পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

পাপুলকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা: এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ ৪ পরিচালককে দুদকে তলব

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-09-06 23:37:20 BdST

কুয়েতে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের অনিয়ম-দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এনআরবি কমার্শিয়াল- এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ চার পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুদক।

এ সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও কমিশনের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাদেরকে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা প্রয়োজন, কমিশনে এসে বক্তব্য দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।”

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান পরভেজ তমাল ও ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মিয়া আরজুকে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর তলব করা হয়েছে।

ব্যাংকটির দুই পরিচালক মোহাম্মদ আদনান ইমাম ও একেএম মোস্তাফিজুর রহমানকে পরদিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে সংস্থাটি।

দুদক থেকে চিঠি পেয়েছেন জানিয়ে পারভেজ তমাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা দুদককে সব সময় সহযোগিতা করতে চাই। যে অভিযোগ নিয়ে আমাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে সেই বিষয়ে নির্ধারিত সময়ে কমিশনে যাব, বক্তব্য দেব।”

প্রবাসী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন পাপুল, যেখানে তার বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে।

ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল বলেন, “পাপুল সাহেবকে আমি আগে চিনতাম না। তার সাথে আমার যোগাযোগও ছিল না। আমি রাশিয়া থেকেছি, সেখান থেকে এসে এই ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছি।

তমাল এস এম পারভেজ (ফেইসবুকে পাওয়া ছবি)

তমাল এস এম পারভেজ (ফেইসবুকে পাওয়া ছবি)

“তার কোনো বিষয়ে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি একজন শেয়ারহোল্ডার। ব্যাংকে দেড় লাখ শেয়ারহোল্ডার আছেন।”

অর্থ ও মানবপাচার এবং ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে গত বছর জুনে কুয়েতে গ্রেপ্তার হন পাপুল। ব্যবসার সূত্রে সেখানে তার বসবাসের অনুমতি ছিল।

ওই মামলার বিচার শেষে গত ২৮ জানুয়ারি তাকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় কুয়েতের একটি আদালত।

এরপর রায় ঘোষণার দিন থেকে তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গত ২২ ফেব্রুয়ারি গেজেট জারি করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও পাচারের অভিযোগে গত বছর পাপুলের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করেছে দুদক। এক মামলায় পাপুলের সঙ্গে তার স্ত্রী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, তার শ্যালিকা জেসমিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামকেও আসামি করা হয়।

কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল, ফাইল ছবি

কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল, ফাইল ছবি

সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

ওই নির্বাচনে ওই আসনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেষ মুহূর্তে ভোট থেকে সরে দাঁড়ালে ‘বিএনপি ঠেকানোর’ কথা বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ পাপুলের পক্ষে কাজ করে বলে দলটির নেতাদের ভাষ্য।

পাপুল নিজে এমপি হওয়ার পর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কোটায় পাওয়া সংরক্ষিত একটি আসনে তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামকে এমপি করে আনেন।

কুয়েতে দণ্ডিত পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল  

অর্থপাচার: পাপুল-সেলিনা দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা  

পাপুলের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করবে দুদক