পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

সঙ্কট উত্তরণে জাতিসংঘে ‘অর্থবহ’ সহযোগিতার ডাক প্রধানমন্ত্রীর

  • গোলাম মুজতবা ধ্রুব, নিউ ইয়র্ক থেকে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-09-25 00:01:19 BdST

করোনাভাইরাসের মহামারী জরুরি সঙ্কট সামাল দিতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের ঘাটতিগুলোও যে দেখিয়ে দিয়েছে, সে কথা বিশ্ব নেতাদের মনে করিয়ে দিয়ে সব সঙ্কীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ উত্তরণের লক্ষ্যে ‘অর্থবহ’ সহযোগিতার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের নেতা হিসেবে শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, “দুঃখজনক হলেও এই মহামারী আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এ অভিন্ন শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।”

২০১৯ সালের শেষে চীন থেকে ছড়াতে শুরু করে পুরো বিশ্ব দখল করে নেওয়া করোনাভাইরাস ইতোমধ্যে ২৩ কোটির বেশি মানুষকে আক্রান্ত করেছে, মৃত্যু ঘটিয়েছে সোয়া ৪৭ লাখ মানুষের।

এ বছর নতুন আশা হয়ে এসেছে টিকা, কিন্তু অন্য সব বিষয়ের মত করোনাভাইরাসের টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ধনী আর গরিব দেশের মধ্যে বৈষম্য প্রকট।

এই বৈষম্য ঘুচিয়ে সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার দাবি আবারও জাতিসংঘে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

ভাষণের শুরুতেই তিনি বলেন, “সাধারণ পরিষদের এই ৭৬তম অধিবেশনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন কোভিড-১৯ বিশ্বজুড়ে অব্যাহতভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। করোনার নতুন ধরনের মাধ্যমে অনেক দেশ বার বার সংক্রমিত হচ্ছে। এ মহামারীতে গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।”

আর এই বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে, বিশ্বকে আবারও শান্তি, সমৃদ্ধি আর অগ্রগতির পথে নিয়ে যেতে শেখ হাসিনা টেকসই পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিয়েছেন বার বার, যে বৈশ্বিক পরিকল্পনা হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, যেখানে কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না। 

সেজন্য বিশ্বকে উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি এবারের ভাষণে ছয় দফা প্রস্তাব তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেছেন।

সেখানে টিকার প্রসঙ্গ যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর কথা, কোভিড মহামারী যাদের আরও বেশি ক্ষতির মুখে ফেলে দিয়েছে।

মহামারীর প্রকোপে বিপর্যস্ত শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সঙ্কটে পড়া অভিবাসীদের কর্মসংস্থান ও কল্যাণ নিশ্চিত করার দাবিও প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সামনে এনেছেন।

সেই সঙ্গে পাঁচ বছর ধরে ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ‘জোরালো ভূমিকা’ চেয়েছেন তিনি।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গতবছর জাতিসংঘের ইতিহাসে প্রথমবারের মত সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বসে ভার্চুয়ালি। এ বছর সশরীরে সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে মিলিত হয়েছেন বিশ্ব নেতারা।

এই সঙ্কটকালে নিবেদিত সেবা ও আত্মত্যাগের জন্য সম্মুখসারির সকল যোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “বহুপাক্ষিকতাবাদ ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার দৃঢ় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ এই সঙ্কটকালে জাতিসংঘকে আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখে। সব ধরনের মতভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের অবশ্যই ‘অভিন্ন মানবজাতি’ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে; সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য আবারও এক সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি বলেন, অনাদিকাল হতে মানবজাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী এবং মানবসৃষ্ট নানা সংঘাত ও দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে। এরপরও বুকে আশা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মানবজাতি এসব ‘পাহাড়সম সমস্যা’ অতিক্রম করে টিকে রয়েছে।

শেখ হাসিনার ভাষায়, এবারের মহামারী তেমনই একটি সঙ্কট যেখানে বহু মানুষের টিকে থাকার অনুপ্রেরণামূলক এবং উদারতার উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু আবার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগের ঘাটতির বিষয়টিও এ মহামারী সামনে নিয়ে এসেছে, যা বৈশ্বিক সংহতি ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছে।

“সর্বজনীন বিষয়গুলোতে আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নতুন নতুন অংশীদারিত্ব ও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন অঞ্চলের সদস্য দেশগুলো এই জাতিসংঘের মঞ্চ থেকেই তা শুরু করতে পারে। তবেই আমরা সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উত্তরণের লক্ষ্যে একটি অর্থবহ সহযোগিতা অর্জন করতে পারব।”

টিকা হোক সবার

‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ উত্তরণের লক্ষ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির যে ছয় প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে তুলে ধরেছেন, তার শুরুতেই রয়েছে করোনাভাইরাসের টিকার প্রসঙ্গ।

তিনি বলেন,  “গত বছর এ মহতী অধিবেশনে আমি কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বিশ্বনেতাদের অনেকে তখন এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছিলেন।

“সে আবেদনে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং আমরা ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে টিকা বৈষম্য বাড়তে দেখেছি।”

বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য থেকে উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, এ পর্যন্ত উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলো ১ শতাশেরও কম টিকা পেয়েছে।

“জরুরি ভিত্তিতে এ টিকা বৈষম্য দূর করতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে টিকা থেকে দূরে রেখে কখনোই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা পুরোপুরি নিরাপদও থাকতে পারব না।  

“তাই আমি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে টিকা প্রযুক্তি হস্তান্তর টিকার সমতা নিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে।”

প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্ত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও যে বিপুল পরিমাণে টিকা তৈরি করতে ‘সক্ষম’, সে বিষয়টি এ বিশ্বসভায় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সংহতি আসুক জলবায়ু প্রশ্নেও

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  এ মহামারী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে পৃথিবীর পরিস্থিতির আরও ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।

“ধনী অথবা দরিদ্র - কোনো দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়। তাই আমি ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি।”  

শেখ হাসিনা বলেন, গ্লাসগোতে অনুষ্ঠেয় ২৬তম জলবায়ু সম্মেলন নতুন নতুন অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায়ের সুযোগ করে দিতে পারে। আর দেশগুলোর উচিত সে সুযোগ কাজে লাগানো।

শিক্ষার ক্ষতি পূরণ

জাতিসংঘ শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, মহামারীর মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে শিক্ষা খাতে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর যে অর্জন, তা হুমকির মুখে পড়েছে।

এই বাস্তবতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল সরঞ্জাম ও সেবা, ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আরও বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। আর সেজন্য জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

এলডিসি থেকে উত্তরণ

মহামারীর নজিরবিহীন প্রতিকূলতার মধ্যেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের সুখবর পেলেও এ মহামারী অনেক দেশের উত্তরণের আকাঙ্ক্ষাকে যে বিপন্ন করেছে, সে কথা জাতিসংঘে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা প্রণোদনাভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা আশা করি।”

অভিবাসীদের কল্যাণ

শেখ হাসিনা বলেন, এই মহামারীর মধ্যেও প্রবাসীরা অপরিহার্য কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, তারাও সম্মুখসারির যোদ্ধা।

“তবুও তাদের অনেকে চাকুরিচ্যুতি, বেতন কর্তন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

“এই সঙ্কটকালে অভিবাসীগ্রহণকারী দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করার এবং তাদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণকে নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।”

রোহিঙ্গা সঙ্কট

রোহিঙ্গা সঙ্কট এবার পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে, কিন্তু নিপীড়িত এই জনগোষ্ঠীর একজনকেও এখন পর্যন্ত মিয়ানমারে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।”

রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যোগ এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে তাদেরও টিকার আওতায় আনার কথা প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সামনে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “আগেও বলেছি, আবারও বলছি- রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।”

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ আসিয়ানের নেতৃবৃন্দকে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান বাংলদেশের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাদদিহি নিশ্চিতকরণে গৃহীত সকল কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতে হবে।”

মহামারীতে বাংলাদেশ

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপ ‘আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম’ হয়েছে।

“তৃণমূল পর্যায় থেকে আমাদের শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া এ মহামারী মোকাবিলায় আমাদের সময়োচিত, সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।”

তিনি জানান, অর্থনীতিকে সচল রাখতে সকার বিভিন্ন সময়ে ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজে মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৪৬০ কোটি ডলার বরাদ্দ দিয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহের জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেটে ১৬১ কোটি ডলারের সংস্থান রাখা হয়েছে।

“গত বছর মহামারীর প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে আমরা প্রায় ৪ কোটি মানুষকে নগদ অর্থসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়েছি। সময়োচিত পদক্ষেপ ও আমাদের জনগণের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার কারণে ২০২০ সালেও আমরা ৫ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি।”

শেখ হাসিনা বলেন, “এ বছরটি আমাদের জন্য একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। একইসঙ্গে আমরা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন করছি।”

জাতির পিতা এবং একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ছিলেন বহুপাক্ষিকতাবাদের একজন দৃঢ় সমর্থক। তিনি জাতিসংঘকে জনগণের ‘আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র’ মনে করতেন।

“আমাদের জাতিসংঘ অভিযাত্রার প্রথম দিনে ১৯৭৪ সালের ২৫ এ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রদত্ত তার ঐতিহাসিক একমাত্র ভাষণে তিনি বলেছিলেন: ‘আত্মনির্ভরশীলতাই আমাদের লক্ষ্য। জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও যৌথ উদ্যোগই আমাদের নির্ধারিত কর্মধারা। এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্পদ ও প্রযুক্তিবিদ্যায় অংশীদারিত্ব আমাদের কাজকে সহজতর করতে পারে, জনগণের দুঃখকষ্ট লাঘব করতে পারে’।”

বঙ্গবন্ধু বৈষম্য, অবিচার, আগ্রাসন ও পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকিমুক্ত যে বিশ্বের স্বপ্ন দেখতেন, সে কথা তুলে ধরে তার মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “সাতচল্লিশ বছর আগের তার সে আহ্বান আজও সমভাবে প্রযোজ্য। এ জন্য আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের যে কোনো উদ্যোগে সমর্থন ও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছি।”

বঙ্গবন্ধুর অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের তথ্যগুলো ভাষণে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই ক্রান্তিলগ্নে জাতিসংঘই হোক আমাদের ভরসার সর্বোত্তম কেন্দ্রস্থল। আসুন, সেই ভরসাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয়ে আমরা সবাই হাতে হাত মিলিয়ে একযোগে কাজ করি।”