং সেই মোশতাক-জিয়া মিলেই কিন্তু এই চক্রান্তটা করেছিল।”

সরকার প্রধান বলেন, “মোশতাক জিয়ার উপর নির্ভর করে যে রাষ্ট্রপতি হয়েছিল আপনারা যদি একটু লক্ষ্য করেন, সে কতদিন থাকতে পেরেছিল? থাকতে কিন্তু পারে নাই। মীরজাফরও পারে নাই। মীরজাফর সিরাজউদদৌলার সাথে বেইমানি করে নবাব হয়েছিল কিন্তু তিন মাসও পূর্ণ করতে পারে নাই। কারণ বেঈমানদের ব্যবহার করে সবাই। কিন্তু তাদেরকে বিশ্বাস করে না, রাখে না। ঠিক জিয়াউর রহমান সেই কাজ করেছিল। মোশতাকও কিন্তু তিন মাস পূর্ণ করতে পারে নাই। তাকে বিদায় নিতে হয়েছে।”

জেলখানায় যে হত্যাকাণ্ড হয় সেটাও জিয়াউর রহমানের নির্দেশে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “সে-ই করেছে। কারণ সে তখন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং সে এতই মোশতাকের আস্থাভাজন ছিল যে মোশতাক নিজেকে অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেওয়ার সাথে সাথে কিন্তু জিয়াউর রহমানকেই সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়।”

জাতির পিতাকে হত্যার আগে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত হচ্ছে এটা শোনা গেলেও বঙ্গবন্ধু কখনই তা বিশ্বাস করতেন না জানিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, “তিনি তো বাংলাদেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। তাকে অনেক রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান এমনকি ইন্দিরা গান্ধী নিজেও বলেছেন। উনি বলেছেন- ওরা আমার ছেলে, আমার সন্তানের মতো। ওরা আমাকে কেন মারবে? উনার একটা অন্ধ বিশ্বাস এদেশের মানুষের উপর ছিল যে উনার গায়ে কেউ হাত দেবে না, কেউ মারবে না। কিন্তু যারা ঘরের, সেখান থেকেই ষড়যন্ত্র।”

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তে এই সময় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবিরসহ মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:

চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় তিন মামলা  

ভাঙচুরের শিকার পরিকল্পনা কমিশনের সচিবের গাড়ি  

চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক